হা ঈশ্বর। শ্বাস টানল বেটি। সব ঘটনা দেখছি এক সঙ্গে ঘটছে! প্রথমে ঝড় এল, তারপর ব্যাঙ্ক ডাকাতি, আর এখন হ্যারি–
ব্যাঙ্ক ডাকাতি?
রেডিওতে শোনননি? কাল রাতে ডাউনটাউনের একটা ব্যাঙ্কে ডাকাতি হয়েছে। সারা শহরে রোড ব্লক বসানো হয়েছে। আর…
বেটির কথা কানে ঢুকছে না মোনার। কাল রাতে রোড ব্লকে পড়ে কি রকম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল মনে পড়তেই পেট ফেটে হাসি এল ওর। কিন্তু নিজেকে সংবরণ করল ও। বেটি জিজ্ঞেস করল, মোনা, হ্যারি হঠাৎ করে এভাবে নিখোঁজ হওয়ার কারণ কী, বলো তো?
মোনা কোন জবাব দিল না।
পরদিন আবার এল সার্জেন্ট ব্যাঙ্কস। গৎ বাঁধা প্রশ্নগুলো করল। মোনার যখন সমস্ত জবাব ফুরিয়ে গেল, সার্জেন্ট উদাসীন মুখ করে বলল, আপনি বোধ হয় জানেন, মিসেস রোপ, আপনার স্বামী কি পরনারীতে আসক্ত ছিলেন?
মোনার আঁতকে ওঠার অভিনয়টা নিখুঁত হলো। সবাই যুবতী, বলে চলল সার্জেন্ট ব্যাঙ্কস। ধারণা করা হচ্ছে ওরা প্রত্যেকে পাইপার কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত।
মোনার চেহারা করুণ হয়ে উঠল।
এসব কেস-এ আমরা প্রথমেই যে জিনিসগুলো চেক করি তা হচ্ছে আর্থিক অবস্থা, দাম্পত্য সুখ–।
মোনা রাগের ভান করল। আমাদের আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট ভালো।
জী?
আর হ্যারী কখনও–
আমি দুঃখিত, মিসেস রোপ, বাধা দিল সার্জেন্ট। আমরা তদন্ত করে দেখেছি আপনার স্বামীর সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে তরুণী আর যুবতী কয়েকটি মেয়ের অবৈধ সম্পর্ক ছিল।
মোনা নিঃশব্দে কাঁদতে শুরু করল। সার্জেন্ট চলে যেতেই সে রান্নাঘরে ঢুকল, কাপে কফি ঢেলে তাতে বুরবন মেশাল, তারপর নীরবে পানীয়টা উৎসর্গ করল তার মৃত স্বামীর উদ্দেশ্যে : চিয়ারস, হ্যারী লোথারিও রোপ!
.
শনিবার, সার্জেন্ট ব্যাঙ্কস একটা বোমা ফাটাল। পাইপার কোম্পানিতে হ্যারীর কাগজপত্র ঘেঁটে জানা গেছে সে বেশ কিছু অর্থ আত্মসাৎ করেছে।
ক-কত টাকা পাওয়া যাচ্ছে না? জানতে চাইল মোনা।
দশ হাজার ডলারের মতো।
আপনাদের কি ধারণা হ্যারী টাকাগুলো নিয়ে পালিয়েছে?
তার সঙ্গে যে সব মেয়ের সম্পর্ক ছিল তারা কেউ পালায়নি, শুধু হ্যারী। আর টাকাগুলোর কোন খবর নেই।
আচ্ছা! বলল মোনা। এতদিনে বুঝতে পারল হ্যারী মেয়ে মানুষ নিয়ে ফুর্তি করার টাকা কোত্থেকে জোগাড় করত। এই মেয়ে ঘটিত ব্যাপার নিয়ে অনেক ঝগড়া হয়েছে তার হ্যারীর সঙ্গে। কিন্তু হ্যারী তাকে পাত্তাই দেয়নি। শেষ তক অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে মোনা। তারপর…
সত্যি, এটা খুব হৃদয়বিদারক সংবাদই বটে।
সার্জেন্ট ব্যাঙ্কসের কথায় চমক ভাঙল মোনার। চোখ তুলে চাইতেই দেখল মোনা তার দিকে চেয়ে আছে সার্জেন্ট। আমি ভাবছিলাম… ইতস্তত গলায় বলল মোনা। ভাবছিলাম কয়েকদিনের জন্যে ধরুন, ধরুন হপ্তাখানেকের জন্য যদি বাইরে যাই কেমন হয়। এই ব্যাপারটা নিয়ে কাগজে লেখালেখি হবে। বিশেষ করে যেখানে টাকা পয়সার প্রশ্ন জড়িত… আমার আসলে এখন দিন কয়েক কোথাও একা কাটিয়ে আসা দরকার।
নির্দিষ্ট কোথাও যেতে চাইছেন, মিসেস রোপ? আপনার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের প্রয়োজন হতে পারে।
লেক চার্লসের নাম শুনেছেন?
জ্বী।
ওখানে একটা বাড়ি আছে। ওখানে আমি আর হ্যারী একবার …যাকগে, কিছু ভাববেন না। বাড়িটার নাম শেডি ওকস।
ঠিক আছে, মিসেস রোপ।
তাহলে আমি যেতে পারি?
অবশ্যই পারেন।
শহর ছেড়ে ওইদিন বিকালেই বেরিয়ে পড়ল মোনা। মাইল বিশেক যাবার পর ওর সন্দেহ সত্যি বলে প্রমাণিত হলো। শেডি ওকসের আশপাশে। পুলিশি ছায়া আবিষ্কার করল মোনা। একটি যুবক বয়সের ছেলেকে ওর কাছে পিয়ে প্রায়ই ঘুরঘুর করতে দেখল সে।
মঙ্গলবার সকালে অবশ্য যুবক ভণিতা ছেড়ে নিজের পরিচয় দিয়ে বলল মোনাকে নিয়ে তার শহরে ফিরতে হবে।
আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন না হ্যারী তার দশ হাজার ডলারসহ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে? তিক্ত গলায় বলল মোনা।
আপনার স্বামীর খোঁজ পাওয়া গেছে, মিসেস রোপ। আর আমার ধারণা তিনি খুন হয়েছেন। গম্ভীর গলায় বলল সে।
হেডকোয়ার্টারে দুজন পুলিশ অফিসার জেরা করল মোনাকে। সার্জেন্ট ব্যাঙ্কস লেফটেন্যান্ট পোলিং নামে একজন অমায়িক স্বভাবের অফিসারের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দিল। পোলিং খুব বিনীতভাবে মোনার কাছে জানতে চাইল হ্যারী যেদিন নিখোঁজ হয় সেদিন আসলে কি কি ঘটেছিল। সব বিস্তারিত বর্ণনা দিল মোনা।
সপ্রতিভভাবে সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিতে পেরে নিজের ওপর খুশি হয়ে উঠল সে। মোনা জানে ওর গল্প খতিয়ে দেখা হবে, পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে। বেটি ফেয়ারচাইল্ড জানাবে ঘটনার দিন বিকালে মোনাকে সে মিউনিসিপ্যাল পুল থেকে পাঁচটার সময় সাঁতার কেটে আসতে দেখেছে, আর মোনা কখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছে তার সাক্ষী কেটে আসতে দেখেছে, আর মোনা কখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছে তার সাক্ষী দেবে রয়েস ফেয়ারচাইল্ড। আর প্যাট ওডসন বলবে সে কথা দিয়েও বুধবার রাতে মোনার সঙ্গে ছবি দেখতে যেতে পারেনি। সিনেমা হলের টিকেট বিক্রেতা মেয়েটাও মোনাকে স্মরণ করতে পারবে। বলবে হ্যাঁ, এক মহিলা ওইদিন নাইট শোতে ছবি দেখতে এসেছিলেন। ভুলে তার একটা প্যাকেট ফেলে যাচ্ছিলেন কাউন্টারে। আর ছবি দেখে মোনা কখন ফিরেছে সে ব্যাপারেও বেটি সাক্ষী দেবে। জানাবে, যখন ঝড় শুরু হয় ওই সময় সে রোপদের বাড়িতে আলো জ্বলতে দেখেছে।
