ডেথ বেট – হাল এলসন
বেলা আড়াইটা বাজে। খুব গরম পড়েছে। ব্যুরোর দিকে তাকাল রজার্স। ব্র্যান্ডির বোতলে খানিকক্ষণ চোখ রেখে ডানে-বামে মাথা নাড়ল। মদ খেয়ে কোনও লাভ হবে না। ঘড়ি দেখল সে। মাদক ব্যবসায়ী মোরেনোর ফোন করার কথা ছিল। করেনি এখনও।
এদেশে কোনও কিছুই সময় মেনে চলে না, ক্রুদ্ধ হয়ে ভাবছিল রজার্স এমন সময় বেজে উঠল ফোন। নাইট-টেবিলে রাখা ফোনটি খপ করে তুলে নিল সে।
রজার্স? জানতে চাইল অপরপ্রান্তের কণ্ঠ।
হু, বাটলার।
খবর কী?
কোনও খবর নাই।
ফোন করেনি?
এখনও করেনি। এখন আমাদের করণীয় কী?
অপেক্ষা করো। এ মুহূর্তে এটাই করণীয়।
গত দুইদিন ধরে এই হতচ্ছাড়া ঘরে আমি অপেক্ষা করেই আছি, বাটলার।
হেসে উঠল বাটলার। বার-এ গিয়েও ফোন ধরা যায়, তুমি জানো।
তা যায় বটে।
তবে বেশি মদ গিলো না যেন। তা হলে সামাল দিতে পারবে না।
বুঝতে পারছি কী বলতে চাইছ।
আরেকটা কথা, রজার্স।
বলো?
মোরেননা তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করবে, ওর সঙ্গে তোমার দেখা। করার জন্য উতলা হবার দরকার নেই।
তা হলে মাল বিনিময় হবে কী করে?
ও নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। কেউ ওর হয়ে কাজটা করবে। এমনকী যদি কোনও অন্ধ ভিক্ষুকও আসে মাল নিয়ে, অবাক হয়ো না।
তুমি মশকরা করছ।
না। মোরেনোর কাজের ধরনই ওরকম। খুব অভাবগ্রস্ত কাউকে সামান্য কিছু পেসো ধরিয়ে দিয়ে তাকে দিয়ে কাজ উদ্ধার করিয়ে নেয় সে। সস্তা, তবে চতুর পদ্ধতি।
হয়তো বা, বলল রজার্স। কিন্তু মোরেনো ফোন করছে না কেন? আমরা কোথায় আছি জানে না সে?
জানে, তবে সে খুব সাবধানে নড়াচড়া করে। হতে পারে তোমার ওখানে উল্টোপাল্টা লোকজন ঘুরে বেড়াচ্ছে আর পরিস্থিতিও হয়তো খুব বেশি উত্তপ্ত। কাজেই শক্ত হয়ে বসে থাকো।
হুম।
ওকে, টেক ইট ইজি। বলে লাইন ছেড়ে দিল বাটলার।
রিসিভার নামিয়ে রাখল রজার্স। হুঁ, টেক ইট ইজি বললেই হলো, মনে মনে ভাবছে সে। সব ভোগান্তি তো আমাকেই পোহাতে হবে। বাটলার চার ব্লক দূরে একটা হোটেলে আরামে এবং নিরাপদে আছে। তাকে কোনও ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। যদিও কাজটা তার, অর্থও তার।
বোতল মনোযোগ ফেরাল রজার্স। ছিপি খুলে লম্বা এক ঢোক মদ গিলল। আরেক চুমুক দিয়ে তাকাল বোতলের দিকে। প্রায় সিকিভাগ খালি
করে ফেলেছে।
টেক ইট ইজি, মনে মনে শব্দটা আওড়াল সে। আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে হাসল। খিচড়ানো মেজাজ একটু শান্ত হয়েছে।
রিসিভার তুলে হোটেলের রিসেপশনিস্টকে জানিয়ে দিল তার কোনও ফোন এলে যেন বার-এ কলটা রিলে করে দেয়া হয়। রিসিভার রেখে দিয়ে দরজায় পা বাড়াল রজার্স।
হলওয়ে ছায়াময়। টাইলসে ওর জুতোর হিলের খটমট আওয়াজ উঠল। ব্র্যান্ডিটা কাজ শুরু করে দিয়েছে, শরীরটা আর আগের মতো ভারী লাগছে না।
ভিভা, মেক্সিকো! এলিভেটরের সুইচে হাত রেখে বলল রজার্স।
এলিভেটরের দরজা খুলে যখন বেরিয়ে এল সে, শরীর আশ্চর্য হালকা লাগছিল উঁচু ছাতের প্রকাণ্ড লবি, ওপরে ছায়াঘেরা বাতির ভেসে আসা স্নান আলো, হঠাৎই যেন কাঁপতে শুরু করল। তরল এবং দুর্বোধ্য স্প্যানিশ কণ্ঠের শব্দরাজি তাকে ঘিরে ধরল চারপাশ থেকে। শুনতে ভালই লাগছে, অপরিচিত ঠেকছে না মোটেই। সাদা জ্যাকেট পরা এক বেলবয়ের গায়ে ধাক্কা খেল রজার্স। সে বাউ করে ক্ষমা চাইল।
দোষ আমার, দ্রুত বলল রজার্স। বারটা কোনদিকে?
ঘষা কাঁচের একটি দরজা দেখিয়ে দিল বেলবয়, রজার্স কদম বাড়াল ওদিকে। হালকা শরীর এবং অপেক্ষার যন্ত্রণা সইবার পরে এ মুহূর্তে অনুত্তেজিত।
তবে এটা একটা বিপদ-সংকেত। বার-এ চলে এল সে। টেক ইট। ইজি, মনে মনে বলল রজার্স। আর ব্র্যান্ডি পান করা চলবে না।
মাথা ঝাঁকাল বারম্যান। সিনর?
একটা বিয়ার।
এক-দুই-তিন বোতল। আস্তে ধীরে ধীরে ড্রিংক করবে ভেবেছিল রাজর্স, কিন্তু একটা বিয়ার পান করার পরে শরীর ভালো লাগছিল বলে
পরপর চারটে বোতল সাবাড় করল।
আজ আর মোরেনো ফোন করবে না, মনে মনে বলল ও। বেরিয়ে এল বার থেকে।
পেভমেন্টে ছুরির ফলার মত সাদা রোদ ঝকমক করছে, ধাধিয়ে দেয় চোখ। রাস্তার ওপাশে ছোট্ট প্লাজার দিকে চোখ কুঁচকে তাকাল রজার্স। জনশূন্য প্লাজা। প্রচন্ড উত্তাপে ঝিমোচ্ছে। ভারী আওয়াজ তুলে বেজে উঠল গির্জার ঘণ্টা।
শরীরটা কেমন দুলছে রজার্সের। চোখ বুজল। চোখ মেলে চাইতেই দেখল তামাটে একটি মুখ তাকিয়ে আছে ওর দিকে। ঝকঝকে দাঁত দেখিয়ে হাসল লোকটা।
গাড়ি চড়ে কোথাও যাবেন, সিনর?
গাড়ি চড়ে কোথায় যাব? জিজ্ঞেস করল রজার্স।
ঝট করে একটি তালিকা মেলে ধরল লোকটা, যাতে একজন ট্যুরিস্ট আকর্ষণ করার মত নানান ট্যুরের কথা লেখা আছে। মাথা নাড়ল রজার্স।
কোনও ট্যুরে যাবেন না, সিনর?
না।
তা হলে অন্য কিছু?
ইতস্তত করছে রজার্স, এক লোক এগিয়ে এল ওদের দিকে।
সিনর, আমি একজন অফিশিয়াল গাইড, দ্রুত বলল সে।
আমি সস্তায় আপনাকে সেবা দিতে পারব, কাজেই এ লোকটাকে ভাড়া করার জন্য আপনাকে পরামর্শ দিচ্ছি।
হা, এ লোকের কোটের ল্যাপেলে একটা বাটন আছে আর তাতেই সে অফিশিয়াল হয়ে গেল! বলল প্রথম লোকটা। ও আর ওর বন্ধুরা একাই সব কিছু ভোগ করতে চায়।
ওর কথায় কান দেবেন না, সিনর। ওকে ভাড়া করলে পস্তাবেন। ও রেজিস্টার্ড নয়।
