তা হলে আমরা হেল্পলেস?
অনেকটা তাই। প্যারালাল অর্থনীতির মতো প্যারালাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশান তৈরি হয়েছে।
তা হলে আপনারা কী করতে আছেন?
ফসলের মাঠে কাকতাড়ুয়া কী করতে থাকে? কোনও কাক ভয় পেল তো পেল, না পেলে হাঁড়ির মাথায় বসে পায়খানা করে দিয়ে গেল।
বিজনেস হাউস, পলিটিক্যাল পার্টিস যদি পারচেজ করতে পারে, আমরা কেন পারব না! শ খানেক কি শ-দুই মাস্তানের দাম কত?
অনেক অনেক অনেক। ফ্যাবুলাস অ্যামাউন্ট। বাপ কখনও ছেলেকে পারচেজ করতে পারে? আইদার তাকে ভালোবাসতে হবে অর তাকে শাসন করতে হবে। আপনাদের ভূমিকা বাপের ভূমিকা। গত পঞ্চাশ বছরের ইউডালজেনসে সব ভেটকে গেছে। এখন আর কোনও উপায় নেই। নাথিং ডুইং।
আপনারা এই কথা বলছেন?
আপনারাই বা কী কথা বলে এসেছেন এতকাল। ওপর দিকে থুতু ছেটালে নিজের গায়েই এসে পড়ে। দেন ডোন্ট স্পিট। সোয়ালো। আমাদের এই ইউনিফর্ম আছে, কোমরে একটা করে জং ধরা পিস্তল আছে। এ দিয়ে মডার্ন ক্রিমিনালদের আমরা কী করব? তেড়ে পেটাতে গেলে চিফ মিনিস্টার বলবেন, এ আপনি কী করলেন, এটা স্বাধীন দেশ, উগান্ডা, আর্জেন্টিনা, নিকারাগুয়া নয়, প্রিটোরিয়া নয়। ফলে আমরা সব সাক্ষীগোপাল।
এ তো মহা মুশকিল! রাজ্য চালাব কী করে?
চালাবেন না। শুধু বক্তৃতা দিয়ে যান আর বিদেশ ভ্রমণ করুন। স্টেট নামক লটারিটা যখন পেয়ে গেছেন যে কদিন আছেন, আখের গুছিয়ে নিন।
সিনিয়ার পুলিশ অফিসার হয়ে এই সব কথা বলছেন?
আপনি তো জানেন সব। আমি শুধু বলেছি। আপনি তো আর নাবালক নন। আর দিন কয়েকের মধ্যেই তো আপনি বিক্রি হয়ে যাবেন।
বিক্রি হয়ে যাব মানে?
নিলাম হয়ে যাবেন। হায়েস্ট বিডার এসে আপনাকে কিনে নেবে। আগেও তাই হয়েছে। এখনও তাই হবে। দামটা কেবল মনে মনে হিসেব করে রাখুন। মিনিমাম কত আপনি আশা করেন।
আপনাকে ট্রানসফার করতে ইচ্ছে করছে।
করবেই, কারণ ওইটুকুই আপনার ক্ষমতা। একদা আমাদের দেশে একজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, যিনি জামা পালটাবার মতো রোজ মন্ত্রী পালটাতেন আর অফিসারদের বদলি করতেন। তারপর। তারপর আপনি জানেন।
আমি একটু থমকে গেলুম। সেই প্রধানমন্ত্রী কেন, আরও অনেক প্রধানমন্ত্রীর কথা মনে পড়ে গেল। সকলেই চেলাচামুন্ডা পরিবৃত হয়ে রাজত্ব করে গেছেন। একার জোরে সিংহাসনে বসে থাকা যায় না। গণতন্ত্রের এই এক দোষ। কোটি মানুষের মন জুগিয়ে চলতে হবে। চেলারা ডোবালে ডুববে। ভাসালে ভাসবে। প্রবীণ এই অফিসারকে চটালে চলবে না। সারেন্ডার করলুম। বললুম, আপনি তো অনেক কিছু জানেন। অভিজ্ঞ মানুষ। বলতে পারেন, আমাদের পরমায়ু কত দিন?
বেশি দিন নয়। দেখছেন না, তাই তেমন গা করছি না। এই টেবিল, এই চেয়ার সাধ্য-সাধনার জিনিস। আপনি বসে আছেন, মনে হচ্ছে পাখির ডালে বসা। এখনি উড়ে যেতে হবে।
সরে বসব?
না, না, সেটা আবার বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। যদ্দিন পারেন অস্বস্তি হলেও বসে থাকুন।
কিছু করা যায় না?
আপনাদের ক্যাডার আছে? হয় গুন্ডা না হয় ক্যাডার, যে-কোনও একটা চাই।
আজকাল বিয়েবাড়ি যেমন ক্যাটারিং এজেনসি সামলায়, সেইরকম ক্যাডার সাপ্লাইয়ের জন্যে কোনও এজেনসি নেই?
ক্যাডার আপনার ভিয়েন করে করতে হয়। ও কেউ সাপ্লাই করতে পারে না। ওসব চিন্তা ছাড়ুন। ভগবানকে ডাকুন।
কমিশনার চলে গেলেন। ঘরে আদুরে চেহারার এক ভদ্রলোক ঢুকলেন। বগলে অনেক ফাইলপত্র।
আপনি কে?
ইনফরমেশান অ্যান্ড পাবলিক রিলেশানস-এর সেক্রেটারি।
বসুন।
আজকের পেপার কাটিংস। দেখবেন তো?
কী লিখছে?
বেশ সব ড্যামেজিং কথাবার্তা আছে। আপনাদের ফেভারে কেউ তেমন লেখেনি।
বয়ে গেল।
বয়ে গেল কী স্যার! এমন কোনও সরকার নেই যাঁরা প্রেসকে ভয় পান না। পাওয়ারফুল মিডিয়া। একটা কাজ তো আপনাদের বলছে, ডেবরিজ সরকার। ভাঙা ইটপাটকেল দিয়ে তৈরি।
প্রতিবাদ করুন। এডিটরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করুন।
তা হয় না। প্রথম দিন থেকেই মামলা-মোকর্দমা। সেটা তো ঠিক হবে না। এখন তো আপনাদের ইমেজ বিলডিং-এর সময়।
তা হলে এডিটরকে ডেকে মেঠাইমন্ডা খাওয়ান।
আমাদের তো এক কাপ চা আর গুনে ঠিক দুটো কাজুবাদাম ছাড়া আর তো কিছু খাওয়াবার সংস্থান নেই। আমি পেপার ক্লিপিংসগুলো রেখে যাই, সময় মতো দেখবেন।
দেখে কী হবে? কিছু তো করার উপায় নেই।
নিজেদের সংশোধন করতে পারবেন। আর একটু স্মার্ট হতে পারবেন। একটা বাংলা কাগজ তো আপনাদের এলেবেলে সরকার বলেছে।
তাতে আপনার কী? আপনার খুব আনন্দ হয়েছে মনে হচ্ছে?
আমার আনন্দ হবে কেন। খুব দুঃখ হয়েছে। আপনার ওই চেয়ারে কারা বসে গেছেন জানেন? ডক্টর রায়, জ্যোতি বসু।
সবাই তো আর চিরদিন থাকেন না। আজ আমরা এসেছি। আপনি একটা বড় করে প্রেস কনফারেনস ডাকুন।
কনফারেনস ডেকে কী হবে। আপনাদের তো কোনও কর্ম পরিকল্পনা নেই।
আপনি আমাদের স্টেট লটারির ডিরেকটারকে ডেকে পাঠান। বলুন সি এম চাইছেন ওই ড্রাম ঘুরিয়ে ফাস্ট সেকেন্ড থার্ড নয়, দেশের মানুষের কাছ থেকে জনগণের কাছ থেকে দেশ গঠনের পরিকল্পনা চেয়ে পাঠাতে। প্রতি সপ্তাহে বেস্ট পরিকল্পনাদাতাকে ফার্স্ট প্রাইজ দেওয়া হবে।
লটারির ডিরেকটার কী করবেন? লটারি স্টেটের একটা বড় ইনকাম। সেটাকে বন্ধ করলে কর্মচারীদের মাইনে বন্ধ হয়ে যাবে। হাজার হাজার লটারির টিকিট বিক্রি হবে কী করে? না না, আপনার মাথায় এখনও তেমন কিছু আসছে না। আপনি আরও একটু ভাবুন। আপনার মন্ত্রীদের নিয়ে বসে আগে একটা এ ক্লাস পরিকল্পনা তৈরি করুন। আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টিভি আর রেডিয়োতে ঠেসে কিছু ভাষণ দিন। আপনার ভাষণ আমি শুনিনি, কেমন আসে? জ্যোতিবাবুর মতো হয়?
