মাইরি বলছি। মা কালীর দিব্যি।
এ কে রে? দিব্যিটিব্যি করছে। কোন মন্ত্রী?
তা বলতে পারব না, আপনারা তো সব নতুন। চেহারাটা মোটা মতন। চোখে চশমা।
অ্যাঁ, সে তাহলে আমাদের পূর্তমন্ত্রী। মরেছে, গর্তট দেখতে গিয়ে পা সিলিপ করে পড়ে গেছে।
না না সিলিপ করে নিজে থেকে পড়েনি। পাবলিক ফেলে দিয়ে ঘিরে রেখেছে। সে খুব তামাশা হচ্ছে। স্যার যেই ওঠার চেষ্টা করছেন, পাবলিকে পেঁদিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে।
আমারও এক সময় খুব মাইরি বলার অভ্যাস ছিল। রকে বসেছি, চায়ের দোকানে বসেছি, আলুর চপ খেয়েছি। মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল, মাইরি। পরে সামলে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীসুলভ একটা হুঙ্কার ছাড়লুম, অ্যায়, একে বের করে দাও। লোকটা কথা বলতে শেখেনি।
লোকটি অবাক হয়ে বললে, জনগণ এইভাবেই কথা বলে, আর আপনারা তো জনগণেরই সরকার!
না, আমরা জনগণের সরকার নই।
লোকটি তবু বললে, যাঃ মাইরি।
চলে যাচ্ছিল, ডেকে জিগ্যেস করলুম, কোন রাস্তায় পড়ে আছে?
ওস্তাগার লেনে।
ওখানে কী করতে গিয়ে মরেছে কে জানে! মরার আর জায়গা পেলে না। পি-এ কে বললুম, ফায়ার সার্ভিসের ডিরেক্টার। সঙ্গে সঙ্গে লাইনে ভদ্রলোক এসে গেলেন, প্রথমে তো বুঝতেই পারেন না। কেবল বলেন, গর্তে মোষ পড়েছে তো কী হয়েছে স্যার। ও খাটালের লোকেরা। দড়িটড়ি বেঁধে চাগাড় দিয়ে তুলে নেবে।
এক দাবড়ানি দিয়ে বললুম, ধুর মশাই, কানের মাথা খেয়েছেন। গর্তে মোষ নয় মন্ত্রী পড়েছেন। আপনাদের পূর্তমন্ত্রী। ভদ্রলোক আক্ষেপ করে বললেন, এই সবে নতুন নতুন মন্ত্রী হয়েছেন। ভালো করে হাঁটতে শেখেননি। কলকাতায় পথচলা কি অতই সহজ রে বাবা! তেনজিং নোরগের মতো লোক আসতে ভয় পেত।
আমাদের ক্যাবিনেট ভেঙে গেল। আমার কলিগরা বললেন, চলুন স্যার, আমরা সবাই একবার যাই।
মন্ত্রী গর্তে পড়লে মুখ্যমন্ত্রীরা আগে কখনও গেছেন? নজির দেখাতে পারবেন?
কী আশ্চর্য! আগে কোনও মন্ত্রী তো গর্তে পড়েননি এভাবে। দিস ইজ দি ফার্স্ট কেস। নজির থাকবেটা কী করে! একবার এক মন্ত্রীর কানটা, বস্তির এক মেয়ে কামড়ে ছিঁড়ে নেবার চেষ্টা করেছিল। তাও সবটা পারেনি। আর বয়স্কা মহিলারা মুড়োঝাঁটা জলে ভিজিয়ে সপাসপ মেরেছিল। মন্ত্রী প্রথমে রেগে গিয়েছিলেন। তারপর খুব খুশি হয়েছিলেন।
খুশি হয়েছিলেন কেন?
ওই যে নিরক্ষর স্বাক্ষর হয়েছে। বিদ্যাসাগর মশাইয়ের দ্বিতীয়ভাগ পড়েছে বলেই না ভুবনের মতো মাসির কান কামড়েছে। খালি লিঙ্গ জ্ঞানটা ছিল না। তারপরেই তো বিদ্যাসাগর পুরস্কার চালু হল!
এই ঘটনার পর আমরা কী পুরস্কার চালু করব?
বাবা বৈদ্যনাথ পুরস্কার। বৈদ্যনাথ ধামে গিয়ে দেখবেন শিবলিঙ্গ মাটির ভেতর রাবণরাজার থাবড়া খেয়ে দশ হাত ঢুকে গেছেন। আমরা বৈদ্যনাথ পুরস্কার চালু করতে পারি। এপিকধর্মী উপন্যাসের জন্যে।
এপিক। এপিক লেখার মতো সাহিত্যিক বাংলা সাহিত্যে আছে? ওই তো সব সাহিত্যের ছিরি! বড়গল্পকে টেনে বাড়িয়ে উপন্যাস বলে চালায়। এপিক লেখার মতো সব কবজির জোর আছে নাকি!
আমরা বেদব্যাসকে পঙ্গুমাস অ্যাওয়ার্ড দিয়ে স্টার্ট করব।
হ্যাঁ, তা অবশ্য করতে পারি। একটা ভালো উদাহরণ হয়ে থাকবে। প্রবলেম হল পুরস্কারটা নেবে কে?
কেন? আমরা তাঁর বংশধরকে খুঁজে বের করব। বংশ লোপাট হয়ে যায়নি তো!
আমি সেনশর্মার দিকে তাকিয়ে বললুম, কী মশাই! আপনাদের মডার্ন ম্যানেজমেন্ট টেকনিকে একেই তো বলে ব্রেন-স্টর্মিং। মাথা থেকে কীরকম সব বেরোচ্ছে। মণিমাণিক্য। এরপর আমরা বাল্মীকিকে, তারপর শ্রীকৃষ্ণকে গীতা লেখার জন্যে বৈদ্যনাথ পুরস্কার দেব। একটা বৈপ্লবিক ব্যাপার করে ছাড়ব।
সেক্রেটারি কানে কানে বললে, স্যার পূর্তমন্ত্রী গর্তে পড়ে আছেন।
ওঁয়া ওঁয়া করে আমার গাড়ি ছুটল। গাড়িতে আমার পাশে বসেছিলেন পুরমন্ত্রী। জিগ্যেস করলুম, এই শহরের মেয়র কোথায়?
তাঁর তো সুইজারল্যান্ড থেকে ফিরে এসেই ম্যালিগনেন্ট ম্যালেরিয়া হয়েছে।
সুইজারল্যান্ড গিয়েছিলেন কেন?
শহর কী করে সাজাতে হয় দেখার জন্যে।
নিজের পয়সায়?
না না, পাবলিকের পয়সায়।
বেশ আছে সব।
না না, ও বলবেন না। এরপর তো আমাকেও যেতে হবে।
কোথায় যাবেন?
এই তো সামনের মাসে আমি ইউরোপের সবকটা বড় বড় শহর ঘুরে ঘুরে দেখব।
কী দেখবেন?
ইউরিন্যাল। কলকাতার পেচ্ছাপ-সমস্যার একটা পজেটিভ সমাধান চাই। সেদিন কাগজে চিঠিপত্র বিভাগে সব চিঠি লিখেছে মেয়েরা। দামড়ারা অসভ্যের মতো চৌরঙ্গি ফ্লাড করে দিচ্ছে।
পাঁচ আইনে কয়েকটাকে তো প্যাঁচ মারলেই হয়। এই সামান্য কারণে সাধারণের অর্থে ইউরোপ!
আপনি তো নেগেটিভ সলিউশানের কথা বলছেন। পজেটিভ সলিউশান হল, করো। যত খুশি, যেখানে খুশি করো, কিন্তু জনগণমূত্র ধারণের জন্যে প্রশাসন পিছপা নয়। চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজন। হলে মূত্রমন্ত্রীর পদ তৈরি হবে।
সলিউশানটা কী?
সেইটেই তো শিখে আসব। ধরুন, এমন কোনও ইলেকট্রনিক সিস্টেম, যেখানেই করুন একটা ইলেকট্রনিক চোঙা মাটি খুঁড়ে বেরিয়ে এসে সামনে দুলবে আর বিপবিপ শব্দ করবে।
মাথাটা গেছে। তা ইলেকট্রনিক্সের কথা যখন ভাবছেন, তখন ইলেকট্রনিক্সের দেশ জাপানে। যান।
ইউরোপে যাবার আর একটা কারণও আছে, যদি আবর্জনাভুক কোনও প্রাণীর সন্ধান পাই।
