Even men who are happily married to women in all chief respects fitted to them, are apt to fell, after some years of married life, a mysterious eraving for variety. তোমরা আমাদের এতকাল খাইয়াছ, এইবার আমরাও তোমাদের খাইব। কৃষ্ণের অপরাধের বদলা লইব। শ্রীরাধিকার প্রেম লইয়া ছিনিমিনি খেলিয়াছেন। যমুনাপুলিনে কড়কড়ডুমা করিয়াছেন। রাসলীলার নাম করিয়া, কুঞ্জকাননের দুয়ার রুদ্ধ করিয়া অরগিয়্যাস্টিক সেক্সের প্রচলন করিয়াছিলেন সেই দ্বাপরেই। তাঁহার জীবনকাহিনি যেহেতু পুরুষের হাতের নির্মাণ সেই হেতু তিনি অবতার। তিনি সখা অর্জুনকে ‘ইলোপ’ করিতে শিখাইয়াছিলেন।
উত্তম প্রস্তাব। দুই রিপাবলিকে পৃথিবী দ্বিধাবিভক্ত হইয়া যাউক। মধ্যে বার্লিন ওয়াল। এপার্শ্বে নারী সাম্রাজ্য, ওই পার্শ্বে পুরুষ সাম্রাজ্য। জনসংখ্যা যাহা আছে তাহাই রহিল। পুরুষদের দিকের জনসংখ্যা ক্রমেই তো কমিবে। অসুখে মরিবে, যুদ্ধে মরিবে, বয়সে মরিবে। বাড়াইবার উপায়। তো প্রাচীরের ওই পার্শ্বে, নারী সাম্রাজ্যে। উপায় কী হইবে! নারীর সংখ্যাও তো কমিতে থাকিবে। তখন চুক্তি হইবে। একালের ‘গ্যাট’ চুক্তির ন্যায়। ‘ডাংকেল’ প্রস্তাব যাইবে। পুরুষ রিপাবলিকেই। তো থাকিবে ‘স্পার্ম ব্যাঙ্ক’। প্রাচীর টপকাইয়া ওইপার্শ্বে যাইবে ‘স্পার্ম’। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সন্তান পুরুষ হইলে পুরুষদের দিকে চলিয়া আসিবে। এখন প্রশ্ন হইল পশুদের কী হইবে। গাভী সকল ওই দিকে চলিয়া গেলে, ষণ্ড সকল এই দিকেই থাকিবে। উভয় রিপাবলিকের তত্বাবধানে সীমানা বরাবর এই পার্শ্ব ও ওই পার্শ্বেমিলিয়া একটি মুক্তাঞ্চল তৈয়ার হইবে, সেই স্থানে। প্রয়োজন অনুযায়ী গাভীদের সহিত ষণ্ডের, ঘোটকের সহিত ঘোটকীর, সরমার সহিত সারমেয়র মিলন হইবে। হটকারী হইলে চলিবে না। সৃষ্টিকে তো রক্ষা করিতে হইবে।
আর একটি বিষয়ও ভাবিতে হইবে। পূর্বে দেখিয়াছি স্বাস্থ্যের কারণে যাঁহারা অহিফেন সেবন করিতে বাধ্য হইতেন তাঁহাদের জন্য আবগারি বিভাগ ‘ওপিয়াম পারমিট’ দিতেন। প্রয়োজনে চিকিৎসকগণ ব্যবস্থাপত্রে ‘ভাইনাস গ্যালেসিয়া’ লিখিয়া দিতেন। সেইরূপ, যদি এমন হয় নারী রিপাবলিকে কোনও নারী পুরুষের সহিত সহবাসে বঞ্চিত হইয়া উন্মাদিনীর ন্যায় আঁচড়াইতেছেন, কামড়াইতেছেন, কোনও ভাবেই শান্ত করা যাইতেছে না এবং ওই মানসিক ব্যাধি ক্রমশই মহামারির আকার ধারণ করিতেছে, যেমন প্লেগের সময় হইয়াছিল, তখন রেডক্রসের অনুকরণে স্থাপিত একটি সংস্থা পুরুষ রিপাবলিক হইতে স্বেচ্ছাসেবক লইয়া যাইবে। যুদ্ধের সময় তো উলটোটাই হয়। ফ্রন্টে যোদ্ধাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখিবার জন্য। সেক্সওয়ার্কার পাঠানো হইয়া থাকে। জৈবক্ষুধা তো প্রকৃতিরই দান। কে কী করিবে বাবা! রেমার্কের গ্রন্থে পাঠ করিয়াছি, আহত সৈনিককে হাসপাতালে দেখিতে আসিয়াছে তাহার স্ত্রী। দীর্ঘ অদর্শনের পর মিলনের সৌভাগ্য। সৈন্য তাহার আঘাত যন্ত্রণা উপেক্ষা করিয়া সেই রমণীকে সাপটাইয়া ধরিয়াছে। সেবিকা তাহাদের ওপর একটি চাদর ফেলিয়া দিয়াছেন। চাদর উঠিতেছে চাদর পড়িতেছে।
এলিয়েট সাহেব তাঁহার বিষণ্ণতায় লিখিয়াছিলেন, মানবজীবনের আর কোনও অর্থ খুঁজিয়া পাইলাম না, একটিই অর্থ দেখিতেছি, birth copulation and death তৎপূর্বে বঙ্কিমচন্দ্রও একই কথা বলিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ প্রশ্ন করিয়াছিলেন, মানুষের কর্তব্য কী? বঙ্কিম সহাস্যে। বলিয়াছিলেন, আজ্ঞা, তা যদি বলেন, তাহলে আহার, নিদ্রা ও মৈথুন। শ্রীরামকৃষ্ণ বিরক্ত হইয়া বলিয়াছিলেন—এঃ! তুমি তো বড় ছ্যাঁচড়া!
নারী ও পুরুষকে শ্রীরামকৃষ্ণ ঘৃত ও অগ্নির সহিত তুলনা করিয়াছেন। একত্রে থাকিলে বিপর্যয়। কলিন উইলসন সাহেব একই কথা অন্যভাবে বলিলেন, …Sexual desire, in its simplest form, is a demand of the sexual organ, associated with it in exactly the same way that magnetion is associated with a magnet অর্থাৎ চুম্বকের চুম্বকত্বের মতোই। ইন্দ্রিয়কে উৎপাটিত করা অসম্ভব। অতএব রাষ্ট্রপুঞ্জের ন্যায় একটি সংস্থা রাখিতেই হইবে, তাহা না হইলে প্রাচীরের উভয়পার্শ্বে উন্মাদ আর উন্মাদিনীদের নৃত্য শুরু হইবে।
নারীশূন্য জীবনে পুরুষদের খুব একটা অসুবিধা হইবার কথা নয়। ‘মাগি’ আমিও প্রস্তুত করিতে পারি। প্রাচীনেরা পরলোকে চলিয়া যাইবার পর সুপ্ত ব্যঞ্জনের বিলাসিতা ঘুচিয়া গিয়াছে। প্রাতের প্রথম কাপ চা নিজেই প্রস্তুত করি। ফিলটার হইতে জল গড়াইয়া খাই। প্রেসারকুকারে এক আঙুল পরিমাণ জল দিয়া ঝরঝরে ভাত রাঁধিতে পারি। আলুর খোসা পর্যন্ত ছুলিতে শিখিয়াছি। সমস্যা মৎস্য লইয়া, তবে বলিতে দ্বিধা নাই, অখণ্ড মাংসের ‘অ্যানাটমি’ আধুনিকারাও সম্যক অবগত নহেন। কোথায় পায়ু, কোথায় পিত্তস্থলী। ‘কাটাপোনা’ ভিন্ন পৃথিবীতে আরও যে বহুবিধ মৎস্য আছে, ইহা তাঁহারা ভুলিতে বসিয়াছেন। এই সমস্যার সমাধান বাজারের পুরুষ মৎস্য ব্যবসায়ী আজও যেভাবে করিতেছেন ভবিষ্যতেও সেইভাবেই করিবেন। আমার এক পুরুষবাদী বন্ধু একথা সগর্বে বলিয়াছিলেন—’মেয়েরা আবার কবে রাঁধিতে শিখলে! দৌড় তো ওই মাছের ঝোল, ভাত, আলুভাতে, তেঁড়সভাতে, আলুভাজাটাও শিখলে না। টেস্টলেস ডাল। বললেই, বলবে সুপের কায়দায় রান্না। শিল-নোড়ার ধারে কাছে যায় না, তো বাটি পোস্ত! আলো চালের পিণ্ডি পাকিয়ে বলবে, পিসপাস। দেখ গে যা, যত পাঁচতারা হোটেলের শেফ, পুরুষ।’
