“হাসিবকে তুই কী করেছিস?” দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠলো আসলাম।
“হাসিব কে?” বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে তাকালো বন্দী। “তার আগে বল, তোরা কে? তুই কে?” পাল্টা প্রশ্ন করলো সে।
রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো আসলামের। বন্দী অবস্থায়ও ভেঙে পড়েনি, পাল্টা তুই-তোকারি করছে তাকে! “আমার পরিচয় তোর জানা দরকার নেই। তুই শুধু বল, হাসিবকে কী করেছিস।”
“আশ্চর্য,” রাগেক্ষোভে বলে উঠলো সে। বার বার এক কথা বলছিস কেন! বললাম না, হাসিব নামের কাউকে চিনি না।”
“তাহলে তুই স্বীকার করবি না?”
“অসহ্য!” বিরক্ত হয়ে বললো বন্দী। “কী স্বীকার করব?”
আসলাম মুচকি হাসি দিলো। “তুই কে, আমরা সেটা জেনে গেছি। এসব নাটক করে কোনো লাভ হবে না।”
“কী জেনে গেছিস তোরা?” চেঁচিয়ে বললো। “কী বলতে চাস!”
আসলাম বাঁকা হাসি দিলো। “তুই কি ভেবেছিস, চেহারা পাল্টে ফেললেই তোকে কেউ ধরতে পারবে না?”
“কি!” বিস্ময়ের সীমা রইলো না বন্দীর, চোখমুখ কুঁচকে গেলো তার। “আমি চেহারা পাল্টে ফেলেছি?! কী যা-তা বলছিস! আমাকে কিডন্যাপ করেছিস কেন সেটা আগে বল্। টাকার জন্য? তোদের ডিমান্ড কতো, শুনি?”
চোখমুখ শক্ত করে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইলো আসলাম। “তোকে যদি টাকার জন্যই তুলে আনতাম, তাহলে সবার আগে তোর নাগর ঐ বুড়ো ডাক্তারকে ফোন দিতাম।”
“শাট আপ, ইউ ব্লাডি সোয়াইন!” চেঁচিয়ে উঠলো এবার। অপহরণকারীর দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে বললো, “ডাক্তার আসকার আমার বাবা হয়।”
আসলামের ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো। “নিজের চেহারা প্লাস্টিক সার্জনকে দিয়ে পাল্টে, নতুন একটা নাম নিয়ে, এখন নাগরকে বাবা বলে চালাতে চাচ্ছিস, বেজন্মা মাগি!”
“ইউ ডার্টি শোয়াইন!” তিক্তমুখে বললো বন্দী। “বেজন্মা তো তুই! যার পোষা কুকুর হয়ে এসব করছিস তাকে গিয়ে বল, আমি কে! ডাক্তার আমার কী হয়!”
গালি শুনে আসলামের মেজাজ খারাপ হলো না, উল্টো তার অন্য রকম অনুভূতি হচ্ছে। মনীষা তার জীবন থেকে চলে যাওয়ার পর যতো মেয়ে তার সাথে শুয়েছে, টাকার বিনিময়েই শুয়েছে। আর তাদের সবাইকে বাধ্য করেছে ওসব করার সময় তাকে গালি দেবার জন্য। মেয়েগুলোর কাছ থেকে গালি শোনার পর সে জেগে উঠতো। এখনও ঠিক সেটাই হচ্ছে।
কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে আসলাম বললো, “নুরে ছফাকে তো চিনিস, নাকি?”
ভুরু কুঁচকে গেলো বন্দীর, “এ আবার কে?”
হেসে ফেললো চাকরিচ্যুত পুলিশ অফিসার। “ছফাকেও চিনিস না! বাহ্। ভালোই অভিনয় করতে পারিস তো!”
“স্টুপিড!” দাঁতে দাঁত পিষে বললো বন্দী। “যে তোকে এসব ভুয়া খবর দিয়েছে, আগে তাকে গিয়ে ধরু!”
হেসেই বললো আসলাম, “ছফা কলকাতায় গেছিলো কদিন আগে, একটু থেমে মেয়েটার অভিব্যক্তি দেখে নিলো সে। ভড়কে যাবার চিহ্ন দেখতে পেয়ে খুশিই হলো। “তোর সব কিছু সে জেনে গেছে। সব!”
বন্দী স্থিরচোখে চেয়ে রইলো অপহরণকারীর দিকে। তারপর ভুরু কুঁচকে জানতে চাইলো, “কী জেনেছে ওই লোক?”
“হা-হা-হা,” হাসিতে ফেটে পড়লো পিএসের গানম্যান। “বললাম না, সব কিছু। তুই কোথায় থাকতি, কী করেছিস…সব।”
বন্দীর কপালে ভাঁজ পড়লো।
“এখন শোন্, একটা কথা বলি। বুদ্ধিমান হলে টর্চার হবার আগেই সব স্বীকার করে ফেল, নয়তো শেষ পর্যন্ত সবই বলবি, মাঝখান থেকে…” কথাটা আর শেষ করলো না।
“কী করবি তুই?” রেগেমেগে জানতে চাইলো। “ইউ স্কাউলে?”
লম্পটের মতো হাসি দিলো আসলাম, তারপর আস্তে করে প্যান্টের জিপারটা টেনে খুলে ফেললো সে। “কী করবো জানতে চাস, নাকি দেখতে চাস!” একটু থেমে মেয়েটার কাছে মুখ এনে আবার বললো, “নাকি, ফিল করতে চাস!”
কথাটা শুনে ভড়কে গেলো সুস্মিতা, তারপরও রাগ একটুও কমলো না। “ইউ ব্লাডি শোয়াইন!”।
“আরো বল!” বন্দীর চুলের মুঠি ধরে জোরে ঝাঁকি দিয়ে বললো। ভড়কে গেলো মেয়েটা। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো।
“খানকি!” গর্জে উঠলো আসলাম। “যত গালি জানিস সব দে আমাকে!”
অবিশ্বাসে চেয়ে রইলো বন্দী।
“গালি দে, খানকি!” বলেই মেয়েটার চোয়াল শক্ত করে ধরলো। “দিচ্ছিস না কেন, ডাইনি!”
সুস্মিতা আবারো গভীর করে দম নিয়ে নিলো। “শ্যামলকে আগে ছেড়ে দে, তারপর বলবো।”
মুচকি হেসে মাথা নাড়লো আসলাম।
“ও ঢাকা শহর চেনে না। ওকে বহু দূরে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দে। ও কিছু করবে না…গ্রামে চলে যাবে।”
“শর্ত দেবার জন্য একটা পজিশন থাকে, তোর সেটা নেই। বুঝতে পেরেছিস, ডাইনি!”
গভীর করে দম নিয়ে নিলো সুস্মিতা। বাঁকাহাসি দিলো আসলাম। “তাহলে তুই বলবি না?”
“না।” সোজা জবাব বন্দীর।
“তোকে আমি এখন কী করবো, জানিস?”
সুস্মিতার কপালে ভাঁজ পড়ে গেলো আবার।
লম্পটের মতো হাসি দিয়ে মেয়েটার ফতুয়ার গলা ধরলো দু-হাতে। “তোর জামাকাপড় সব ছিঁড়ে ফেলবো! ন্যাংটা করে…” এক হাত জিপারে রাখলো সে। লম্পটের হাসি দিলো।
“ইউ সান অব অ্যা বিচ!” রেগেমেগে বললো সুস্মিতা।
আসলাম সঙ্গে সঙ্গে একটা চড় মারলো বন্দীকে। তারপর আরেকটা। তৃতীয় চড়টা মারার আগে থমকে গেলো একটা কণ্ঠ শুনে।
“আসলাম!”
বন্দীকে ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো সে। আশেক মাহমুদ কখন ঘরে ঢুকেছে টেরই পায়নি।
“ইউ ডিড অ্যা গ্রেট জব!” বন্দীর দিকে প্রশংসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো।
“থ্যাঙ্কস, বস।”
বন্দী বুঝতে পেরেছে, এই লোকই তাকে কিডন্যাপ করিয়েছে। “আপনি কে? আমাকে কিডন্যাপ করেছেন কেন?”
