আমি এখানে এলাম কী করে? জানতে চাইল ফ্যাটস্টাফ।
এক শিকারী ভদ্রলোক আপনাকে এখানে নিয়ে এসেছিলেন, বলল নার্স। আপনাকে তিনি অজ্ঞান অবস্থায় আবিষ্কার করেন। তারপর অনেক কষ্টে টেনে হিঁচড়ে তার গাড়িতে উঠিয়ে এই হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন। গাড়িতে ওঠানোর সময় আপনার জামা কাপড় সব ছিঁড়ে যায়।
মনে মনে শিকারী ভদ্রলোককে ধন্যবাদ দিল ফ্যাটস্টাফ। গোটা ব্যাপারটা এখন তার আরও পরিষ্কার মনে পড়ছে। মনে পড়ছে শুরুতেই কী করে সবকিছু ভজকট হয়ে গিয়েছিল তবু এখনও সময় আছে। টাকাটা এখনও ওখানেই রয়েছে-অপেক্ষা করছে তার জন্য শুধু তুলে নেয়ার অপেক্ষা।
প্রথম দিকে অবশ্য সবকিছু ঠিকঠাক মতোই চলছিল। ফ্যাটস্টাফ নিউ ইয়র্কের রাস্তায় চুরি চামারি করত। মাস কয়েক আগে, মফস্বল শহর অ্যাপলটনে সে ভবঘুরের মতো ঘুরতে ঘুরতে চলে আসে।
শহরের বাইরে, পোস্ট রোড থেকে শ গজ দূরের এক পরিত্যক্ত ফার্মহাউস দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফ্যাটস্টাফের। কারণ রাতের বেলায় ভূতুড়ে বাড়িটাতে আলো জ্বলছিল। নক করতেই দরজা খুলে দিয়েছিল বার্থা। বিধবা মহিলা ওকে ভেতরে ডেকে বসায়, ডিনার খাওয়ায় এবং রাতটা ওখানেই কাটিয়ে যেতে বলে। ফ্যাটস্টাফের না করার কোন কারণ ছিল না।
জগৎসংসারে এই ঘুণে-ধরা, পোকায় খাওয়া ফার্মহাউস ছাড়া বার্থার আর কিছু নেই, কেউ নেই। রসিক ফ্যাটস্টাফকে তার ভালো লেগে গেল। ফ্যাটস্টাফও হপ্তাখানেক তার সান্নিধ্য গ্রহণ করল সানন্দে। তাকে খুব সহজেই বিশ্বাস করে ফেলল মহিলা। তারপর তার গোপন কথাটি একদিন খুলে বলল।
ফ্যাটস্টাফ জানল বার্থা এতদিন একজন যোগ্য পার্টনারের অপেক্ষায় ছিল। বিশ্বাসী, চটপটে এবং চতুর। ফ্যাটস্টাফকে তার খুব মনে ধরেছে। তার বিশ্বাস, এতদিন সে যে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল সেটার সদ্ব্যবহার করার সময় অবশেষে এসেছে।
কী সুযোগ? জানতে চাইল ফ্যাটস্টাফ। বলল বার্থা। পোেস্ট রোড থেকে সিকি মাইল দূরে, একটা গলি বাঁক নিয়েছে ডানদিকে। গলির মাথায় একটাই মাত্র বাড়ি-ম্যাকলিন টুল কোম্পানি।
প্রতি শুক্রবার, বিকেল তিনটার সময় বুড়ো ম্যাকলিন বার্থার বাড়ি পার হয়ে তার অফিসে যায় কোম্পানির সাপ্তাহিক বেতন নিয়ে। গাড়ি ড্রাইভ করে সে একাই। এদিকে বিপদের কোন আশঙ্কা নেই জেনেই হয়তো নিরস্ত্র চলাফেরা করে বুড়ো।
এখন ফ্যাটস্টাফের যা করণীয়, ব্যাখ্যা করল বার্থা। তিনটে বাজার আগেই তাকে ওই গলিমুখে পৌঁছাতে হবে এবং ম্যাকলিন বুড়োর গাড়ির শব্দ শোনামাত্র সে শুয়ে পড়বে রাস্তায়, ভান করবে যেন ভয়ানক আহত হয়েছে। ম্যাকলিন শুধু কোম্পানির নির্বাহীই নয়, চার্চের একজন ধর্মযাজকও বটে। সুতরাং স্বভাবতই সে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে নেমে আসবে আহত লোকটাকে সাহায্য করতে। আর ফ্যাটস্টাফ তখন সহজেই বার্থার লুগার পিস্তল উঁচিয়ে, ম্যাকলিনের কাছ থেকে সাপ্তাহিক বেতনের টাকাটা কেড়ে নিতে পারবে।
ওই সময় বার্থা পোস্ট রোড থেকে পঞ্চাশ গজ দূরে, রাস্তার ধারে লুকিয়ে থাকবে। বুড়ো ম্যাকলিনকে কুপোকাত করে ছিনতাই করা টাকাটা নিয়ে ফ্যাটস্টাফ সোজা চলে যাবে পোমরয় স্টেশনে, টিকেট কেটে ভেগে পড়বে নিউ ইয়র্কে। বার্থাও আলাদা বাসে চড়ে নিউ ইয়র্কে, নির্দিষ্ট ঠিকানায় ফ্যাটস্টাফের সঙ্গে মিলিত হবে।
সব খাপে খাপ মিলে যাবে। কোন ঝামেলাই হবে না, বলেছিল বার্থা।
ফ্যাটস্টাফও প্ল্যানটা নানাভাবে উল্টেপাল্টে দেখে অবশেষে নিশ্চিন্ত হয়েছিল। নাহ, কোথাও কোন খুঁত নেই। ঝামেলা না হবারই কথা।
কিন্তু ঝামেলা হলো। বুড়ো ম্যাকলিন যে সঙ্গে বন্দুক রাখে তা কে জানত? ফলে পরিকল্পনা মাফিক কাজ এগোল না। গোলাগুলি হলো। তবে ফ্যাটস্টাফের ভাগ্য ভাল প্রথম গুলিটা করার সুযোগ সে-ই পায়।
নিথর ম্যাকলিনকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালাল ফ্যাটস্টাফ। আর এখানেই ভুলটা করল। যাবার আগে ওর পরীক্ষা করা উচিত ছিল বুড়ো সত্যি মরেছে কি না। কিন্তু টেনশনের চোটে অত পরীক্ষা করার সময় ছিল
ফ্যাটস্টাফের। এতদিন চুরি চামারি করেছে, খুন করার কথা কস্মিনকালেও ভাবেনি। এখন মার্ডার কেস পেছনে রেখে পোমরয়ে যাওয়াটা ঝুঁকি হয়ে যাবে মনে করে আপাতত লুকিয়ে থাকার জন্য সে বার্থার ফার্মহাউসেই ফিরে এল।
টাকাটা গাপ করে দেয়ার চিন্তাটা তখন মাথায় খেলল ফ্যাটস্টাফের। শুকনো, পরিত্যক্ত কুয়োর মধ্যে টাকা লুকালে বার্থা জীবনেও টের পাবে না। আর যতদিন সে টাকার কোন সন্ধান না পাচ্ছে ততদিন নিজের গরজেই ফ্যাটস্টাফকে সে নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রাখবে।
কিন্তু ওইদিন রাতে রেডিওতে খবরটা শুনে অজ্ঞান হতে শুধু বাকি রাখল ফ্যাটস্টাফ। ম্যাকলিন মারা গেছে ঠিকই কিন্তু পুলিশ তাকে রাস্তায় মারাত্মক আহত অবস্থায় আবিষ্কার করার পরে। মৃত্যুর আগে সে ফ্যাটস্টাফের কথা বলে গেছে। পুলিশ রেডিওতে তার টেপ করা নিখুঁত বর্ণনা প্রচার করল, এত মোটা মানুষ জীবনেও দেখিনি আমি, মৃত্যুপথযাত্রী ম্যাকলিনের শ্বাসটানা গলা ভেসে এল। পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি লম্বা। আলুর মতো ফোলা গাল। উরু দুটো এত মোটা, প্যান্ট ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। বিরাট হুঁড়ি। ওকে আপনারা দেখলেই চিনতে পারবেন। অমন মোটা লোক সচরাচর চোখে পড়ে না।
