আমি দুঃখিত, তোমাকে আমি অপেক্ষায় রেখেছি, চার্লস। এই যে আমি এসেছি। আমি রেডি, প্রিয় চার্লস…
.
রুম নং ২১২২ এবং ২২১২ মধ্যেকার পার্থক্য বিরাট কিছু না হলেও এটি অনেকের জীবন বদলে দিতে পারে। একই ফ্লোরে, করিডরের শেষ মাথায় জনৈক মি. হ্যাকফোর্থ অধৈর্য হয়ে বসে আছেন একটি আর্মচেয়ারে। তিনি অবাক হয়ে ভাবছেন বিছানার ওপর কেন পুরুষদের পাজামা পরে আছে। অবশ্য নারী স্বাধীনতার এ যুগে, চিন্তা করলেন তিনি, আজকাল শুদ্ধতা বা পবিত্রতা বলে কিছু নেই।
.
পরদিন সকালে মুখে তীব্র রোদের ঝলকে ঘুম ভেঙে গেল চার্লির। এক চোখ মেলল সে। এক মুহূর্তের জন্য মনে করল গতরাতের অবিশ্বাস্য স্বপ্ন এবং তার পরবর্তী ঘটনাটি। ঝট করে উঠে বসল সে। ওটা কোনো স্বপ্ন ছিল না কারণ এখনো সে পারফিউমের গন্ধ পাচ্ছে। বেডক্লথের বেশিরভাগ লুটিয়ে আছে মেঝেয়।
ঘড়ি দেখল চার্লি। নটা বাজে। টেন ট্রাক্টরস এর ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে দেরিই হয়ে যায় কিনা এ আতঙ্কে সে লাফ মেরে নামল বিছানা থেকে এবং কাপড় পরতে লাগল। নিচতলায় নাপিতের দোকানে বসে দাড়ি কামাতে কামাতে সে এক কাপ কফি খেয়ে নেবে।
মেয়েটির কোনো চিহ্ন নেই। সেই দারুণ মেয়েটি নিজেকে যে ভার্জিন বলে দাবি করছিল।
মেয়েটি খেলেছে বেশ, চার্লিও দারুণ খেলা দেখিয়েছে। বলা উচিত এমন চমৎকার খেলা আগে সে কখনো খেলেনি। মেয়েটি বারবারই ওকে চাইছিল এবং চার্লিও একান্ত অনুগতের মতো তার দাবি পূরণ করে চলছিল। বসার ঘরে যেতে যেতে চার্লি মনে মনে বলল, যীশাস, মেয়েটা ছিল দারুণ সংবেদনশীল। আমিও তাই। বিনয়ের অবতার যেন চার্লি।
ম্যান্টলপিসের ওপরে, হুইস্কির বোতলের পাশে একটি চিঠি নজরে এল চার্লির। চিঠির সঙ্গে একটি একশো ডলারের নোট।
প্রিয়তম চার্লস,
তোমার ঘুম ভাঙার আগেই আমাকে চলে যেতে হলো বলে দুঃখিত। আমি চাকরি করি কাজেই নটার মধ্যে আমাকে অফিসে পৌঁছতে হয়। তুমি আমাকে একটি নতুন জীবন দিয়েছ এবং জীবনের নতুন একটি মানে উপহার দিয়েছ। তোমার জন্য সামান্য কিছু টাকা রেখে গেলাম। বলে কিছু মনে কোরো না, লক্ষ্মীটি। তুমি ছিলে দারুণ এবং চমৎকার।
তোমার কথা আমার সবসময় মনে থাকবে।
এ. ডব্লু
অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে মাথা নাড়তে নাড়তে এলিভেটরে পা বাড়াল চার্লি। ভাবছিল হোটেলে ওর বিল কত আসবে। যতই আসুক সব উসুল হয়ে গেছে। কী দারুণ ওদের সার্ভিস, এমনকী মহিলা আমার নাম পর্যন্ত জানে! আর টাকাটা পেয়ে চার্লি বেশ ফুর্তি বোধ করছে।
হেব্বি! জোরে জোরে বলল চার্লি। এই আধুনিক হোটেলগুলো সত্যি হেব্বি!
ওয়েটি প্রবলেম – ডুয়ানে ডেকার
নিজের শরীরে আঙুল বোলাচ্ছে ফ্যাটস্টাফ। পরনের কাপড় মোটা, খসখসে এবং সস্তা ঠেকল। তার মানে এটা ওর পোশাক নয়।
কেউ ভুল করেছে, বিরক্ত গলায় বলল সে। এটা আমার পোশাক নয়।
ঠিক বলেছেন, বলল নার্স। আপনার জামাকাপড় অ্যাক্সিডেন্টের সময় ছিঁড়ে গিয়েছিল। তবে এই পোশাক দিয়ে বেশ কিছুদিন কাজ চালাতে পারবেন। এগুলো স্যালভেশন আর্মির কাপড় দিয়ে তৈরি।
আচ্ছা! একটু নরম হলো ফ্যাটস্টাফ। তা আমার চোখ থেকে ব্যান্ডেজ কখন সরানো হবে শুনি?
ডাক্তার আসা মাত্র, জানাল মেয়েটা। উনি কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়বেন।
ভাল, বলল সে। ততক্ষণ আমি অপেক্ষা করতে পারব।
হাসপাতালের বালিশে আবার মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ল ফ্যাটস্টাফ। অ্যাক্সিডেন্টের কথা সব মনে পড়ছে। ওইদিন সকালে সে বার্থার বাড়ির পেছনের মাঠটা পেরিয়ে হন হন করে এগোচ্ছিল। মনে সাহস আনতে সকালবেলাতেই তিন পেগ মদ গিলেছিল ফ্যাটস্টাফ। তারপর চাদি ফাটানো রোদে বেরিয়ে পড়ে অমন দুর্বল শরীর নিয়েও।
মাঠের শেষ প্রান্তে, জঙ্গলের ধারে শুকনো কুয়োটার কাছে কোন ঝামেলা ছাড়াই পৌঁছে যায় সে। এখানেই সে কয়েক হপ্তা আগে টাকাটা লুকিয়ে রেখেছিল ঝালাই করা একটা বালতির মধ্যে। বালতিটা এখন শুকনো কুয়োর নিচে চুপচাপ বিশ্রাম নিচ্ছে।
ফ্যাটস্টাফের হাতে একটা রশি বাঁধা হুক। রশিটাকে সে কুয়োর পাশের শশাগাছের মাথায় কষে বাঁধল। তারপর ঢিল দিতে শুরু করল। হুকসহ রশিটা আস্তে আস্তে নেমে গেল কুয়োর মধ্যে। ঠং করে একটা শব্দ হতেই ফ্যাটস্টাফ বুঝল হুকটা বালতির হ্যাঁন্ডেলের মধ্যে আটকে গেছে। এখন বালতিটাকে টেনে তুললেই সে ত্রিশ হাজার ডলারের মালিক হয়ে যাবে।
কিন্তু কুয়োর দিকে ঝুঁকতেই মাথাটা বোঁ করে উঠল ফ্যাটস্টাফের। দুর্বল শরীর, তীব্র সূর্যতাপ আর মদের প্রভাব একযোগে আক্রমণ চালাল ওর ওপর। দুনিয়া আঁধার হয়ে এল, অজ্ঞান হবার পূর্ব মুহূর্তে মাথায় তীব্র বেদনা অনুভব করল ফ্যাটস্টাফ। কুয়োর মুখে প্রচন্ড বাড়ি খেয়েছে সে।
.
কটা বাজে এখন? নার্স মেয়েটাকে সময় জিজ্ঞেস করল ফ্যাটস্টাফ।
বিকেল পাঁচটা, বলল মেয়েটা। আঁতকে উঠল সে। তার মানে এখানে আসার পর ছয় ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। সন্দেহ নেই বার্থা পোমরয় বাস স্টেশনের ওদিকে তার জন্য অপেক্ষা করতে করতে অধৈর্য হয়ে উঠেছে। হয়তো সন্দেহও করছে ফ্যাটস্টাফ টাকাটা নিয়ে কেটেই পড়ল কি না। আর বার্থা রেগে গিয়ে পুলিশে ফোন করলেই কম্ম সাবাড়। সোজা শ্রীঘরে ঢুকতে হবে ফ্যাটস্টাফকে। এখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখান থেকে। তাকে চলে যেতে হবে, বার্থা ধৈর্য হারাবার আগেই তাকে পোমরয় বাস স্টেশনে পৌঁছুতে হবে।
