সিনর রজাস?
বলছি।
মোরোনো।
ঈশ্বর, অবশেষে ফোন করলেন আপনি।
দুঃখিত, তবে এ ব্যবসায়ে তাড়াহুড়ো করে কিছু করতে নেই।
জানি আমি। আপনি রেডি তো? কোথায়…?
গুয়াডেলুপ গ্রামে। আমার লোক আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।
গুয়াডেলুপ কোথায়?
১১৮
আপনার হোটেল থেকে গাড়িতে আধঘণ্টার রাস্তা। যে কোনও গাইড আপনাকে পথ চিনিয়ে নিয়ে আসতে পারবে।
ওখানে পৌঁছাবার পরে কী করব?
চার্চ থেকে সোজা প্লাজা অভিমুখে একটা রাস্তা দেখতে পাবেন। ওই রাস্তার শেষ মাথার বাড়িটা। ওখানে কেউ থাকে না। বলে লাইন কেটে দিল মোরেননা।
রিসিভার নামিয়ে রাখল রজার্স। ঘুম মদ্যপানের ঝিমানি কাটিয়ে দিয়েছে। পরিষ্কার হয়ে গেছে মাথা, সবকিছু ঠিকঠাক চিন্তা করতে পারছে ও। জানে কী করতে হবে। অবশ্য জুয়ার আস্তানায় টাকা খোয়ানোর পরেই সে তার পরবর্তী করণীয় সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল।
আগ্নেয়াস্ত্রটি একবার পরীক্ষা করে দেখল রজার্স, তারপর ওটা সরিয়ে রেখে দরজা অভিমুখে হাঁটা দিল। একটা অস্বস্তিবোধ ওকে থামিয়ে দিল মাঝপথে।
আবার ও রওনা হলো দরজায়, তারপর ফিরে এল, ফোন তুলে কথা বলল বাটলারের সঙ্গে।
সব ঠিক হয়ে গেছে, জানাল সে বাটলারকে। যোগাযোগ হয়েছে।
গুড। আমি তোমার তরফ থেকে খবর শোনার অপেক্ষায় থাকব। টেক ইট ইজি।
আচ্ছা, গুয়াডেলুপ সম্পর্কে কী জানো?
ওটা কুড়ি মাইল দূরে মরুভূমির মধ্যে একটি গ্রাম। ওখানে যেতে বলেছে?
হ্যাঁ।
তো?
জায়গাটা নিরাপদ তো?
নিশ্চয়। কেন, কী হয়েছে?
কিছু না। ডেলিভারিটা তো এখানেও হতে পারত। হচ্ছে না বলে একটু অদ্ভুত লাগছে।
শহরের পরিবেশ গরম তোমাকে তো বলেইছি। মোরেনো খুব সতর্ক মানুষ। সে কোনও ঝুঁকি নেয় না। তোমার প্রশ্নের জবাব পেলে?
হুঁ।
গুড। তোমার খবরের অপেক্ষায় রইলাম। কথা শেষ করল বাটলার। হোটেলের সামনের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে আছে গাইড। রজার্স তাকে দেখে হাত নাড়ল।
শুভ সন্ধ্যা, সিনর। কোথাও যাবেন?
হ্যাঁ। গুয়াডেলুপ নামের কোনও জায়গা চেন?
অবশ্যই চিনি।
আমাকে ওখানে নিয়ে চলো।
নিশ্চয়। হেসে গাড়ির দিতে ইঙ্গিত করল গাইড। ওটা আপনার সেবায় নিয়োজিত।
মিনিট পনেরো বাদে ওরা শহরতলী ছেড়ে অন্ধকার গ্রামাঞ্চলে প্রবেশ করল। দুজনেই নিশ্চুপ। শেষে নীরবতা ভঙ্গ করল রজার্স।
আমার কাছে তোমার পাওনা একশো পেসো, না?
জি, সিনর।
আর মদের দাম দিয়েছ কত?
বারো পেসো।
খুবই কম।
আমার জন্য এ টাকাটাই বিরাট কিছু।
কত বিরাট?
অনেক। এ ব্যবসায় হপ্তায় প্রতিদিন কেউ ট্যুরিস্ট ধরতে পারে না। বিশ্বাস করুন, এখানে জীবন ধারণ খুব কঠিন।
কেশে গলা পরিষ্কার করে নিল রজার্স। আরও এক হাজার পেসো আয়ের সুযোগ পেলে কেমন হয়?
গাড়ির গতি মন্থর হয়ে এল, ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল গাইড। হাসল। সে অনেক টাকা, সিনর। কিন্তু আমাকে কী করতে হবে?
আমাকে গুয়াডেলুপে নিয়ে যাবে এবং মুখখানা বন্ধ রাখবে।
আরও কমে এল গাড়ির গতি। এখন আর হাসছে না গাইড। শুধু এ জন্য হাজার পেসো?
রজার্স জানে এসে গেছে মাহেন্দ্রক্ষণ। সে আগ্নেয়াস্ত্রটি বের করে বলল, সম্ভবত এটা ব্যবহার করতে হবে আমাকে। তবে প্রশ্ন কোরো না কেন। কী, কাজটা করবে?
পিস্তলের দিকে আড়চোখে তাকাল গাইড তারপর সায় দেয়ার ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকাল। এক হাজার পেসো পেলে আমি ভুলে যাব যে আমার জিভ, কান এবং চোখ বলে কোনও অঙ্গ আছে।
গুড, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পিস্তলটি পকেটে পুরল রজার্স। গাড়িটি অন্ধকারে ঢাকা, এবড়োখেবড়ো একটি রাস্তায় মোড় নিল। গুয়াডেলুপের প্রাজায় না পৌঁছা পর্যন্ত আরোহীদের দুজনের কেউই কোনও কথা বলল না। একটি বেঞ্চিতে বসে আছে এক বুড়ো। আর কাউকে চোখে পড়ল না।
মরা গ্রাম, মন্তব্য করল রজার্স।
হ্যাঁ। এখানকার বাসিন্দারা একটু তাড়াতাড়িই ঘুমাতে যায়। বলল গাইড। প্লাজার বিপরীত দিকের রাস্তায় হাত তুলে দেখাল রজার্স।
ওদিকে চলল। রাস্তার মাথার শেষ বাড়িটিতে যাব। তুমি গাড়িতে বসে থাকবে।
জি, সিনর।
প্লাজা ঘুরে রজার্সের নির্দেশিত রাস্তায় ঢুকল গাড়ি। এ রাস্তাটিও বড্ড অমসৃণ এবং কাঁচা। বাড়িগুলো অন্ধকার এবং নীরব। গাইড ধীরস্থিরভাবে গাড়ি চালিয়ে রাস্তার মাথার শেষ বাড়িটির সামনে চলে এল।
এখানে? সন্দেহের স্বরে প্রশ্ন করল গাইড। তার অবশ্য কারণ ছিল। কারণ বাড়িটি ভাঙাচোরা, বিধ্বস্ত দেয়াল, ছাদ অদৃশ্য, দরজারও বালাই নেই। বাড়িটির দিকে চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে রইল রজার্স। ওখানে ঢুকতে ইচ্ছা করছে না মোটেই কিন্তু উপায়ও তো নেই। সে পকেট থেকে বের করল পিস্তল। গাড়ি থেকে নামল। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। কান পেতে কিছু শোনার চেষ্টা করছে।
নির্জন রাত তবে পরিত্যক্ত বাড়িটি বড় বেশি নীরব লাগছে। গা কেমন ছমছম করে উঠল রজার্সের। সামনে কদম বাড়াল সে।
দোরগোড়ায় পৌঁছে দাঁড়িয়ে পড়ল রজার্স। মুখ হাঁ করে শ্বাস টানল। তারপর গৃহ প্রবেশ করল।
যেমনটা আশংকা করেছিল অতটা অন্ধকার নয় ঘর। আকাশ থেকে ভেসে আসা আলোয় দেখা গেল এটি প্রকান্ড একটি কক্ষ। খালি। ঘরের পেছনদিকে আরেকটি কপাট বিহীন দরজা।
ওদিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল রজার্স। অপেক্ষা করছে। অকস্মাৎ শিরশির করে উঠল শরীর। ভাবছিল ও এখানে এসে কোনও ভুল করে ফেলল কিনা। মনে হচ্ছে মোরেনোর সঙ্গে বহুদিন আগে সে ফোনে কথা বলেছে। তাদের কথোপকথন এখন একটা স্বপ্নের মতই ঠেকছে। সবকিছু কেমন অবাস্তব লাগছে।
