কেন নই? ক্রুদ্ধ গলায় প্রশ্ন করল প্রথম লোকটা। কারণ তুমি আর তোমার বন্ধুরা আগেই সব দখল করে রেখেছ।
অফিশিয়াল গাইডের দিকে তাকাল রজার্স। ধোপদুরস্ত সাজে সজ্জিত সে, বোঝাই যায় ভালোই কামায় এবং যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসীও। আমি এ লোককে আগেই ভাড়া করেছি, বলল সে প্রথমজনের দিকে ইঙ্গিত করে।
বাউ করল অফিশিয়াল গাইড তারপর বিনাবাক্যব্যয়ে চলে গেল।
এখন বলো, বলল রজার্স, ট্যুর ছাড়া আর কী জিনিস তুমি আমাকে দেখাতে পার।
অনেক কিছুই সিনর।
জুয়া খেলার আসরে নিয়ে যেতে পারবে?
আপনি যেতে চাইলে নিশ্চয় নিয়ে যেতে পারব। আমার চেনা এরকম একটি মর্যাদাসম্পন্ন জায়গা আছে।
মর্যাদাসম্পন্ন? হেসে উঠল রজার্স, গাইডকে ভুরু কোচকাতে দেখে তার পিঠে চাপড় মারল।
ঠিক আছে, চলো তোমার মর্যাদাসম্পন্ন জায়গাটি একটু দেখে আসি।
বাদামী মুখে আবার ঝিলিক দিল ধপধপে সাদা দাঁত। বাউ করল গাইড, ত্রিশ ফুট দূরে রাখা একটি গাড়ি দেখাল হাত তুলে।
ওদিকে হাঁটা দিয়েছে রজার্স, রাস্তাটা যেন দুলে উঠল, সাদা আলোর বিচ্ছুরণ চোখে কেমন ঝাপসা ঠেকল। একপাশে কাত হয়ে গেল দেহ, হুমড়ি খেল। শক্তিশালী একটি হাত ওকে খপ করে ধরে ফেলল, সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিল।
আপনি ঠিক আছেন তো, সিনর?
হুঁ।
হাসল গাইড, এক ছুটে গাড়ির সামনে গিয়ে দরজা খুলে ধরল। রজার্স ভেতরে বসলে বন্ধ করে দিল দরজা। তারপর ঘুরে ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসল।
গরম, জনশূন্য রাস্তা দিয়ে দশ মিনিট গাড়ি চলার পরে গন্তব্যে পৌঁছে গেল ওরা। রোদে পোেড়ানো ইট দিয়ে তৈরি পুরানো একটি বাড়ির সামনে এসে থামল গাড়ি। বাড়িটির দেয়াল নীলচে, গরাদঅলা জানালাগুলো বন্ধ।
শূন্য রাস্তায় চমকাচ্ছে রোদ। রজার্স চোখ কুঁচকে জানতে চাইল, এই সেই জায়গা?
জি, সিনর।
দেখে তো মনে হয় না ওখানে কোনও জনপ্রাণী আছে।
ওখানে কেউ না কেউ সবসময়ই থাকে। আপনি ভেতরে গিয়ে ওদের শুধু এই জিনিসটা দেবেন। একটা কার্ড বাড়িয়ে দিল গাইড।
ওটা নিল রজার্স। তুমি কি আমার জন্য অপেক্ষা করবে?
জি, সিনর।
আমার ফিরতে দেরি হতে পারে।
তাতে কোনও সমস্যা নেই।
গাড়ি থেকে নামল রজার্স। বাড়িটির দরজা খুলতেই শীতল হাওয়া মোলায়েম পরশ বুলাল মুখে। চোখ মিটমিট করল সে। ঘরটি দেখে ঠিক জুয়াড়িদের আস্তানা বলে মনে হয় না। মৃদু স্বরে বাজছে যন্ত্রসঙ্গীত। একটি লম্বা টেবিল ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে জনাআষ্টেক ডাইস-প্লেয়ার। ছোট একটি বার-এর পেছনে বসা লালমুখো এক মোটকু রজার্সের দিকে তাকিয়ে মাথা। দোলাল। গাইডের কার্ডখানা তার হাতে দিল রজার্স। মোটু ওকে নিয়ে লম্বা টেবিলটার দিকে এগোল যেখানে গড়াতে শুরু করেছে ডাইস।
.
ঘণ্টা তিনেক পরে বাড়িটি থেকে বেরিয়ে এল রজার্স। গাইড তখনও তার জন্য অপেক্ষা করছে। রজার্সকে দেখামাত্র সে গাড়ি থেকে নেমে খুলে ধরল দরজা। রজার্স ভেতরে ঢুকল।
আপনি ঠিক আছেন তো? হুইলের পেছনে বসে জিজ্ঞেস করল গাইড।
হু, জবাব দিল রজার্স। তবে সে মোটেই ঠিক নেই। মাতাল হয়ে আছে সে। তারচেয়েও খারাপ খবর হলো জুয়োয় পাই-পয়সাটি পর্যন্ত হারিয়েছে। কেমন খেললেন? জানতে চাইল গাইড।
খুব খারাপ।
ওহ্, তা হলে তো দুঃসংবাদ।
মস্ত দুঃসংবাদ, ভাবছে রজার্স। জুয়া খেলতে গিয়ে নিজের যে সর্বনাশ করেছে ভাবতেই অসুস্থ বোধ করল।
আর কোথাও যাবেন? বলল গাইড। নাকি হোটেলে ফিরবেন?
এখনই না।
আপনি যা বলেন। সোজা সামনের দিকে দৃষ্টি মেলে রইল গাইড, অপেক্ষা করছে। তারপর বলল, কোনও ভালো রেস্টুরেন্টে যাব?
কোনও রেস্টুরেন্টে যাব না।
শ্রাগ করল গাইড। তা হলে আপনিই বলুন কোথায় যেতে চান?
হোটেলেই চলে।
গাইড কোনও মন্তব্য না করে ছেড়ে দিল গাড়ি। বাহন চলতে শুরু করেছে, চোখ বুজল রজার্স।
এ আমি কী করলাম? ভাবছে সে। জুয়ার আস্তানার কথা মনে পড়তেই আবারও অসুস্থ বোধ করল। সে হেরেছে। শুধু নিজের অর্থই নয়, মোরেনোর কাছ থেকে মাল কেনার জন্য বাটলার যে টাকাটা দিয়েছিল সে টাকাটাও জুয়ায় খুইয়েছে রজার্স।
মাই গড, মনে মনে বলল সে। তবে সবকিছু এখনও শেষ হয়ে যায়নি। মোরেনো ওর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। হয়তো সে আর ফোন করবে না। হয়তো…
নিজের সঙ্গেই সে প্রতারণা করার চেষ্টা করছে, জানে রজার্স। মোরেননা তার সঙ্গে যদি যোগাযোগ না-ও করে, বাটলারের কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। কারণ টাকাটা বাটলারের।
কাজেই মোরোনোর সঙ্গে কথা বলাই ভাল। ওর সঙ্গে যেভাবেই হোক যোগাযোগ করতে হবে তারপর যদি কথা বলে বুঝিয়ে সুজিয়ে…
এ অসম্ভব। মাদক ব্যবসায়ীদের কথার জাদুতে ভোলানো যায় না। তারা মাল দেবে, টাকা নেবে। বাকির কারবারে তারা নেই। তাদের ক্ষেত্রে শুধু টাকা কথা বলে। নতুবা অস্ত্র।
অস্ত্র! শব্দটা যেন রজার্সের মস্তিষ্কে, বিস্ফোরণ ঘটাল। থেমে গেল গাড়ি।
সিনর?
চোখ মেলল রজার্স। হোটেলের সামনে চলে এসেছে ওরা। রাস্তার চোখ ধাঁধানো অত্যুজ্জ্বল আলোটা নেই তবে রাস্তাটা এখনও কাঁপছে ওর চোখের সামনে।
আপনি কি অসুস্থবোধ করছেন? জিজ্ঞেস করল গাইড।
না, আমি ঠিক আছি। তবে এখানে বড্ড গরম। চলো ভেতরে গিয়ে একটু গলা ভেজাই।
কপালে ভাঁজ পড়ল গাইডের।
কী হলো?
আমাকে গাড়িটা চালাতে হবে, সিনর।
গাড়ি নিয়ে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। আসলে গাড়ির কথা তুমি ভাবছও না। তুমি ভাবছ আমি মাতাল হয়ে গেছি, না?
