প্রশ্নপর্ব শেষ হলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচল মোনা। লেফটেন্যান্ট পোলিং মোথা ঝাঁকিয়ে নরম গলায় বলল, আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, মিসেস রোপ, আপনাকে প্রশ্ন করা আমাদের দরকার ছিল।
অবশ্যই। টাকা পয়সার ব্যাপারটাও যেহেতু এর সঙ্গে জড়িত। তবে আমি কল্পনাও করিনি হ্যারী টাকা চুরি করতে পারে।
আমরা এ জন্যই আপনাকে লেক চার্লসে যেতে দিয়েছি, বলল সার্জেন্ট ব্যাঙ্কস।
আপনারা কি ভেবেছিলেন আমার সঙ্গে হ্যারীর কোথাও সাক্ষাৎ হবে? আমি টাকার কথা কিছুই জানতাম না, সার্জেন্ট ব্যাঙ্কস। ব্যাপারটা আমার জন্যে খুবই মর্মবেদনার কারণ ছিল।
আমরা ধারণা করতে পারছি টাকাটা বেশিরভাগ কোথায় ব্যয় হয়েছে, বলল লেফটেন্যান্ট পোলিং।
মানে…হ্যারীর সঙ্গে যে সব মেয়ের সম্পর্ক ছিল তাদের কথা বলছেন?
মাথা ঝাঁকাল লেফটেন্যান্ট। আমাদের আরও সন্দেহ ওদেরই কেউ হাতুড়ির বাড়িতে মাথা ফাটিয়ে খুন করেছে হ্যারীকে।
পাথর হয়ে গেল মোনা।
আপনি নৃশংস ঘটনাটা শুনবেন, মিসেস রোপ?
মোনা জানে না সে সায় দিয়েছে কিনা, কিন্তু লেফটেন্যান্ট পোলিং গল্পটা শুরু করল: আমাদের ধারণা বুধবার রাতে আপনার স্বামী ওষুধের দোকানের কথা বললে বেরিয়ে পড়েন। হয়তো আগেই কথা হয়েছিল, কিংবা এও হতে পারে পথে মেয়েটার সঙ্গে তার দেখা হয়ে যায়। তারা সন্ধ্যাটা একত্রে কাটায়। তারপর সন্ধ্যারই কোন এক সময় মেয়েটা আপনার স্বামীকে ভারী এবং ভোঁতা কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করে। সম্ভবত হাতুড়ি জাতীয় কিছু হবে। মেয়েটাকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না। তারপর সে লাশটাকে শহরের বাইরে নিয়ে গিয়ে কবর দেয়। কবর খুঁড়ে আমরা যখন লাশটা বের করি, মুর্দার পরনে কোন কাপড় ছিল না। কিন্তু তার জামা কাপড়গুলো কবরের মধ্যেই পাওয়া গেছে। আর তার ওয়ালেট। ওটাও খালি ছিল।
লে-লেফটেনান্ট, তোতলাচ্ছে মোনা, আ-আপনি কিন্তু এখনও বলেননি কিভাবে…কিভাবে আপনার হ্যারী খোঁজ পেয়েছেন।
একটা বাচ্চার কৌতূহলের কারণে, মুখ অন্ধকার করে বলল লেফটেন্যান্ট পোলিং। একটা হাবকাপ ছিল তার কৌতূহলের কারণ। ছেলেটা ওখানে ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিল। একটা খাদের পাশে, ঝোঁপঝাড়ের মধ্যে চকচকে হাবক্যাপটা তার নজর কেড়ে নেয়। খাদটার পাশে স্তূপ করা মাটির দেখে তার নতুন কবর বলে সন্দেহ হয়। হাত দিয়ে কবরটা খুঁড়তে শুরু করে। থামল যখন নগ্ন পা জোড়া চোখে পড়ল, তখন। স্বাভাবিকভাবেই প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিল সে।
একটা…হাবক্যাপ? বিড়বিড় করে বলল মোনা।
এখন সেই গাড়িটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে যেটার চাকা থেকে জিনিসটা খুসে পড়েছে, বলল পোলিং।
পা-পারবেন?
সেটাই তো এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা, মিসেস রোপ। এ যেন খড়ের গাদায় সূঁচের সন্ধান করছি আমরা।
যদি…যদি আপনারা খোঁজ পান?
তাহলে বুঝব আমরা খুনী মেয়েটাকে পেয়ে গেছি।
.
অবিশ্বাস্য মন্থর গতিতে কাটতে লাগল দিন। খবরের কাগজে ফলাও করে হ্যারী খুনের রহস্য ছাপা হচ্ছে। পুলিশ হন্যে হয়ে হাবক্যাপবিহীন গাড়ির সন্ধানে ব্যস্ত। তারপর বেটি আর রয়েস ফেয়ারচাইল্ডদের অদম্য কৌতূহল তো আছেই। আর যতদিন যাচ্ছে, টের পাচ্ছে মোনা, ওর চারপাশে পুলিশী প্রহরার সংখ্যাও বাড়ছে। তবে পুলিশ খুনীর কোন সন্ধানই করতে পারছে না। মোনা মাত্র নিজেকে নিরাপদ ভাবতে শুরু করেছে। এই সময় মূর্তিমান আতঙ্কের মতো হাজির হলো নোকটা।
সেদিন সন্ধ্যায় মোনার দোরগোড়ায় চওড়া কাঁধের লম্বা এক লোক উপস্থিত হলো। তার পরনে নোংরা, জীর্ণ পোশাক, মুখে কৃত্রিম হাসি, ঠোঁটে সিগারেট। তার পেছনে একটি গাড়ি, ড্রাইভওয়েতে পার্ক করা।
মোনা আগন্তুককে না চেনার ভান করল। কী চাই? জিজ্ঞেস করল সে।
ভণিতা রাখুন, ম্যাম, বলল লোকটা। আমি ফ্রেড টেলর। আমাকে আপনি ভাল করেই চেনন। আমার পেছনের গাড়িটাকেও।
নিমিষে মোনার মুখের রক্ত সরে গেল।
দেখুন, আমি পুলিশের কাছে যেতে পারতাম। বলতে পারতাম এক মহিলাকে আমি চিনি, যিনি আমাদের একটা গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে হাবক্যাপ ছাড়া ওটাকে ফিরিয়ে এনেছেন।
মি. টেলর, আমি–
আপনার ছবি খবরের কাগজে ছাপা হয়েছে, মিসেস রোপ। এছাড়াও হাবক্যাপ হারানোর ঘটনাসহ আপনার স্বামীর দশ হাজার ডলার নিয়ে পলায়নের ঘটনাও বেশ রসিয়ে বর্ণনা করেছে ওরা।
ফ্রেড টেলর মোনাকে প্রায় ঠেলে ভেতরে ঢুকল, একটা চেয়ার টেনে বসল। বসে পড়ো, খুকি, ভদ্রতার মুখোশ খুলে ফেলল সে। দাঁত বের করে বলল, বসো। তোমার সঙ্গে আমার অনেক কথা আছে।
কিসের কথা? চেঁচিয়ে উঠল মোনা।
হারানো দশ হাজার ডলার সম্পর্কে, হানি। ওখান থেকে আমাকে পাঁচ দিলেই আমি একেবারে বোবা হয়ে যাব। বেশি চাইনি কিন্তু। মাত্র অর্ধেক। সিগারেট টানতে টানতে টেলর বলল, দেখো, আমি খুব ভালো করেই জানি এসব ঘটনা কিভাবে ঘটে। স্ত্রী স্বামীকে প্ররোচনা দেয় তার অফিস থেকে টাকা মারতে। দুজনে মিলে প্ল্যান প্রোগ্রাম করে। তারপর কাজ উদ্ধার হয়ে গেলে স্ত্রী বলে, চলো, দক্ষিণ আমেরিকাটা একবার ঘুরে আসি। কিন্তু স্বামী বেচারার আর দরজার বাইরে পা রাখার সৌভাগ্য হয় না। স্ত্রী তার চোদ্দটা বাজিয়ে দেয়। তারপর সে একাই মজা করতে থাকে।
