টার্নকোট। দোহাই তোমরা আমাকে ভুল বুঝো না। মনে রেখো ভারতের সহানুভুতি না পেলে আমাদের গতি নেই—আমাদের ভবিষৎ নির্ভর করছে সরকারের দয়ার উপর—(পচা ডিম) —এঃ, চোখটা খুব বেঁচে গেছে। হে বন্ধুগণ! আমি কর্তব্য পালনে ভয় খাই না, যা সত্য ব’লে বিশ্বাস করি তাই অকপটে বলব।
লর্ড ব্লার্নি। বাঃ, ঠিক হচ্ছে। ঐ যে টেলিগ্রাম নিয়ে আসছে। ব্রেভো সার ট্রিকসি, নিশ্চয় ক্ষত্রপ তোমাকেই মনোনীত করেছেন। আমি পড়ে দেখছি, তুমি থেমো না, বক্তৃতা চলুক।
টার্নকোট। হে ভাই—সকল! আমি যা বলছি তা তোমাদেরই মঙ্গলের জন্য। এতে আমার নিজের কোনো স্বার্থ নেই। ব্লার্নি খবর কি হে? হে প্রিয় বন্ধুগণ, দেশের মঙ্গলের জন্য আমি সকল রকম লাঞ্ছনা ভোগ করতে প্রস্তুত। তোমাদের ঐ বেড়ালডাক আমারই জয়ধ্বনি। তোমাদের এই পচা ডিম আমি মাথা পেতে নিলুম। যদি তোমাদের তুণীরে আরও কিছু নিগ্রহের অস্ত্র থাকে —(বাঁধাকপি) —নাঃ, আর পারা যায় না। ব্লার্নি বল না হে, কি লিখেছে?
ব্লার্নি। পুওর ট্রিকসি! শেষটায় টোডি ব্যাটাই চাকরি পেলে। নেভার মাইন্ড, তুমি হতাশ হয়ো না। আবার একটা সুবিধা পেলেই তোমার জন্য চেষ্টা করব। ক্ষত্রপটা অতি গাধা। এটা বুঝলে না যে টোডি তো পোষ মেনেই আছে। আর তুমি হ’লে এত বড় একটা ডিমাগ—তোমাকে হাত করবার এমন সুযোগটা ছেড়ে দিলে! ছি ছি!
টার্নকোট। ড্যাম টোডি অ্যান্ড ড্যাম ক্ষত্রপ। হে আমার স্বদেশবাসীগণ—
জনতা হইতে। Shut up! Kick him—lynch the traitor!
টার্নকোট। না, না, আগে আমাকে বলতেই দাও। এই রাজসূয় যজ্ঞে তোমাদের যেতেই হবে। কেন যেতে হবে? বাতাসা খেতে? সেলাম করতে? ভারতসরকারের জয়জয়কার করতে? নেভার। সেখানে যাবে যজ্ঞ পন্ড করতে, লন্ডভন্ড করতে—ভারতসরকার যেন বুঝতে পারে যে তামাশা দেখিয়ে আর বাতাসা খাইয়ে তোমাদের আর ভুলিয়ে রাখা যাবে না।
জনতা হইতে। Long live Tricksy! Turncoat for ever!
নারীজাতির মুখপত্র ‘দি শিম্যান’ হইতে উদ্ধৃত।
কাল বৈকালে ঠিক তিনটার সময় নিখিল—ব্রিটিশ—নারী—বাহিনীর শোভাযাত্রা বাহির হইবে। রিজেণ্ট পার্ক হইতে আরম্ভ করিয়া পোর্টল্যাণ্ড প্লেস, রিজেন্ট স্ট্রীট, পিকাডিলি সার্কাস, ট্রাফালগার স্কোয়ার হইয়া এই বিরাট প্রসেশন পার্লিমেণ্ট হাউসে পৌঁছিবে।
হাজার হাজার বৎসর হইতে পুরুষজাতি নারীর উপর কর্তৃত্ব করিয়া আসিতেছে, কিন্তু আর তাহাদের চালাকি চলিবে না। আমরা সবলে নিজের প্রাপ্য আদায় করিয়া লইব। আমরা ভোটের অধিকার যাহা পাইয়াছি তাহা একেবারে ভুয়া। জুয়াচোর পুরুষগণ ছলে বলে কৌশলে ভোট যোগাড় করিয়া রাষ্ট্রীয়—পরিষদ প্রায় একচেটে করিয়াছে। এ ব্যবস্থা চলিবে না। ব্রিটেনের লোকসংখ্যার শতকরা ষাটজন নারী। আমরা এই অনুপাতেই নারীসদস্য চাই। সরকারী চাকরিতেও আমরা শতকরা ষাটজন নারী চাই। পুরুষের চেয়ে কিসে আমরা কম? আমরা ডিভাইডেড স্কার্ট পরি, ঘাড় ছাঁটি, সিগারেট খাই, ককটেল টানি। এর পর দরকার হয় তো মুখে কবিরাজি কেশ—তৈল মাখিয়া গোঁফ—দাড়ি গজাইব। পুরুষের সহিত কোনও কারবার রাখিব না, কারণ ওরূপ কুটিল স্বার্থপর জাতি পৃথিবীতে আর নাই। তারা মনে করে এই জগতটা পুরুষের জন্যই সৃষ্টি হইয়াছে। তাদের ভগবান পর্যন্ত পুংলিঙ্গ। আমরা হি—গড মানিব না। আইসিস, ডায়না, কালী অথবা শূর্পণখা—এঁদের দ্বারাই আমাদের কাজ চলিবে।
হে নারী, তুমি আর অবলা সরলা miminy piminy গৃহিণী নও। তুমি দাঁত নখ শানাইয়া এস, ভয়ংকর মূর্তিতে এই মহাবাহিনীতে যোগ দিয়া পার্লামেণ্ট আক্রমণ কর। অকর্মণ্য পুরুষদের তাড়াইয়া দিয়া সরকারের নিকট হইতে আপন অধিকার আদায় করিয়া লও।
পুরুষজাতির মুখপাত্র ‘দি মিয়্যার ম্যান’ হইতে উদ্ধৃত।
সরকার কি নাকে সরিষার তেল দিয়া ঘুমাইতেছেন? কাল এই লণ্ডন শহরের উপর যে পৈশাচিক কাণ্ড হইয়া গেল তাহাতে বোধ হয় যেন দেশে অরাজকতা উপস্থিত। দুর্বৃত্তা নারীগণ প্রকাশ্য দিবালোকে বিষম অত্যাচার করিয়াছে, দোকান—পাট ভাঙিয়া তছনছ করিয়াছে, নিরীহ পুরুষগণকে খামচাইয়া কামড়াইয়া জর্জরিত করিয়াছে, কিন্তু সরকারের পেয়ারের উড়িয়া—পুলিস তখন কি করিতেছিল? তারা একগাল পান মুখে পুরিয়া দন্ত বিকাশ করিয়া হাসিতেছিল এবং নারীগুন্ডাগণকে, অধিকতর ক্ষিপ্ত করিবার জন্য হাততালি দিয়া বলিতেছিল—’হী—হ—হ—হ—হ—হ—।’ খাঁসাহেব গবসন টোডি, সার ট্রিকসি টার্নকোট প্রভৃতি মাননীয় দেশনেতৃগণ দাঙ্গানিবারণের উদ্দেশ্যে গিয়াছিলেন, কিন্তু উড়িয়া সার্জেণ্টরা তাদের অপমান করিয়া, বলিয়াছে—’এ সাহেবঅ, ওপাকে যিব তো ডণ্ডা খিব।’
সরকার নিশ্চয় এই ব্যাপারে মনে মনে খুশী হইয়াছেন, কারণ দেশে আত্মকলহ যত হয় ততই সরকারের বলিবার ছুতা হয় যে আমরা স্বায়ত্তশাসনের অযোগ্য।
‘রাষ্ট্রবিৎ’ হইতে উদ্ধৃত।
ইংরেজগণের মধ্যে যদি কেহ বুদ্ধিমান থাকেন তবে এইবার বুঝিবেন যে তাঁহাদের স্বাধীনতার আশা সুদূরপরাহত। লিবার্টি লীগ, অ্যাংলো—সেল্টিক ইউনিয়ন, হেটোরো—সেক্সুয়াল প্যাক্ট—এ সব শুনিতে বেশ। কিন্তু এই ঠাণ্ডা দেশের রক্ত যখন দ্বেষ—হিংসায় গরম হইয়া উঠে তখন আর তত্ত্বকথায় চলে না। যখন দাঙ্গা বাধে তখন একমাত্র ভরসা ভারত সরকারের দণ্ডনীতি আর দুর্দান্ত উড়িয়া—পুলিস।
