না। তবে আপনাকে খুব অস্থির ও চিন্তিত লাগছে।
মন্তব্যটা ধাই করে আঘাত করল রজার্সকে তবু চেষ্টাকৃত হাসি ফোঁটাল মুখে।
পৃথিবীর কোনও কিছু নিয়েই আমার দুশ্চিন্তা নেই। চলো, গলা ভেজাই। আমার গলা শুকিয়ে মরুভূমি।
আপনি যা বলেন।
গাইডের গলার স্বরে কোনও উত্তাপ নেই। তার আচরণ হঠাৎই কেমন অস্বস্তিকর ঠেকল রজার্সের কাছে। তবে সে জানে আসলে টাকা খোয়ানোর শোকটাই তাকে বিব্রত করছে।
গাইড দরজা খুলে দেয়ার আগেই নিজে দরজা খুলে গাড়ি থেকে নেমে পড়ল রজার্স। নিজেই কাজটা করতে পেরেছে বলে খুশি লাগল। একটু হাসার ইচ্ছে জাগলেও হাসল না।
হোটেলের কাঁচের দরজা খুলে গেল। ঢোলা ইউনিফর্ম পরা ধূসর চুলো এক লোক গোমড়া মুখে বাউ করল রজার্সকে। লবিটি বেশ ঠাণ্ডা। বার-এ পা বাড়াল রজার্স। বিয়ার দিতে বলল বারম্যানকে। ফিরল গাইডের দিকে। সে-ও বিয়ার নেবে জানাল।
ওরা দুজন একটা টেবিলে বসে বিয়ার পান করছে, কিছুক্ষণ পরে বারম্যান হাঁক ছাড়ল, সিনর রজার্স?
এই যে এখানে।
আপনার ফোন। কোনও একটা বুদে ঢুকে কথা বলুন, প্লীজ।
ঘরের শেষ প্রান্তের একটি খালি বুদে ফোনের প্লাগ লাগিয়ে দিল সাদা জ্যাকেট পরা এক ছোকরা। এটুকু সময় অস্থিরতা নিয়ে অপেক্ষা করল রজার্স। মোরেনো ফোন করলে সর্বনাশ।
হ্যালো।
বাটলার বলছি। খবর কী?
কোনও খবর নাই।
ভেরী ব্যাড।
হুঁ।
আমাদের বোধহয় অন্য চিন্তা করা উচিত।
মানে?
আর অপেক্ষা করতে পারছি না। আমি একজনকে চিনি। তার কাছ থেকে মাল কিনব।
স্তম্ভিত রজার্স চেপে ধরল রিসিভার। আবার পুরোটা নতুন করে শুরু করতে চাইছ?
অপেক্ষা করার চাইতে সেটাই করা ভাল নয় কি?
অপেক্ষাটা কে করছে, তুমি নাকি আমি? গত দুদিন ধরে শরীরের ঘাম ঝরিয়ে আমি অপেক্ষার প্রহর গুণে চলেছি। মোরোনোকে একটা সুযোগ তো দিতেই হবে।
আচ্ছা। কাল সকাল পর্যন্ত ওর জন্য অপেক্ষা করব। ঠিক আছে?
আচ্ছা। জবাব দিল রজার্স। জানে এর বেশি সময় সে চাইতে পারবে না।
ওকে। টেক ইট ইজি।
কেটে গেল লাইন। রজার্স ফোন রেখে ফিরে এল বার-এ। ফোনটা ওর মনে সাময়িক স্বস্তির বৃষ্টি ঝরালেও দুশ্চিন্তার মেঘ পুরোপুরি কাটেনি। কারণ বাটলার মানুষ হিসেবে খুবই নির্দয় এবং নিষ্ঠুর।
গাইড লক্ষ করছিল ওকে। ওর চেহারায় উৎকণ্ঠা এবং উদ্বেগের ছাপ দেখে ওকে খুশি করার চেষ্টা করল।
কিন্তু তুমি আমাকে খুশি করতে পারবে না, মনে মনে বলল রজার্স। আমার টেনশন কেউই দূর করতে পারবে না। সে বিয়ার শেষ করল।
আরেকটা নেবে?
আপনি যা বলেন, সিনর।
বারম্যান আরও দুটো বোতল এনে ভরে দিল গ্লাস। তাকে লক্ষ করতে করতে রজার্সের মনে পড়ল মদের দাম তো সে দিতে পারবে না। সে তো ফতুর।
শুঙিয়ে উঠল রজার্স। তার গোঙানি শুনতে পেল গাইড। পকেটে হাত। ঢোকাল রজার্স। একটি মাত্র পেসো আছে। আমার কাছে আর পয়সা নেই, বলল সে। তুমি কি একটু…
নিশ্চয়, হাসল গাইড। মদের দাম চুকিয়ে দিয়ে বকশিসও দিল।
ধন্যবাদ।
ধন্যবাদের কিছু নেই।
মদ্যপান শেষে ওরা বার থেকে বেরিয়ে এল। এখন, ভাবছে রজার্স। আর ফেরার উপায় নেই। ওকে আবার চেষ্টা করতে হবে।
ব্যাপারটা ফয়সালা করে ফেলি, বলল সে গাইডকে। আমার কাছে তোমার কত পাওনা হয়েছে?
একটু ভেবে নিয়ে জবাব দিল গাইড। একশো পেসো।
ও, আচ্ছা। টাকাটা পরে নিলে চলবে তো? তোমার সঙ্গে আমার কাজ এখনও শেষ হয়নি।
নিশ্চয়, সিনর। আমার কোনও তাড়া নেই।
হাসল রজার্স। একশো পেসো তার জন্য কোনও টাকাই নয়। কিন্তু গাইডের কাছে-এক হাজার পেসো পেলে সে কী না করতে পারবে? যদি…
নিজের চিন্তার গাড়ির ব্রেকটা থামিয়ে দিল রজার্স। সে আর কিছু ভাবতে চাইছে না। কিছু ভাবতে পারছেও না।
আবার ডাকব তোমাকে। তখন টাকা পয়সার হিসেবটা বুঝিয়ে দেব।
আপনি যা বলেন।
তোমাকে কোথায় পাব?
হোটেলের সামনে। কিংবা রাস্তার ওপাশের বার-এ।
ঠিক আছে।
এলিভেটরে পা বাড়াল রজার্স। লবিটি আগের চেয়েও অন্ধকার লাগছে। খুলে গেল এলিভেটরের দরজা। ভেতরে ঢুকল রজার্স। লিফটম্যানকে বলল, চালতলা, প্লীজ।
কখন এলিভেটর থেকে নেমেছে আর কখন লম্বা হলওয়ে ধরে হাঁটা দিয়েছে কিছুই মনে নেই রজার্সের। সে নিজের ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। তালায় ঢোকাল চাবি, খুলতে এত বেশি সময় লাগল যে দরজার ওপরের রুম নম্বরে একবার চোখ বুলিয়ে দেখে লিন সঠিক ঘরটিতেই সে এসেছে কিনা।
খুলে গেল দরজা। ভেতরে ঢুকল রজার্স। জানালা দিয়ে ঠিকরে আসা সাদা আলো তার চোখ ধাঁধিয়ে দিল। জানালা বন্ধ করে দিতে চাইল রজার্স কিন্তু বিছানার ওপরে একটা কাঠের গুঁড়ির মতো দড়াম করে পড়ে গেল। ঘুমিয়ে পড়ল সঙ্গে সঙ্গে। ঘুম ভাঙল ফোনের ঝনঝনানিতে। ততক্ষণে সাঁঝের আঁধার ঘনিয়েছে ঘরে। ফোনেস হাত বাড়াল রজার্স।
হ্যালো?
আবার বটলার। জানতে চাইল মোরেনো ফোন করেছিল কিনা।
এখনও করেনি, জবাব দিল রজার্স।
লাইন ছেড়ে দিল বাটলার। বিছানা ছাড়ল রজার্স। সুইচ টিপে বাদি জ্বালল। তাকাল আয়নায় নিজের ভীত, বিবর্ণ প্রতিবিম্ব অচেনা লাগল।
দ্রুত বাথরুমে ঢুকল রজার্স। মুখে ঠান্ডা পানি ছিটাতে লাগল। এমন সময় আবার বেজে উঠল ফোন। ফোনের শব্দ ওকে চমকে দিল ভীষণ। যেতে পা সরছে না। আবার নিশ্চয় বাটলার। বাতিল করে দিতে চাইছে চুক্তি।
আরও একবার বাজল ফোন। শেষে ফোন ধরল রজার্স।
