নিজের পরিচয় দিল কেনেথ। যদিও খদ্দেররা সাধারণত নিজের পরিচয় দেয় না। আসে, দামদর করে জিনিসপত্র কিনে চলে যায়। মেরীও কেনেথকে তার নাম বলল। জানল কেনেথ এ শহরের একজন খ্যাতনামা ইনটেরিয়র ডিজাইনার।
সত্যি বলতে কী, বলল কেনেথ, মোসার্টের এই মূর্তিটি আমার খুব একটা পছন্দ হয়নি, বরং এটা ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট করবে বলেই আমার বিশ্বাস। কিন্তু তবুও এটাকেই আমার নিতে হবে। কারণ আমার ক্লায়েন্টের মোসার্টের মূর্তি চাই-ই। আচ্ছা, এছাড়া আপনার কাছে অন্য কি মূর্তি আছে দেখাবেন দয়া করে?
গোটা দোকান ঘুরিয়ে দেখাল মেরী কেনেথকে। তারপর কেটে গেছে বেশ কয়েক দিন। পরে মেরী চেষ্টা করেছে মনে করতে সে কবে কেনেথের প্রেমে পড়ল; কিন্তু মনে পড়েনি। ওইদিন সারাটা সকাল কেনেথ দোকানেই ছিল; দুপুরের দিকে পেছনের চেস্ট অভ ড্রয়ার রাখা ছোট ঘরটায় সে কি এক অজুহাতে ঢুকে পড়ে। একটা ড্রয়ার টান দিতেই ওটা তার হাতে খুলে আসে, তারপর তার আচরণ দুঃসাহসী হয়ে ওঠে। মেরীকে জড়িয়ে ধরে কেনেথ।
আরে, একি করছেন আপনি? কৃত্রিম রাগে হিসহিস করে ওঠে মেরী। ঈশ্বর! যে কোনসময় কাস্টমার চলে আসবে।
গুল্লি মারো কাস্টমার, বলেছে কেনেথ।
মেরীর বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করছিল না এসব ঘটছে। কেনেথের পুরুষালী বন্ধনের মাঝে নিজেকে ক্রমশ হারিয়ে ফেলছিল সে। কিন্তু নিজেকে অনেক কষ্টে সেবার নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এরপর থেকে যখনই জন ব্যবসার কাছে শহরের বাইরে গেছে, প্রতিবারই কেনেথকে চুমু খেয়ে ঝিকমিকে চোখে জানিয়েছে আজকের রাতটা সে বাড়িতে একা।
চেস্ট অভ ড্রয়ারে গাদা করা পেছনের ঘরটা মেরী আর কেনেথের মিলনের গোপন স্থান হিসেবে চমৎকার ছিল। একদিন, জনের অনুপস্থিতিতে ওরা ওখানে বসে প্রেম করছে এই সময় একটা কণ্ঠ শুনতে পেল। ভালবাসায় এত মগ্ন ছিল দুজনে যে খেয়ালই করেনি কেউ এসেছে।
মিসেস জনসন, কোথায় গেলেন? আমার জিনিসটা নিতে এসেছি, বলল নারীকণ্ঠ।
হুড়মুড়িয়ে অন্ধকার ঘরটা থেকে বেরিয়ে এল মেরী, মুখে চেষ্টাকৃত হাসি। এলোমেলো চুল দ্রুত হাতে ঠিক করল সে। জানে ওর লিপস্টিক ছেঁড়া থেবড়া হয়ে গেছে। খদ্দেরটি মিসেস ব্রায়ান, শহরের সবচে গল্পবাজ মহিলা। ভয় পেল মেরী। কোন সন্দেহ নেই মিসেস ব্রায়ান সবাইকে জানিয়ে দেবেন মেরীকে আজ তিনি আলুথালু অবস্থায় আবিষ্কার করেছেন। আর জনের কানে এই কথা যাবেই।
কিন্তু ভাগ্য ভাল মেরীর মিসেস ব্রায়ান আজ অন্য মুডে ছিলেন। মেরীর দিকে ভাল করে তাকালেন না পর্যন্ত। অর্ডার দেয়া ছিল আগেই, মেরীও প্যাক করে রেখেছিল ঝাড়বাতিটা, টাকা দিয়ে প্যাকেটটা নিয়ে হনহন করে চলে গেলেন ভদ্রমহিলা।
অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার ঘটনাটা মেরী হাসিমুখে বললেও তার প্রেমিক অন্ধকার করে ফেলল মুখ।
তোমাকে আমি কত ভালবাসি তুমি জানো, সোনা, বলল কেনেথ। আর তুমিও আমাকে আমার মতোই ভালবাস। কিন্তু এভাবে লুকিয়ে প্রেম। করতে আমার জঘন্য লাগছে। এসব লুকোচুরি আমার পছন্দ নয়। বুঝতে পারছ কি বলতে চাইছি? আমরা বিয়ে করব। তোমার স্বামীকে বলল, তুমি ডির্ভোস চাও।
কেনেথ কথাটা এমনভাবে উচ্চারণ করল, যেন এটা কোন ব্যাপারই নয়। কিন্তু যে মানুষটি গত বিশ বছর ধরে তার প্রতি এত সদয় এবং বিশ্বস্ত থেকেছে তাকে কী করে ডির্ভোসের কথা বলবে মেরী? কি করে সে তার সকল সুখ কেড়ে নেবে?
হ্যাঁ, ব্যাপারটার একটা সমাধান হতে পারে যদি জন হুট করে মরে যায়। কেন, ওর কি হার্ট অ্যাটাক হতে পারে না? প্রতিদিন কত মানুষ হার্ট অ্যাটাকে মারা যাচ্ছে। জন কেন এভাবে মারা যায় না? তাহলেই আর কোন সমস্যা থাকে না।
সেদিন বিকেলে মেরী কেনেথকে ফোন করেছিল, বলল যে আজ রাতে জন বাড়ি ফিরবে না, কাজে শহরের বাইরে গেছে।
শুনে কেনেথ ঘেউ ঘেউ করে উঠল। বলল, ড্যাম ইট, মেরী! এভাবে লুকিয়ে বারবার দেখা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এটা আমার জন্য রীতিমত অপমানকর। তোমার সঙ্গে আমি অন্ধকার ঘরে প্রেম করব আর ওদিকে কাস্টমার এসে অমুক তমুক জিনিসের জন্য চিল্লাচিল্লি করতে থাকবে–ওহ, এ অসহ্য! আমাকে অবশ্যই তোমার বিয়ে করতে হবে।
করব তো, ডার্লিং, কিন্তু আরেকটু ধৈর্য ধরো প্লীজ!
অনেক ধৈৰ্য্য ধরেছি। আমার পক্ষে আর অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। ঘটাং করে ওপাশে ফোন রেখে দিল কেনেথ।
মেরী জানে কেনেথ যা বলেছে তা করবে। কিন্তু কেনেথকে ছাড়া সে। বাঁচবে কেমন করে? জনের প্রতি তো তার এত ব্যাকুলতা ছিল না!
প্রিয় জন। কেমন করে তাকে ছেড়ে আসবে? জীবনের অন্যতম সেরা দিনগুলো সে জনের সঙ্গে কাটিয়েছে, জনের সমস্ত উপস্থিতি ছিল তাকে ঘিরে। তার আনন্দ, সুখ আহ্লাদের প্রতি জনের সবসময় নজর ছিল। ওদের যেসব বন্ধু-বান্ধব আছে সবাই বিবাহিত। জনকে ডির্ভোস দিলে তার একাই দিন কাটাতে হবে। মেরীকে ছাড়া তার জীবন শূন্য হয়ে পড়বে; বন্ধুরা তাকে তখন করুণা করে তাদের বাসায় ডাকবে। সবাই তাকে বেচারী, দুঃখী জন বলে সম্বোধন করবে। এরচে মৃত্যুও অনেক ভাল ছিল, বলবে তারা। জীবন সম্পর্কে হতাশ জন তখন নিজেকে অবহেলা শুরু করবে; ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করবে না; সমস্ত সময় তাকে এই বাড়িতে একা থাকতে হবে। না, জনকে জেনেশুনে সে এমন নির্বাসন দিতে পারে না।
