লম্বা করিডর। অসংখ্য সাইন পোস্ট দেখতে দেখতে বিভ্রান্ত চার্লি। সে হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিল কত মাইল লম্বা কার্পেট পাতা হয়েছে সৃষ্টিকর্তাই জানেন। প্রতিটি করিডরের দৈর্ঘ, ভবনের উচ্চতা আর ফ্লোরের সংখ্যা মাপার চেষ্টা করছিল ও। মাথা গুলিয়ে যাওয়ার মতো সংখ্যা। ও তালায় চাবি ঢুকিয়ে খুলে ফেলল দরজা।
ঘরে একটি মাত্র বাতি জ্বলছে। হয়তো মেইড এসে জ্বালিয়ে দিয়ে গেছে। এর আগে যখন ও গোসল করছিল তখন সুন্দরী মেয়েটির সঙ্গে ওর দেখা হয়ে যায়। মেয়েটি ক্ষমাপ্রার্থনার সুরে বলেছিল পরের বার এসে সে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে যাবে। চার্লি মেয়েটির আচরণে মুগ্ধ। তার মনে হয়েছে সে যতবার হাত ধোবে ততবারই কোনো না কোনো সুন্দরী মেইড পরিষ্কার তোয়ালে নিয়ে আসবে।
বাতির আলোয় সাইডবোর্ডে এক বোতল স্কচ চোখে পড়ল চার্লির। হোটেল সার্ভিসের দাক্ষিণ্য। চার্লি ভাবল হোটেল কর্তৃপক্ষ কি প্রতিটি রুমেই একটি করে ফ্রি স্কচের বোতল দেয় নাকি শুধু এরকম জমকালো সুইটগুলোতে। ও গ্লাসে হুইস্কি ঢেলে পান করল। বেডরুমের বাতি জ্বেলে নিয়ে কাপড় খুলতে লাগল। ওর পাজামা খুঁজে পেল না। তবে ও নিয়ে মাথা ঘামাল না। প্রচণ্ড ক্লান্ত শরীরে রাজ্যের ঘুম নেমে এলো।
.
প্রসন্ন, ভাবগম্ভীর চেহারা নিয়ে ঘরের কিনারে বসে ধীরে ধীরে দুটো ব্রান্ডি পান করল আমান্ডা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে উত্তেজনা। ভাবছে। ব্যাপারটা কীরকম হবে।
প্রথমবার বলে কি খুব ব্যথা পাবে? লোকটা কি ওর ওপর হামলে পড়বে নাকি আদর করবে? লোকটার হয়তো ওকে দেখে পছন্দ হলো না। চলেও যেতে পারে। কিন্তু এ ভাবনা মাথা থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করে দিল আমান্ডা। এটা কখনোই সম্ভব নয়। বিশেষ করে একজন এসকর্টের পক্ষে, কারণ এ কাজটির জন্যই তাকে ভাড়া করা হয়েছে, সে ক্লায়েন্টদের প্রতিটি নির্দেশ পালন করতে বাধ্য। তবে আমাকে তার অপছন্দ না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ও মোটা, কুৎসিত কিংবা বুড়ি কোনোটাই নয়, শুধু বয়সটা আটত্রিশ, তাও কোমর সমান চুল ছেড়ে দিলে ওকে আরও তরুণী লাগে…
এখন সময় হলো যাওয়ার। ওয়েটারকে বিল মিটিয়ে দিল। বুকের মধ্যে ধড়ফড় করছে আমান্ডার। লবি দিয়ে হাঁটছে, ঘড়িতে দেখল সাড়ে নটা বাজে।
মি. হ্যাকফোর্থ আধঘণ্টা আগেই নিশ্চয় ওর মেসেজ এবং চাবি পেয়েছে। ও পোর্টারের কাছে ২১২২ নম্বর রুমের চাবি চাইলে লোকটা ওকে স্বস্তি দিয়ে জানাল চাবিটি ইতিমধ্যে একজন নিয়ে গেছে। আমান্ডা ক্ষমাপ্রার্থনা করে এলিভেটরের দিকে এগিয়ে গেল।
লম্বা করিডর পার হয়ে ওর ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। লক্ষ করল তালায় ঝুলছে চাবি। বেশ। আস্তে করে দরজা খুলল আমান্ডা। আশা করল দেখতে পাবে লোকটি বসে আছে, তাকে স্বাগত জানাবে, সেই মানুষটা যে কেড়ে নেবে ওর সতীত্ব। কিন্তু হতাশ হলো আমান্ডা।
ঘর খালি। একমাত্র বাতিটি এখনো জ্বলছে। তবে আমান্ডা সন্তষ্ট হয়ে দেখল হুইস্কির বোতল অনেকখানি ফাঁকা হয়ে আছে। লোকটা কি বাথরুমে গেছে?
বেডরুমে ঢুকল আমান্ডা। বিস্ময় নিয়ে দেখল এক লোক শুয়ে আছে ওর বিছানায়। ওর খিলখিল করে হেসে উঠতে ইচ্ছে করল। এ যেন সেই তিন ভল্লুকের গল্পের মতো। লোকটা তো দেখছি বেয়াদব! হয়তো এরকমই হয়ে থাকে যখন ওদেরকে সরাসরি বেডরুমে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। হয়তো আমার ছোট্ট চালবাজিটি কাজে লাগেনি, পুরানো হয়ে গেছে। লোকটা তার চিঠি পড়ে গুঙিয়ে উঠে মনে মনে বলেছে, ওহ্, আবার সেই একই চালাকি! লোকটাকে দেখে মনে হচ্ছে গভীর নিদ্রামগ্ন।
ওকে ঘুম থেকে তুলবে কী তুলবে না দোটানায় পড়ল আমান্ডা। শেষে ভাবল কাপড়চোপড় ছেড়ে সরাসরি বিছানায় উঠে গেলেই হলো। তাহলে আর পরে তি হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
ও নিশব্দে বাথরুমে ঢুকে বন্ধ করে দিল দরজা। দ্রুত জামা খুলে সঙ্গে আনা কালো রঙের স্বচ্ছ নাইটিটি পরে নিল। ঘণ্টাখানেক আগেই ও গোসল সেরে অকৃপণ হস্তে সুগন্ধী ছড়িয়েছে গায়ে।
দীর্ঘ কেশের খোঁপাটি খুলে দিল আমান্ডা। চুলে ব্রাশ চালাতে চালাতে লম্বা আয়নায় দেখল নিজেকে। রোগা তবে মোটামুটি আকর্ষণীয় চেহারা, কোমর ছাপানো সিল্কি কালো চুল, নাইটগাউনের আড়ালেও ফর্সা, ধবধবে শরীরটি দৃষ্টিগোচর হয়, বড় বড় বাদামী চোখ, একটু ভীত সন্ত্রস্ত চাউনি তবে একই সঙ্গে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। বাথরুমের বাতি নিভিয়ে ও ফিরে এল বেডরুমে।
.
ঘুমের মধ্যে নড়ে উঠল চার্লি পার্কার। ঘুমের ঘোরেই ভাবল বিছানাটা হেব্বি, নরম এবং স্প্রিংয়ের মতো লাফায়। একটি মেয়েকে স্বপ্ন দেখছিল ও, স্বপ্নটা কী নিয়ে তা অবশ্য মনে নেই, তবে জায়গাটা ছিল সুন্দর কোনো হোটেল।
তবে তার অবিশ্বাস্য লাগল যখন টের পেল বেডক্লথ তুলে একটি শরীর আলগোছে ঢুকে পড়েছে বিছানায়, নারী দেহের মাদকতাময় গন্ধ, সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে পারফিউমের সুঘ্রাণ। চার্লি বসার ঘরের ছোট বাতিটি জ্বালিয়ে রেখেছে। পাশ ফিরে শুতে মৃদু আলোয় দেখতে পেল ম্যাডোনার মতো একখানা মুখ ডাগর চোখ মেলে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
নিশ্চয় কোথাও কোনো ভুল হয়েছে, ভাবছে চার্লি, এ মেয়েটি যে কোনো মুহূর্তে চিৎকার করে উঠবে। কিন্তু একজোড়া নরম হাত জড়িয়ে ধরল ওর গলা।
