Second Childishness and mere oblivion
Sans teeth, Sans eye, Sans taste, -Sans-everything
কৈলাস বলছে, আবার এসে সেই গোড়া থেকে শুরু করতে হবে, একই নাটক, একই পরিণতি, অন্য নামে, অন্যখানে।
.
২.
ফুটো সড়াক করে হড়কে অনেক দূর চলে গেছে। রিপভ্যান উইঙ্কলের যেন ঘুম ভাঙল। সেই অবস্থা আমার। রাস্তার দিকে ঝুল-বারান্দায় বসে থাকি। অবাক হয়ে দেখি, এসব কী! কত পরিবর্তন। রাস্তায় প্রতি পাঁচজনে চারজন রমণী! শাড়ি মধ্যবয়সিদের ভূষণ হলেও তরুণীদের সালোয়ার-কামিজ। তরতর করে চলেছে কলেজে, কাজে, কি নাচের স্কুলে। নিছক বেড়াতে, কি রোল কাউন্টারে। অনেকের সঙ্গেই বয়ফ্রেন্ড। বিউটি পার্লারে ছাঁটা চুল, কপালের দু-পাশে নিদ্রিত বাদুড়ের ডানার মতো লটরপটর। স্কুটারের পেছনে আলটপকা বসে ফরফর চলেছে। কোনও ভয়ডর নেই। আজকাল কর্তা-গিন্নি দুজনেই রোজগারে বেরোয়। স্ত্রীকে অফিসে ড্রপ করে স্বামী নিজে অফিসে চলে যায়। ফেরার সময় স্ত্রীকে কালেক্ট করে আনে। অনেকে সপ্তাহে একদিন রাঁধে। ফ্রিজে লাট করা থাকে। গরম করে করে সারা সপ্তাহ চলে। ফ্রিজ থেকে বার করো আবার ঢোকাও। সবই খাবারের মৃতদেহ। মর্গ থেকে বেরোল। পোস্টমর্টেম হল। খাওয়া তো নয়, পোস্টমর্টেম। লাশ আবার চালান করে দেওয়া হল ঠান্ডি ঘরে। একালের মানুষের সময় কোথায়! এই সংস্কৃতির নাম রেখেছি কোল্ট কালচার, অশ্ব সংস্কৃতি। সবাই ঘোড়া, পিঠে চেপে বসেছে অ্যাম্বিশন। টগবগর ছুট। দৌড় দৌড়। এই বুঝি আমাকে মেরে বেরিয়ে গেল। মানুষের চোখের দিকে তাকালে অস্থির একটা অন্দরমহলের খবর পড়া যায়। পর্বতারোহীর মতো সবাই দড়ি ধরে ঝুলছে। উপরে উঠতে চায়, টপে, শীর্ষে। সেখানে আছেটা কী! তা জানা নেই।
শয়তান চরিত্রটা কেমন? রাস্তার উটকো বদমাইশ ছেলের মতো। হাতটা মুঠো করে সামনে ধরে বলছে এই নে, কী আছে বল তো! মনে মনে যখন যা চাই, হাতের মুঠোয় তাই আছে ভাবি। কী আছে রে! হিরে! সোনার ঘড়ি, টাটকা মোহর। যেই হাত খুলল, দেখা গেল কিছুই নেই, ফক্কা। সেই ফক্কার পেছনে ছুটছে। রাজনীতি করি। জনসেবা গণসেবা। জীবন জমিতে পেতে দিয়েছি, কার্পেটের মতো, জনগণের পদতলে। এত ত্যাগ! স্বামীজির বাণী শিকাগোর শতবর্ষে, বীজ থেকে অঙ্কুর হচ্ছে তাহলে! বেটার লেট দ্যান নেভার। ওই যে মোড়ের মাথায় বিমানবাবুর বাড়ি। সাতকাঠা জমি। এক ব্যাটা ভাড়াটে বসে আছে চারশো টাকায়। বিমান আছেন দিল্লিতে মেয়ের কাছে। ফিরবে না কোনওদিন। দেশসেবাটা তাহলে কেমন হবে! ভাড়াটেটাকে সপরিবারে পাড়া ছাড়া করো। প্রয়োজন হলে পেটাও। চিনেবাদাম আঙুলের চাপে ভাঙে, আখরোটের জন্য হাতুড়ি। আর প্রয়োজন হলে বউটাকে মোড়ের মাথায় চেপে ধরে, একটু খোলামেলা করে দাও। তাতেও যদি না হয়, একালের ভাষায় বাবুকো বানাও। অ্যায়সা বানাও কী, সারাজীবনের মতো ত্রিভঙ্গ। তারপর জমিবাড়ি দখল করে, গোটাচারেক বহুতল। শ-খানেক ফ্ল্যাট মানে একশো ইনটু আট লাখ। হাফ তো আগেই এসে যাচ্ছে হাতে, অ্যাডভান্স। কিছু এদিকে দাও, কিছু ওদিকে দাও, বাকিটা নিজে খাও। মোড়ের মাথায় লোহার পাইপের কারবারি, হার্ডওয়্যার মার্চেন্ট, এম ফিল, পি এই ডি, ডি লিট ফিলিট কিছুই নয়। ক্লাস ফোর মুকুন্দ, সাতটা মিষ্টির দোকান, সতেরোটা জার্সি গরুর মালিক আশু। কাঠের কারবারি পরেশ, এরাই হল ফ্ল্যাটের খদ্দের। পাশবালিশে নোট। সেই নোটের নাম ব্ল্যাকমানি। কর্তা করেন মেল পলিটিক্স। গিন্নি করেন। ফিমেল পলিটিক্স। যুদ্ধক্ষেত্রে যেমন রেডক্রস। যুদ্ধ বন্ধ তো আর করা যায় না। মানুষ সমাজ, কাল, ইতিহাস, যুদ্ধের কমা, ফুলস্টপ। রেডক্রস কর্মীরা লণ্ঠন হাতে, স্ট্রেচার নিয়ে হতাহতদের সেবায় ব্যস্ত। সেইরকম পলিটিক্যাল রেডক্রস। ওই যে মোড়ের মাথায় মহিলাকে বানানো হল, তার হয়ে কে কথা বলবে! আমার মহেশ্বর নন্দী ভূঙ্গিসহ একটা কাণ্ড করেছে, নারী নির্য্যাতন। আবার ওই খালপাড়ের কেলাবের ছেলেরা, সেদিন রাতের দিকে মন খারাপ লাগছিল বলে একটু বেশি খেয়ে ফেলেছিল। একে গরমকাল তাই রক্ত আরও গরম হয়ে গিয়েছিল। আর রক্ত গরম হয়েছিল বলে, তারা চালের টালি সরিয়ে মাঝরাতে ঘরে ঢুকেছিল। তারপর আর কিছুই নয়, সবে মিলে করি কাজ, পশু হতে নাহি লাজ। তা সেই মেয়েটির হয়ে কে আন্দোলন করবে। ফেস্টুন, ব্যানার তৈরিই আছে। যখন যেটা লাগে। রাস্তায় নেমে নগর পরিক্রমা। নগর পরিক্রমা তো মহাপ্রভু শিখিয়েই গেছেন! হরিনাম, রামনাম, গোলে হরিবোল নাম। কিছু উষ্ণ বক্তৃতা। পথ। অবরোধ। থানা অবরোধ, স্মারকলিপি পেশ। পুলিশ ধরে নিয়ে এল জগাকে। একটা ফোন। আমি বলছি, তোমার যম। কোথায় ট্রান্সফার হওয়ার ইচ্ছে হয়েছে। কুচবিহারে না মাথাভাঙায়। আজ্ঞে স্যার! কানে কম শুনছ নাকি! স্যার গণধর্ষণ! গণ শব্দটা আছে তো! মানেটা কী! গণ মানেই পবিত্র। বুঝতে পারলেন। জগাকে চা, কফি খাইয়ে ঠোঁটের সিগারেটে নিজের লাইটারে আগুন। ধরিয়ে, স্যালুট করে ছেড়ে দিন। আর যার কেউ নেই, নিরীহ সেই রকম একটাকে ধরে ফাঁসিয়ে দিন। কর্তব্যপরায়ণ! দেবো মেখলিগঞ্জে চালান করে। এমন কেস দিয়ে দেবো নিজেই। সাসপেন্ড। যন্ত্র আমাদের হাতে। মন্ত্র যেমন পড়াব তেমনি পড়বে।
