আপনার ইচ্ছে হল, হোমমেড বড়ি খাবেন। একটা লুপ্ত শিল্প। কাঁথাবড়ি, কাসুন্দি, মালপো, পুলিপিঠে, সরুচাকলি। আপনার ইচ্ছেটা শুধু টেলিফোনে জানান। আমাদের পালোয়ান ডিভিশান থেকে এক পালোয়ান এসে ডাল বেটে দিয়ে যাবে। আপনি ছাদে বসে গুনগুন করে গান গাইবেন আর টুপুস, টুপুস করে বড়ি পাড়বেন। আপনার স্বামী অবাক হয়ে ভাববেন—এ আমার আধুনিকা বউ, না প্রাচীনা কোনও শাশুড়ি। তিনি হয়তো গেয়ে উঠবেন, একই অঙ্গে এত গুণ দেখিনি তো আগে।
এ সব ব্যাপার যদি আপনার পছন্দ না হয়, আমাদের অন্য সার্ভিস-ও আছে। পাশের ফ্ল্যাটের মুখরা বউ কিংবা আপনার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ায় এঁটে উঠতে পারছেন না। জাস্ট ডায়াল আওয়ার নাম্বার। আমাদের ঝগড়াটে দিদি সেকশন থেকে একজন চলে আসবেন। সবরকম ঝগড়া এবং মুখের শব্দে ট্রেন্ড, ডিপ্লোমা প্রাপ্ত। আটরকমের গলার শব্দ। আপনি শুধু ইস্যুটা ধরিয়ে দেবেন। ব্যস, তারপর দেখবেন! ঝগড়ার চেহারাটাই পালটে যাবে। ঘণ্টা কিলো রেট।
ঘণ্টা কিলো রেট মানে?
গাড়ি ভাড়ার মতো। গাড়ি কী বলে? রেট ষাট টাকা ঘণ্টা। সেই রকম, ঝগড়ার ঘণ্টা। ঘণ্টা বেসিস। শুরু থেকে শেষ, সময়টা দেখে রাখবেন। ঝগড়া অনেক সময় টানা চলে না। মাঝে মাঝে গ্যাপ থাকে। চা খাবার বিরতি হতে পারে। নোট করে রাখবেন। ওই সময়টাই গাড়ির মিটারের মতো—ওয়েটিং চার্জ। আর কিলো রেট হল, আপনি যদি স্বামীর দিকে কিছু ছুঁড়তে চান— পেপার ওয়েটের এক রেট, চামচের এক রেট। বই ছোড়ার এক রেট। উলের গোলার কোনও চার্জ নেই—ফ্রি।
এর পর আরও আছে। আমাদের রিসার্চ উইং মাথা খাঁটিয়ে সব বের করেছে বটে। হ্যাটস অফ টু দেম। ধরুন, প্রবলতম উত্তেজনার মুহূর্তে, আপনি আপনার স্বামীর মাথার চুল ধরে টেনে। আনতে চাইছেন, সারা ঘরে ঘুরপাক খাওয়াতে চাইছেন, চারটে দেয়ালে বারবার ঠকাঠক মাথা ঠুকে দিতে চাইছেন, আমাদের এইডস-এ আছে কোড নেম অপারেশান হিড়িম্বা। তখন চার্জ হবে কিলো ওয়েট-এ। ককিলো ওজনের স্বামী? ভাষা আপনার, অ্যাকশান আমাদের। আপনি আমাদের হাতে অ্যাকশান ছেড়ে দিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে প্রাণ যা চায় বলে যান—জাম্বুমান, সেলফিশ, ক্যারাকটারলেস, খগেন, পেটমোটা খালাসি, মাথামোটা পাঁঠা, যমদূত, ষণ্ড, পাষণ্ড। এর সঙ্গে সেফটি ডিভাইসও জোড়া আছে। আপনার স্বামী যদি তেড়ে মারতে আসেন, হার্ড পাঞ্চ, সঙ্গে সঙ্গে আপনার কোমরের কাছ থেকে একটু বেলুন ফুলে উঠবে। বিদেশি মোটরকারে এই ব্যবস্থা থাকে স্টিয়ারিং-এর কাছে। আমরা এটা পেটেন্ট করেছি—
গৃহিণীর উত্তর—ঢং।
যা হয়, তা হয়
মুখে পানের খিলি ঠুসে, সেজে গুঁজে চল্লে কোথায় দিদিমণি?
আহা? কথার ছিরি দেখো। বউ আবার কবে থেকে দিদিমণি হল! বয়েস না হতেই ভীমরতি?
তোমার ওই হুমদো মুখটা দেখলেই, কেন জানি না, ভোরের স্কুলের দিদিমণির কথা মনে পড়ে যায়। কী করব বলো!
একটা ছুঁচলোমুখোকে বিয়ে করলেই পারতে। ওইরকম এক জনের সঙ্গে অনেকটা এগিয়েও তো ছিলে। লেঙ্গি খেয়ে ফিরে এসেছ। এখন আর পস্তালে কী হবে খোকা!
তোমার মুখেরও একটা ভাস্কর্য ছিল, ওই ফ্রিজ আসার পর থেকে পুডিং খেয়ে খেয়ে তোমার মুখটাও পুডিং-এর মতো হয়ে গেছে।
আর নিজের মুখটা! বাড়িতে বড় আয়নার তো অভাব নেই। একবার তাকিয়ে দেখতে পারো তো! বুলডগ কেটে বসানো। হাসলে মনে হয় হায়না হাসছে।
আমাকে তোক চরিয়ে খেতে হয়। ভয়াল ভয়ংকর মুখ আমার প্রফেশানের অ্যাসেট। কিন্তু। তোমার মুখ দেখলে কবিতার লাইন শুকিয়ে যায়।
সারা জীবনে ওই এক লাইন কবিতাই তো মুখস্থ দেখলুম, চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা। ও আর শুকোবে কী? শুকিয়েই তো আছে। এদিকে যে ক-গাছা চুল ছিল তাও তোমাদের এখানকার জলের গুণে টাক পড়ে গেল। কবে থেকে বলছি, চুল গজাবার নানারকম মলম না তেল না কী সব ভালো ভালো জিনিস বাজারে বেরিয়েছে, নিয়ে এসো, তা একান দিয়ে ঢুকছে ওকান দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমার কথা তো কানে যাবে না। ওই পাশের বাড়ির প্রেমা বললে, ধিতিং ধিতিং করে ছুটতে। একেই বলে স্ত্রী আর পরস্ত্রী। বাঙালির সেই আদি ব্যামো আর গেল না।
কথাটা যখন তুললে তখন অঙ্কে তুমি কতটা মাথামোটা বুঝিয়ে দিই। প্রত্যেকেরই স্ত্রী অন্যের পরস্ত্রী। যেমন তুমি আমার স্ত্রী; কিন্তু প্রেমার স্বামীর কাছে তুমি পরস্ত্রী। স্ত্রী না থাকলে পরস্ত্রী আসে কোথা থেকে? সহজ-সরল হিসেব।
তুমি মাথার তেল আনবে? তোমার জ্ঞানের কথা আমি অনেক শুনেছি। শুনে শুনে কান পচে গেছে। আমার এখন চুল চাই। চুল।
তুমি জীবনে শুনেছ টাকে কখনও চুল গজায়! টাকে যে চুল গজিয়ে দিতে পারবে সে নোবেল পুবস্কার পাবে। টাকে চুল গজায় না বুড়ি। ও সব কথার কথা।
তোমার ওই প্রেমাঠাকুরানির সামনেটা ফাঁকা হয়ে আসছিল, দেড়শো টাকা দিয়ে অমিয়বাবু একটা ফর্মুলা করিয়ে এনে দিয়েছেন, তাতে ওই ভাইটালাইজার আছে, ভিটামিন-ই আছে, আরও সব সাংঘাতিক সাংঘাতিক মশলা আছে। সাত দিন লাগাতে না লাগাতেই বিন বিন করে চুল বেরোতে শুরু করেছে।
তোমার মাথা। মনে নেই যৌবনে একবার ফরসা হতে গিয়ে তুমি আমার হাতে হ্যারিকেন ধরিয়ে ছেড়েছিলে। ভিটেমাটি চাঁটি হওয়ার উপক্রম। শেষে আফগান ব্যাঙ্কের দ্বারস্থ। মুখে এমন এক ফর্মুলা ঘষলে, মুখটা ব্যাঙের পিঠের মতো হয়ে গেল। ফোসকা ফোসকা গোটা গোটা। সেই চর্মরোগ সারাতে চোখে সরষে ফুল। তুমি আর এই বয়সে টাকে চুল গজাতে যেয়ো না মাধু। কী আর হবে? তোমার কি আর প্রেমে পড়ার বয়েস আছে? কেউ আর ফিরে তাকাবেও না শঙ্করী। নাম করো। বালিকে নাম করো। হরের্নামৈব কেবলম। হিসেব মেলাতে বসে যাও ভবসুন্দরী। শমন আসার সময় হয়েছে।
