ঠিক ঐ সময়েই হাগ—নগরে প্যান—ইওরোপিয়ান লিবার্টি—লীগের অধিবেশন হইবে। হে ব্রিটন, জন—অ—গ্রোটস হইতে ল্যাণ্ডস—এণ্ড পর্যন্ত যে যেখানে আছ, দলে দলে সর্বরাষ্ট্রীয় মহাসম্মেলনে যোগ দাও। যদি তোমার বিন্দুমাত্র আত্মসম্মান থাকে তবে রাজসূয় যজ্ঞের ত্রিসীমায় যাইও না। একবার ভাবিয়া দেখ তোমার এই মেরি ইংল্যাণ্ড—যেখানে একদা দুগ্ধ ও মধুর স্রোত বহিত—তাহার কি দশা হইয়াছে। অন্ন নাই, বস্ত্র নাই, বীফ নাই, মাখন নাই, পনির নাই—এইবার বিয়ারও বন্ধ হইবে। বিদেশ হইতে গম আসে তবে তোমার রুটি প্রস্তুত হয়। তোমার ভেড়ার লোম ছাঁটামাত্রই পাঞ্জাবে যাইতেছে এবং তথা হইতে বনাত কম্বলরূপে ফিরিয়া আসিয়া তোমার অঙ্গে উঠিতেছে। ভারতের কার্পাসবস্ত্র তোমার বিখ্যাত লিনেন শিল্প নষ্ট করিয়াছে। হায়, তুমি কাহার বসন পরিয়াছ? তোমার নগ্নতা ঘুচিয়াছে কিন্তু লজ্জা ঢাকে নাই, শীত নিবারিত হইয়াছে কিন্তু তুমি অন্তরে অন্তরে কাঁপিতেছ। তোমার ভাল ভাল গো—বংশ ভারতে নির্বাসিত হইয়াছে, সেখানকার হিন্দু—মুসলমান ক্ষীর—ছানা ঘি খাইয়া নির্দ্বন্ধে মোটা হইতেছে। বিয়ার হুইস্কির আস্বাদ তুমি ভুলিয়া যাইতেছ, ভারতের গাঁজা আফিম তোমার মস্তিষ্কে শনৈঃ শনৈঃ প্রভাব বিস্তার করিতেছে। তোমার সর্বনাশের উপরে ভারত তাহার ভোগবিলাসের বিরাট মন্দির খাড়া করিয়াছে। তুমি ডিসেম্বরের শীতে পর্যাপ্ত কয়লার অভাবে হিহি করিয়া শিহরিতেছ, ওদিকে তোমারই অর্থে শেভিয়ট হিলে লক্ষ লক্ষ টন কয়লা পুড়াইয়া কৃত্রিম আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি করা হইয়াছে; কারণ, ভারতীয় আমলাগণ শীতকালে সেখানে অপিস করবেন —লণ্ডনের শীত তাঁহাদের বরদাস্ত হয় না।
হে বহুধাবিভক্ত আত্মকলহপরায়ণ ইওরোপীয়গণ, এখনও কি তোমরা তুচ্ছ সাম্প্রদায়িক স্বার্থ ত্যাগ করিবে না? এখনও কি অ্যাংলো—সেল্টিক দ্বন্দ্ব, ফ্রাঙ্কো জার্মান দ্বন্দ্ব, ধনিক—শ্রমিকের দ্বন্দ্ব, স্ত্রী—পুরুষের দ্বন্দ্ব বন্ধ হইবে না?
হাইড পার্ক। বক্তা—সার ট্রিকসি টার্নকোট।
শ্রোতা—তিন চার হাজার লোক।
টার্নকোট। মাই কান্ট্রিমেন, তোমরা আজ আমাকে যে দু—চার কথা বলবার সুযোগ দিয়েছ তার জন্য বহু ধন্যবাদ। তোমাদের কি বলে সম্বোধন করব খুঁজে পাচ্ছি না, কারণ আমার হৃদয় পূর্ণ হয়েছে। হে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠদেশবাসী ভগবানের নির্বাচিত মানবগণ, হে ব্রিটন—সাকসন—ডেন—নর্মান বংশোদ্ভব ইংরেজ জাতি—।
ম্যাকডুডল। ইংরেজ নয়, বলুন ব্রিটিশ জাতি। স্কচরা কি ভেসে এসেছে নাকি?
টার্নকোট। আচ্ছা, আচ্ছা। হে ব্রিটিশ জাতি, একবার তোমাদের সেই প্রাচীন ইতিহাস স্মরণ কর। হে হেস্টিংস—ক্রেসি—এজিনকোর্টের বীরগণ, যাদের বিজয়পতাকা একদিন ইংল্যাণ্ড, স্কটল্যাণ্ড, আয়ারল্যাণ্ড, ফ্রান্সে—
ম্যাকডুডল। মিথ্যে কথা। স্কটল্যাণ্ডে তোমাদের বিজয়পতাকা কোনও কালে ওড়ে নি।
টার্নকোট। আচ্ছা, আচ্ছা, স্কটলাণ্ড বাদ দিলুম। যাদের বিজয়পতাকা একদিন আয়ারলাণ্ড ফ্রান্সে—
ও’ হুলিগান। Oirsland! Say it again!
টার্নকোট। আচ্ছা, আচ্ছা। বিজয়পতাকা কোথাও ওড়ে নি। হে ইংলিশ—স্কচ— আইরিশ—মিশ্রিত—ব্রিটিশ জাতি—
ও’ হুলিগান। Begorrah! আমরা ব্রিটিশ নই, — সেলটিক। টার্নকোট। আচ্ছা, আচ্ছা। হে ব্রিটিশ ও সেলটিক ভাইসকল আজ তোমরা কেন সমবেত হয়েছ?
ও’ হুলিগান। Sure, Oi don’t know।
টার্নকোট। কেন এখানে সমবেত হয়েছ তাও কি ব’লে দিতে হবে? হে হতভাগ্যগণ, তোমাদের এই পৈতৃক দেশের বুকের ওপর কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে তার খবর রাখ? রাজসুয় যজ্ঞ। ভারত সরকার মহা আড়ম্বর ক’রে তাঁর ঐশ্বর্য এবং পরাক্রমের পসরা খুলে বসবেন, আর সমস্ত ইওরোপের গণ্যমান্য ব্যক্তি এসে মহাক্ষত্রপকে কুর্নিশ করে বলবেন— ভারতসরকার কি জয়! এই আউট লাণ্ডিশ কাণ্ড এই স্যাক্রিলেজ—
(লর্ড ব্লার্নির বেগে প্রবেশ)
লর্ড ব্লার্নি জনান্তিকে। আরে তুমি কি বলছ সার ট্রিকসি। নিজের সর্বনাশ করছ? আমি কত ক’রে ক্ষত্রপকে ব’লে ক’য়ে এসেছি যেন Chiltren Hundreds-এর দেওয়ানিটা তোমাকেই দেওয়া হয়। কি আরামের চাকরি, একেবারে sine cure। ক্ষত্রপের ইচ্ছে চাকরিটা টোডিকে দেন, কিন্তু আমার একান্ত মিনতি শুনে বলেছেন বিবেচনা করে দেখবেন। এখনই খবর আসবে, আর এদিকে তুমি রাজদ্রোহ প্রচার করছ!
টার্নকোট। বটে বটে? আচ্ছা, আমি সামলে নিচ্ছি।
জনতা হইতে। Go on Tricksy, go on।
টার্নকোট। হ্যাঁ, তারপর কি বলছিলুম—হে আমার দেশবাসিগণ, এই ঘোর দুর্দিনে তোমাদের কর্তব্য কি? তোমরা কি এই যজ্ঞে এই বিরাট তামাশায় যোগ দেবে?
জনতা হইতে। Never, never।
বিল স্নুকস। Say guv’nor will they stand treat? মদ ক পিপে আসবে?
টার্নকোট। এক ফোঁটাও নয়। কেবল বাতাসা বিলি হবে। হে বন্ধুগণ! এই মহাযজ্ঞে তোমাদের স্থান কোথায়?
লর্ড ব্লার্নি। আঃ, কি বলছ টার্নকোট।
টার্নকোট। ঘাবড়ান কেন, শুনুন না। হে বন্ধুগণ! এই বিরাট যজ্ঞে কি তোমরা যাবে?
জনতা হইতে। বরং শয়তানের কাছে যাব।
টার্নকোট। না না, সেটা ভালো দেখাবে না। তোমাদের যেতেই হবে— না গিয়ে উপায় নেই, কারণ ভারত সরকার স্বয়ং তোমাদের আহ্বান করেছেন।
লর্ড ব্লার্নি। হিয়ার, হিয়ার।
জনতা হইতে। মিয়াও, মিয়াও।
