ফ্যাটস্টাফ এবং বার্থা দুজনেই বুঝতে পারল এই চেহারা আর শরীর নিয়ে ফ্যাটস্টাফের বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়। খুদে এই মফস্বলের যে কেউ তাকে দেখামাত্র চিনে ফেলবে।
এই সময় চট করে আইডিয়াটা মাথায় খেলল ফ্যাটস্টাফের। চিলেকোঠার ঘরে সে লুকিয়ে থাকবে, খুব কম খাবে যাতে শিগগিরই মেদ ঝরে রোগা হয়ে ওঠে। তারপর সময় বুঝে একদিন এখানে থেকে হাওয়া হয়ে যাবে।
চিলেকোঠার ঘরে গিয়ে আত্মগোপন করল ফ্যাটস্টাফ। দুই মাস ওখান থেকে এক পাও নড়ল না। বার্থা ওকে প্রতিদিন লেটুস, সর ছাড়া দুধ আর শরবতি লেবু ছাড়া অন্য কিছু খেতে দিল না।
দুই মাস পর কুমড়োপটাশ ফ্যাটস্টাফ হাড়গিলেতে রূপান্তরিত হলো। যেন জ্যান্ত একটা কঙ্কাল। এখন সময় হয়েছে পালাবার, বুঝল সে। আর তারপরই লুকানো টাকা উদ্ধার করতে গিয়ে ঘটল অঘটন।
.
বিছানার একপাশে হেলান দিল ফ্যাটস্টাফ। আসলে কঠোর ডায়েটের পর প্রচণ্ড সূর্যতাপে দুর্বল শরীরে অমন তড়িঘড়ি বেরুনো ঠিক হয়নি তার, ভাবল সে। আর মদ তার সর্বনাশের মোলোকলা পূর্ণ করেছে। ইস, মাথা ঘুরে কীভাবে সে পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু বার্থা তো এসবের কিছুই জানে না। সে এতক্ষণে পোমরয়ের বাসের টিকেট কিনে ফ্যাটস্টাফের জন্য অপেক্ষা করে নিশ্চয় রেগে বোম হয়ে উঠেছে
নার্সকে জিজ্ঞেস করল ফ্যাটস্টাফ, এখান থেকে চলে যাবার সময় আমাকে কি কোন দস্তখত করতে হবে?
না, বলল সে। আপনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। আর আপনার মানসিক অবস্থা–প্রবল উত্তেজনাটা অবশ্য সাময়িক ছিল! এই যে! ডাক্তার সাহেব এসে গেছেন!
ফ্যাটস্টাফ বসা ছিল, ডাক্তারের কথা শুনে আবার টানটান হয়ে শুয়ে পড়ল। কাঁধে কার যেন হাতের স্পর্শ পেল, ডাক্তারই হবেন, আন্তরিক সুরে বললেন, হ্যালো!
ফ্যাটস্টাফ মোটা কাপড়ের ফুলপ্যান্টে আঙুল ঘষতে ঘষতে বলল, ডাক্তার, আমাকে নতুন কাপড় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ, কিন্তু পোশাকটা বড় টাইট লাগছে যে!
পোশাকটা আসলে ঠিকই আছে, বললেন ডাক্তার। আপনি খামোকা দুশ্চিন্তা করছেন।
দূর, কি বাজে বকছেন! বিরক্ত হলো ফ্যাটস্টাফ। এই প্যান্ট তো একটা তাঁবুর মতই বড়।
তা বটে। কিন্তু আপনি যখন অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন তখন তো শুকনো, লিকলিকে ছিলেন।
কিন্তু–সে তো আজ সকালেও ছিলাম। মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে–
ডাক্তার ফ্যাটস্টাফের চোখের ব্যান্ডেজ খুলতে খুলতে বললেন, এখন কে বাজে বকছে, বলুন তো? আজ সতেরোই সেপ্টেম্বর। আপনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে আগস্টের প্রথম হপ্তায়। এতদিন স্রেফ অজ্ঞান হয়ে ছিলেন। আঘাতটা এত ভয়ঙ্কর ছিল যে আপনাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আমাদের জান বেরিয়ে গেছে।
ব্যান্ডেজ খুলে ফেলা হয়েছে। ফ্যাটস্টাফ ধীরে ধীরে সিধে হলো। দরজার পাশে এক মানুষ সমান লম্বা আয়নাটার দিকে এগোল। দাঁড়াল ওটার সামনে। বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল চোখ, সম্মোহিতের মতো তাকিয়ে থাকল নিজের প্রতিকৃতির দিকে।
আবার সে পরিণত হয়েছে পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি লম্বা কুমড়োপটাশে। সেই আলু ফোলা গাল, বেটপ কোমর, মোটা পেট। বরং এখন যেন আরও বেশি ফুলেছে সে। ফ্যাটস্টাফ জানে টাকা নিয়ে শহর ছেড়ে পালানো দূরে থাক, হাসপাতালের বাইরে পা দেয়ামাত্র পুলিশ তাকে গ্রেফতার করবে।
পেছন থেকে জানতে চাইলেন ডাক্তার, আপনি যাবার জন্য প্রস্তুত? এখন স্বচ্ছন্দে আপনি চলে যেতে পারেন!
মুখ হাঁ হয়ে গেল ফ্যাটস্টাফের, গলা চিরে বিস্ফোরণের মতো বেরিয়ে এল আর্তচিৎকার, না! না! না!….
কিল্ড বাই কাইন্ডনেস – নেডরা টায়ার
জন জনসন ঠিক করেছে সে তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে হত্যা করবে। এছাড়া তার কোন উপায় নেই। আর একমাত্র এই কাজটাই সে খুব ভালভাবে করতে পারবে। অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জন।
ডির্ভোস দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ডির্ভোসের জন্য সে উপযুক্ত কারণও দাঁড় করাতে পারবে না। মেরী এত ভালো আর ভদ্র যে জীবনে কোনদিন কোনো পরপুরুষের দিকে চোখ তুলে তাকায়নি। এতদিনে একটিবারও সে জনের সঙ্গে ঝগড়া করেনি। মেরী যেমন সুন্দরী, রান্নার হাতটিও তেমনি চমৎকার। আর ওর মত দক্ষ ব্রিজ খেলোয়াড় এ শহরে আর কেউ আছে? মেরী সবার কাছেই খুব প্রিয়।
ভাবতেও কষ্টে বুক ফেটে যেতে চায় যে এমন সুশীলা, সুভদ্রা একটি নারীকে তার হত্যা করতে হবে। কিন্তু ওকে ডির্ভোস দেয়াও যাবে না। বিশেষ করে এই সময়, যখন মাত্র দুয়েক আগে তারা তাদের বিংশত বিবাহবার্ষিকী মহাসমারোহে পালন করেছে।
আমন্ত্রিত অতিথিদের সবাই বলেছিল, মেরী আর জন হচ্ছে শ্রেষ্ঠ এবং সুখী এক দম্পতি। শ্যাম্পেনের বোতল খুলতে খুলতে মেরী এবং জন সবার কাছে আশীর্বাদ চেয়েছিল, পরস্পরের চোখের দিকে তাকিয়ে প্রগাঢ় ভালবাসায় উচ্চারণ করেছিল, আপনারা আশীর্বাদ করবেন আমরা যেন একসঙ্গে মরতে পারি। আর এরপর জন কি করে পারে মেরীকে তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে? এটা স্রেফ ছেলেমানুষী হবে।
তাকে ছাড়া মেরী একদন্ড বাঁচতে পারবে না, জানে জন। ডির্ভোস দিলেও দোকানঘরটা মেরীর নিজেরই থাকবে। কিন্তু তাতে কিছুই এসে যায় না। কারণ মেরী অর্থলিন্দু নয়। জন বাইরে গেলে সে ফার্নিচারের দোকানটাতে বসে সময় কাটায়। ব্যবসা বুদ্ধি যদিও ভালোই মেরীর, কিন্তু এসবের প্রতি তার তেমন আগ্রহ নেই। তার সকল আগ্রহ জনকে ঘিরে।
