বালা, বালা করে দেখছি পাগল হয়ে যাবে। ঠিক আছে আজই আমি নতুন বউয়ের হাত থেকে বালা খুলে এনে তোমার নাকের ডগায় ছুড়ে ফেলে দেব। কঞ্জুস কাঁহাকা।
মুখ সামলে। ডোন্ট ফরগেট, আই অ্যাম ইওর হাজব্যান্ড। গুরুজন। তুমি হিন্দু নারী। পতি পরম গুরু।
সেরকম পতি হলে গুরু বলে মান্য করা যায়। তোমার মতো পতির পত্নী হয়েছি এই তোমার সাত পুরুষের ভাগ্য।
তাই নাকি? বেশ বুলি ফুটেছে তো! আর যে বাড়ির মেয়ে, কথাবার্তায় এর থেকে ভালো ছিরি অবশ্য এক্সপেক্ট করা যায় না। মোস্ট আনসিভিলাইজড রুট।
আমাকে বলছ বলো, খবরদার বাড়ি তুলবে না। বাড়ি তোলা মানেই বাপ তোলা। জেনেশুনেই তো বিয়ে করেছিলে। কে বলেছিল বিয়ে করতে, না করলেই পারতে।
তাই নাকি? মনে নেই, তোমার মা যখন হাতে ধরে কান্নাকাটি করেছিলেন, বাবা আমার মেয়েটাকে নাও, মেয়েটাকে নাও বড় ভালো মেয়ে, তোমাকে একটু ইয়েও করে।
মা-র বয়ে গেছে তোমার হাতে ধরতে, আমারও বয়ে গেছে তোমাকে ইয়ে করতে। কত ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, ব্যারিস্টার ছিল। আচ্ছা আচ্ছা সব ছেলে ছিল।
হ্যাঁ, হ্যাঁ জানা আছে। হাজার টাকায় ব্যারিস্টার জুটত?
হাজার কেন, দরকার হলে বাবা পঞ্চাশ হাজার খরচ করতেন। টাকার অভাব ছিল না কি?
ও, টাকার অভাব ছিল না? তাহলে আমার বেলায় দায়সারা করলেন কেন চাঁদু?
তোমার মতো বস্তুর জন্যে যে দাম দেওয়া উচিত তাই দিয়েছেন। প্রতিমা শেষ তোপটা দেগে দিয়ে উত্তরের অপেক্ষা না করেই ফরফর করে ঘর ছেড়ে চলে গেল। সাবান গোলা এককাপ চা নিয়ে ক্রেস্টফলন, বঙ্কিম ছড়ানো দাড়ি কামাবার সামগ্রীর মধ্যে কিছুক্ষণ গুম হয়ে বসে রইল। পেটে শ্বশুরবাড়ির বদহজমের মাল। মনে প্রতিমার খোঁচা। চিবুকে অস্পষ্ট দাড়ি খিচখিচ করছে। অন্যদিনের মতো ভেলভেট সফট হয়নি।
আয়নায় নিজের মুখের প্রতিফলন-এর দিকে বঙ্কিম ফ্যালফ্যাল করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। আয়নার মুখ যেন বলছে, হায় বঙ্কিম, কা তব কান্তা, কস্তে পুত্র, সংসারোহমতীব বিচিত্র কস্য ত্বং বা কৃত আয়ত। চোখের কোণে কালি পড়েছে বাপি, দৃষ্টি ক্রমশ সরে আসছে। আর কেন? জয়। শিব শম্ভু, উখার নে মকান লাগা দে তম্বু। চলো বেটা, গঙ্গা যমুনা তীর। আশার ছলনে ভুলি কী। ফল লভিলে মানিক! ছিলে এক, হয়েছ তিন। আর কিছুকাল পরে হবে চার, তারপর হয়তো পাঁচ। নিউমারিক্যালি তুমি বাড়তেই থাকবে। উত্তাপে বীজ তাড়াতাড়ি অঙ্কুরিত হয়। এখনও সময় আছে, বি কেয়ারফুল ম্যান।
কী ভাবে গুরু? আসল বঙ্কিম প্রশ্ন করল প্রতিফলিত বঙ্কিমকে।
তবে শোনো একটা কাহিনি। বরাহ অবতাররূপী নারায়ণ হিরণাক্ষকে বধ করে নিজের স্বরূপ ভুলে গেলেন। কমপ্লিট ওরলিভিয়ান। ছানাপোনা নিয়ে সংসার পেতে বসলেন। এটাকে দুধ খাওয়াচ্ছেন। ওটার গা চেটে দিচ্ছেন। কেলেঙ্কারি কাণ্ড! দেবতাদের মাথা ঘুরে গেল। হায়। নারায়ণ হিরুকে মারতে গিয়ে একী ফ্যাসাদ বাধালে প্রভু। ল্যাজারাস গোবেরাস অবস্থা। তুমি তো রিয়েল বরাহ নও। বরাহ হয়েছিলে ফর এ গ্রেট কজ। এ দেখছি প্লে বিকেম এ টাস্ক। উঠে এসো প্রভু। স্বর্গে তোমার সোনার পালঙ্ক, নারায়ণী সেজেগুঁজে সালংকারা। অপ্সরারা নৃত্যগীত করছে। আতর ছড়াচ্ছে। আর তুমি কি না আস্তাকুঁড়ে ছানাপোনা নিয়ে ঘোঁত ঘোঁত করছ। এ কী সাংঘাতিক আত্মবিস্মৃতি! বুড়ো বুড়ো দেবতাদের দিকে আঙুল তুলে নারায়ণী বললেন, দিস ইজ ফর ইউ। বয়োজ্যেষ্ঠ আপনারা। অনবরত একটানা একটা উপদ্রব তৈরি করে, আজ বরাহ, কাল নৃসিংহ, পরশু কুর্ম করে আমার ঘর-সংসারের বারোটা বাজালেন। এবার সবটার মুখে মুড়ো জ্বেলে, খেংরে বিষ ঝেড়ে দেব। মাতাল, লম্পটের দল।
দেবতাদের মুখ চুন। নারায়ণটার কি বুড়ো বয়েসে ভীমরতি হল। তুই দেবতা জন্ম ভুলে শূকর সেজে শূকরীর সঙ্গে সংসার পাতলি। ইডিয়েট!
শেষকালে দেবতাদের সভায় শেষ রাতে স্থির হল, নারদ কো বোলাও।
নারদ চোখ রগড়াতে রগড়াতে রাগ রাগ মুখে এসে ঢুকল। তার শরীরটা ভালো না।
দেবরাজ বললেন, নাড়ু, নারায়ণকে যে সেভ করতে হবে। বেচারা মর্তে গিয়ে বেহেড হয়ে গেছে।
নারদ বললেন, আমি স্যার এখন মর্তে যেতে পারব না, আমার শরীর খারাপ।
দেবরাজ বললেন, তোমাকে যে একবার বরাহরূপী নারায়ণের কাছে যেতে হচ্ছে।
এই ভয়টাই নারদ করেছিল। কিন্তু কী আর করা, দেবরাজের হুকুম। শেষে নারদ কেঁকিতে করে বরাহ অবতারের কাছে গিয়ে ল্যান্ড করেন।
বললেন, এই যে গুরু, মেমোরিটা একবারে গুলে খেয়ে বসে আছ যে। এটা তো তোমার আসল রূপ নয়।
বরাহ প্রথমে অ্যাটাক করতে এল। নারদ প্রস্তুত ছিল। নারায়ণ নারায়ণ বলে বার কতক খোঁচাখুচি করতেই, শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্মধারী বেরিয়ে এলেন। নারদকে জড়িয়ে ধরে বললেন, দোস্ত মাই সেভিয়ার। কিন্তু মন্দ ছিলুম না হে। আহার, নিদ্রা বেড়ে লাগছিল। বাট পাস্ট ইজ। পাস্ট। চলো কেটে পড়ি। আয়নার বঙ্কিমকে বঙ্কিম বললেন, ধান ভানতে শিবের গীত গাইলেন কেন? হোয়াট ইজ মিনিং? তুমি বলতে চাইছ, পঞ্চভূতের ফাঁদে পড়ে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ কাঁদে তাই তো?
এগজ্যাকটলি?
তা মাঝখানে ওইসব ভ্যানতারা করার কী দরকার ছিল? ছোট্ট দু-লাইনের স্টোরি উইথ এ বোল্ড সারমন। নিজের আসল সত্তাটাকে হারিয়ে ফেলো না। বি এ কর্মযোগী, দ্যাটস অল। জড়িয়ে পোড়োনা। সেই সার কথা পাঁকাল মাছটি হয়ে পিছলে বেড়াও সবসময় ওপর দিকে ওঠার চেষ্টা কর নিজের বোয়েনসিতে।
