.
মাস তিনেক আগে মাঝে রাতে ঘুম ভেঙে আমান্ডার বাপ চিৎকার চেঁচামেচি করে তাকে ডাকছিলেন, অনুযোগের সুরে বলছিলেন তাঁর খুব মাথা ব্যথা করছে। ড্রেসিং গাউন গায়ে চড়িয়ে আমান্ডা ছুটে যায় বাবার বেডরুমে। তারপর ডাক্তারকে ফোন করে। আধঘন্টা বাদে ডাক্তার এসে হাজির হন। কিন্তু ততক্ষণে মারা গেছেন আমান্ডার বাবা। ব্রেইন হেমারেজ, বলেন ডাক্তার।
পরের দুটো মাস নিদারুণ এক শূন্যতার মাঝে কেটে যায় আমান্ডার, জীবনে এই প্রথম অনুভব করে সে বড় একা, তাকে আর ছুটতে ছুটতে অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে হবে না, রাতের খাবার রান্না করার প্রয়োজন। নেই, শনিবার সকালে মুদি দোকানে যাওয়ার দরকার নেই। এখন সে বাইরে ঘুরতে যেতে পারে, যা খুশি দেখতে পারে, মাঝ রাতে কিংবা রাত তিনটার সময় বাসায় ফিরলেও কিছু আসে যায় না। সে এখন একা।
একদিন বাসে চড়ে কাজে যাওয়ার সময় সে খবরের কাগজের ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনে পাতায় একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পায় :
এসকর্ট সার্ভিস। মেয়েরা তোমাদের কি সুদর্শন সঙ্গী প্রয়োজন যে তোমাদের বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাবে, তোমাদের সঙ্গে ডিনার করবে, তোমাদের বন্ধুদের সঙ্গে যাকে স্বচ্ছন্দে পরিচয় করিয়ে দিতে পারবে? আমাদের পুরুষ মডেলরা ভদ্র এবং শিক্ষিত। বিস্তারিত লিখে পাঠানোর ঠিকানা…।
আমান্ডা ওই বিজ্ঞাপনটি বেশ কয়েকবার পড়েছে, ভাবছিল সে তার। নামটা পাঠিয়ে দেবে কি-না কিংবা কীভাবে ওদের ব্যাখ্যা করবে যে সে সিডিউসড হতে চায়। এক রাতে দুই গ্লাস শেরী পান করার পরে চিঠিটি লিখেই ফেলল আমান্ডা।
প্রিয় মহাশয়,
আপনাদের বিজ্ঞাপন অনুসারে, আমি আগামী শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরে আসব এবং আমার একজন এসকর্টের প্রয়োজন হবে। তাকে কমবয়েসী কিংবা খুব বেশি সুদর্শন না হলেও চলবে কারণ আমার নিজেরই বয়স আটত্রিশ। তাকে রাত নয়টায় বিলটন টাওয়ার্স হোটেলে আসতে বলবেন এবং ডেস্কে আমার খোঁজ করতে বলবেন। আমি এ চিঠির সঙ্গে ত্রিশ ডলার পাঠিয়ে দিলাম।
একান্ত আপনার
(মিস) আমান্ডা উইন্টারটন
বেশ কয়েকবার কাটাকুটির পরে চিঠিটি পড়ে সন্তুষ্ট হলো ও। সহজ সরল, ব্যবসায়িক টাইপের চিঠি। একবার ভেবেছিল ছদ্মনাম দেবে পরক্ষণে নাকচ করে দিয়েছে চিন্তাটা ওটা জটিল এবং অপ্রয়োজনীয় ভেবে। এরমধ্যে কোনো দুনম্বরী নেই। ও একটি সন্ধ্যার জন্য একজন সঙ্গী চাইছে, ব্যস। তবে লোকটি আসার পরে ঘটনা কোন্ দিকে মোড় নেয় তা দেখা যাবে।
কয়েকদিন পরেই এজেন্সি থেকে চলে এল জবাব। অ্যাপয়েন্টমেন্টের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে জনৈক মি. চার্লস হ্যাকফোর্থ শুক্রবার রাত নটা নাগাদ নির্দেশিত হোটেলে পৌঁছে যাবেন। ভদ্রলোকের পরনে থাকবে ডার্ক সুট, তবে টুক্সেডো বা ডিনার জ্যাকেটের প্রয়োজন হলে তিনি তা পরিধান করবেন। সেক্ষেত্রে ফী একটু বেশিই দিতে হবে। চিঠির শেষে, মিস উইন্টারটনকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে এসকর্ট সার্ভিসে যারা কাজ করেন তাঁরা যথার্থ ভদ্রলোক এবং তিনি নিশ্চয় অত্যন্ত সন্তুষ্টিবোধ করবেন।
সেটা পরদিন সকালে তোমাকে জানাতে পারব, মনে মনে বলল আমন্ডা।
আমান্ডা ভাবছে কত টাকা সঙ্গে নেবে। ১০০ ডলারে চলবে? লোকটাকে অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে এলে খরচা কমে যেত তবে তার বাবার স্মৃতি এখনো বড় জ্বলজ্বলে, তাছাড়া আমান্ডার ধারণা এসব কাজের জন্য হোটেল সুইটই ভালো হবে।
টেলিফোনে বিলটন টাওয়ার্সের সুইট বুক করল ও। একটু কেমন যেন অপরাধবোধ হচ্ছে। তবে পাত্তা দিল না আমান্ডা। আজ শুক্রবার রাত। এখন অফিস ত্যাগ করার সময় হলো। অন্য মেয়েগুলোর দিকে আদুরে চোখে তাকাল আমান্ডা। সোমবার সকালে ওদের সঙ্গে যখন দেখা হবে তখন ও ওদেরই একজন হবে আর কুষ্ঠরোগী হয়ে থাকবে না, কুমারীও রইবে না। তবে ওরা ব্যাপারটা খেয়াল করবে কিনা কে জানে।
.
শহরের উদ্দেশ্যে গাড়ি চালাচ্ছে চার্লি চমৎকার মুড নিয়ে। যদিও মাঝেমধ্যে নিজেকে গাল দিচ্ছে পথ চিনতে না পেরে ভুল রাস্তায় ঢুকে পড়ার জন্য। কী করে মানুষ এই ইস্পাত কাঠ পাথর আর কাঁচের জঞ্জালের মধ্যে বাস করে ভেবে পায় না সে। যাক তবু এরা চার্লির নিসর্গ ঘেরা গায়ে যে ভিড় জমায়নি তাই ই ঢের।
চার্লির ভাগ্যই বলতে হবে বুড়োটা হঠাৎ করেই তাকে টেল ট্রাক্টর কন্ট্রাক্টের কাজটা পাইয়ে দিয়েছে। এসব কাজ সাধারণত বেনই করে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বেন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে পড়ল আর বুড়ো এরকম বড় একজন মক্কেলকে হারাতে চায়নি। কাজেই চার্লিকে তার চেনাজানা গণ্ডি থেকে টেনে বের করে এনে অচেনা শহরে পাঠানো হয়েছে। ওরা ওর জন্য নামী দামী বিলটন টাওয়ার্স হোটেলে রুমও ভাড়া করেছে। এরকম দামী কোনো হোটেলে আগে কখনো থাকেনি চার্লি।
ড্রাইভিং মিররের দিকে তাকিয়ে হাসল চার্লি। তার মুখটা ভাঙাচোরা, মাথার চুল পাতলা হয়ে এসেছে। তবে চেহারা নিয়ে কখনো মাথা ঘামায়নি চার্লি। যদিও গত দুই বছর ধরে প্রতিদিন সকালে সে অনিচ্ছাসত্বেও ব্যায়াম করার চেষ্টা করছে ঠেলে ওঠা মধ্যবয়স্ক ভুড়িটাকে বাগে আনতে। কিন্তু লাভ হচ্ছে না তেমন।
সে একজন ভালো সেলসম্যান এবং নিজের কাজটিকে ভালোবাসে। চাষাভুষো মক্কেলদের অনেকেই তার বন্ধু। সে প্রচুর খায়, প্রচুর মদ পান। করে এবং মাগিবাজিও করে। বিয়েশাদী করেনি কারণ তার বিশ্বাস একজন ভালো সেলসম্যানকে কখনো বাড়ির মায়ায় জড়াতে নেই।
