তলস্তয়-কাহিনী এখানেই হয়তো শেষ, কিন্তু সেই চিরন্তন কাহিনী আরও এগিয়ে গিয়েছে এবং কখনও শেষ হবে কি না জানিনে।
গাঁধীকে বহু অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন তলস্তয়। তিনি এই পৃথিবীতে সর্বপ্রথম, যিনি বিদেশি পাপী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র সংগ্রাম করে জয়লাভ করেন।
এবার এটম বোমা তৈরি হচ্ছে।
———–
১. লেয়ো নিকোলায়েভিচ তলস্তয়। জন্ম–ইয়ানায়া পলিয়ানা (তুলা) ৯.৯.১৮২৮; মৃত্যু আস্তাপভো (তামবভ) ২০.১১.১৯১০।
২. বার্নার্ড শ খ্রিস্ট-মুহম্মদের এক কাল্পনিক কথোপকথনের বর্ণনা দিয়েছেন তাঁর অতুলনীয় ভঙ্গিতে।
৩. Who is to be the judge of our fitness to live? said Christ. The highest authorities, the imperial governors, and the high priests find that I am unfit to live; Perhaps they are right. Precisely the same conclusion was reached concerning myself, said Muhammad. I had to run away and hide until I had convinced a sufficient number of athletic young men, that their elders were mistaken about me : that, in fact, the boot was on the other leg. Bernard Shaw, The Black Girl in Search of God, P. 57.
৪. যারা নোবেল প্রাইজের নাম শুনলেই চৈতন্য হারান তাদের বলে দেওয়া ভালো যে, ওই প্রাইজ যদিও ১৯০১ খ্রি. থেকে দেওয়া আরম্ভ হয়, ও তলস্তয় ১৯১০-এ গত হন, তিনি এটি পাননি।
দশের মুখ খুদার তবল
ইংরেজ খায় জব্বর একখানা ব্রেকফাস্ট! শুধু তাই নয়, অনেক ইংরেজ ঘুম থেকে উঠে বেড-টির সঙ্গে খায় একটি কলা কিংবা আপেল এবং একখানা বিস্কুট।
তার পর ব্রেকফাস্ট। দীর্ঘ সে ভোজন; আমি সংক্ষেপে সারি। যদি সে ইংরেজ ঈষৎ মার্কিন-ঘেঁষা হয়, তবে সে আরম্ভ করবে গ্রেপ ফুট দিয়ে। তার পর খাবে পরিজ কিংবা কর্নফ্লেক, মেশাবে এক জগ দুধের সঙ্গে, কেউ কেউ আবার তার সঙ্গে দেবে চাকতি-চাকতি কলা এবং চিনি। ইতোমধ্যে আরম্ভ হয়ে যাবে তবলা বাদ্য, অর্থাৎ সঙ্গে সঙ্গে টোস্ট-মাখন খাওয়া। শেষ সময় পর্যন্ত এই তবলা বাদ্য বন্ধ হবে না। তার পর ভোজনরসিক খাবেন কিপারস (মাছ) ভাজা– অনেকটা লোনা ইলিশের ফালির মতো— তার পর খাবেন এ্যাব্বড়া এ্যাব্বড়া দুটো আণ্ডা ফ্রাই (আকারে এ-দেশি চারটে ডিমের সাইজ) তৎসহযোগে বেকন আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, টোস্ট-মাখনের তবলা কখনও বন্ধ হবে না এবং এর পর টেনে আনবে মার্মলেডের বোতল। খাবে নিদেন আরও খানচারেক টোস্ট ওই মার্মলেডসহ। এবং চা কিংবা কফি তো আছেই। বাস!
ফরাসি-জর্মন ব্রেকফাস্টে খায় যৎসামান্য রুটি মাখন আর কফি। খানদানি ফরাসি মাখনও খায় না বলে, ফরাসি রুটির যে আপন উত্তম সোয়াদ আছে সেটা মাখনের স্পর্শে বরবাদ হয়ে যায়।
লাঞ্চের বেলা ইংরেজ খায় যৎকিঞ্চিৎ। ফরাসি-জর্মন করে গুরুভোজন।
রাত্রিবেলা ইংরেজ করে শুরুভোজন। জর্মন খায় অত্যল্প। রুটির সঙ্গে সসিজ, কিংবা চিজ এবং ফিকে পানসে চা। যাসব খাবে সাকুল্যে মালই ঠাণ্ডা, শুধু চা-টাই গরম।
এবারে গিয়ে দেখি হইহই রইরই কাণ্ড ডিনারের বেলায়ও। অবশ্য সবকিছুই ঠাণ্ডা খাওয়ার ঐতিহ্য সে এখনও ছাড়েনি।
এবারে দেখি পাঁচ রকমের সসিজ, তিন রকমের চিজ এবং টুবের খাদ্যের ছড়াছড়ি। আমরা যেরকম টুব থেকে টুথপেস্ট বের করি, এরা তেমনি বের করতে থাকে কোনও টুব থেকে মাস্টার্ড, কোনওটা থেকে টমাটো সস, কোনওটা থেকে মাছের পেস্ট। শুনেছি, দেখিনি, মাংসের পেস্টভর্তি টুবও হয়। কোনও জিনিসের অভাব নেই। দামের পরোয়া করো না, যত পার খাও।
রাস্তায়ও দেখি, আগে যে রাস্তায় ছিল একখানা খাদ্যদ্রব্যের দোকান (লেবেনস মিটেল গেশেফট-কলোনিয়াল ভারেন) এখন সেখানে চারখানা। কারও বাড়িতে যাওয়া মাত্রই সে কোনও কথা না বলেই বের করে উত্তম রাইন মজেল (হক রেনিশ) তাজা বিয়ার ইস্তেক স্কচ হুইস্কি, মার্কিন সিগারেট।
বড় আনন্দ হল এসব দেখে খাক না বেচারীরা প্রাণভরে। এই সে সেভন ডেজ ওয়ান্ডার তিন দিনের ভেল্কিবাজি– এ যে কখন বিনা নোটিসে বন্ধ হয়ে যাবে কে জানে। অতএব খাও-দাও ফুর্তি কর। হেসে নাও, দু দিন বই তো নয়।
এ তত্ত্বটি জর্মনরাও বিলক্ষণ জানে।
হামবুর্গে আমি যে পাড়ায় থাকতুম সেটা শহরতলীতে। অন্যত্র যেমন এখানেও পাড়ার পাবটি ওই অঞ্চলের সামাজিক কেন্দ্রভূমি। দেশের লোকে কী ভাবে, কী বলে, পাবে না গিয়ে জানার উপায় নেই। গুণীজ্ঞানীরা কী ভাবেন, সেটা জানা যায় অনায়াসে–বই, খবরের কাগজ পড়ে। কিন্তু পাবের গাহকরা গুণী-জ্ঞানী নয়; তারা বই লেখে না, লেকচার ঝাড়ে না। অথচ এরাই দেশের মেরুদণ্ড।
এখানে কায়দামাফিক একে অন্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় না। পাশের লোকটির সঙ্গে গালগল্প জুড়ে দিলুম।
বললুম, যুদ্ধের পর ঠিক এই যে প্রথম এলুম তা নয়। বছর দুই পূর্বে এসেছিলুম মাত্র দু দিনের তরে। কোনও একটা পাবে যাবার ফুরসত পর্যন্ত হয়নি। এবারে তার শোধ নেব।
শুধাল, কীরকম লাগছে পরিবর্তনটা?
আমি বললুম, অবিশ্বাস্য! এত ধন-দৌলত যে কোনও জাতের হতে পারে, আমি কল্পনাও করতে পারিনি।
লোকটি হেসে বলল, তা তোমরাও তো এককালে খুব ধনী ছিলে। সেদিন আমি খবরের কাগজে একটা ব্যঙ্গ-চিত্র দেখেছিলুম। তোমাদের তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে এক মার্কিন ট্যুরিস্ট তার স্ত্রীকে বলছে, ফ্যাসি! এসব জিনিস তারা এমেরিকান এড় ছাড়াই তৈরি করেছিল।
