যাই হোক, সুকুমার রঞ্জন সম্পর্কে আর কোনো তথ্য নেই সুশোভনের দেয়া তালিকায়।
ছফা অবশ্য একটা বিষয় বুঝতে পারছে, সুকুমার নামটা এমনই কমন যে, ফেসবুকে সার্চ করতে গেলে হাজারটা রেজাল্ট চলে আসবে। তারচেয়ে বরং আইডিয়াল অ্যানালিটিকস সলিউশন নামের প্রতিষ্ঠান সার্চ করাটা বেশি বুদ্ধিমানের হবে।
কলকাতার বাড়ন্ত রাতে নুরে ছফা ব্যস্ত হয়ে পড়লো মোবাইলফোন নিয়ে। মুশকান জুবেরিকে ধরার যে মিশনে নেমেছে তাতে বিরতি দেবার কোনো ইচ্ছে নেই তার।
ফেসবুকে সার্চ দিতেই আইডিয়াল অ্যানালিটিকস সলিউশন, সংক্ষেপে আইএএস-এর পেইজটা পেয়ে গেলো। প্রতিষ্ঠানটি একেবারেই নতুন একটি ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করে : ডেটা অ্যানালিসিস।
বর্তমান দুনিয়ায় যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে যে ক্রমশই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে এই ডেটা অ্যানালিটিক্স সেটা পেইজের শুরুতে ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে। ব্যবসার অগ্রগতি, দুর্বলতা, উন্নতির সুযোগ বুঝতে তথ্য বিশ্লেষণ করা জরুরী। সারা বিশ্বজুড়ে ডেটা অ্যানালিটিক্যাল টুলের চাহিদা বাড়ছে দিনকে দিন। বিভিন্ন ধরণের কোম্পানির নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ি তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন প্রডাক্ট, আর তাকে ঘিরেই শুরু হচ্ছে নানান স্টার্টআপ।
এসব পড়ে হাপিয়ে উঠলো নুরে ছফা। আইটিবিষয়ক টপিকে তার কোনো আগ্রহ নেই। আগ্রহ নেই প্রতিষ্ঠানটি কবে থেকে কাজ শুরু করেছে কলকাতায়।
ছফা এর কর্মীবাহিনীর দিকে নজর দিলো। প্রচুর ছবি আছে প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ আর হর্তাকর্তাদের। অসংখ্য গ্রুপ ছবিতে দেখা যাচ্ছে হাস্যোজ্জ্বল সব তরুণ তুর্কিদের-যারা কিনা নেতৃত্ব দিচ্ছে নতুন ধরণের এই ব্যবসাটি। ছবিগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে গেলো সে।
৬০. শেষ রাতের দিকে ঘুম
অধ্যায় ৬০
শেষ রাতের দিকে ঘুম এলেও ছফা উঠে পড়লো সকাল আটটার পরই। এর কারণ হয়তো দমিয়ে রাখা উত্তেজনা।
ওদিকে সুশোভন যতো ড্রিঙ্কই করুক না কেন, তার আগেই উঠে ফ্রেশ হয়ে নিয়েছে। এখন ড্রইংরুমে বসে পত্রিকায় নজর বুলাচ্ছে।
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে জামা পাল্টে ফেললো সে। মোবাইলফোনটা বের করে একটা নাম্বারে ডায়াল করলো। কয়েকবার রিং হবার পর কলটা ধরা হলো ওপাশ থেকে।
“আসলাম…ঘুমাচ্ছো নাকি?”
“না,” ওপাশ থেকে বললো পিএসের গানম্যান।
“ডাক্তারের কী খবর?”
“আইসিসিইউ’র এক স্পেশাল কেবিনে আছে এখন।”
“তার শরীর কি বেশি খারাপ?” ছফার কণ্ঠে উদ্বিগ্নতা।
“আরে নাহ!” তিক্ততার সাথে বললো কথাটা। “বুড়ো অ্যাক্টিং করেছে…আগেই বলেছিলাম আপনাকে।”
নীচের ঠোঁট কামড়ে ধরলো ছফা। ডাক্তার তাকে ধোঁকা দিয়েছে। ভাবতেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো।
“তবে চিন্তার কিছু নেই,” ছফা চুপ মেরে আছে বলে আসলাম বললো। “বুড়ো কয়েকটা দিন ওখানেই থাকবে, বের হবে না। আমার নজরদারিতে আছে…চাইলেও বিদেশে যেতে পারবে না, স্যার সেই ব্যবস্থাও করে ফেলেছেন।”
“হুম,” গম্ভীর কণ্ঠে বললো সে। “আমি এখানকার কাজ শেষ করে। যতো দ্রুত সম্ভব চলে আসতে পারবো বলে মনে হচ্ছে। এখানকার কাজে বেশ কিছুটা ডেভেলপমেন্ট হয়েছে, স্যারকে ফোন দিয়ে জানাবো।”
আসলাম কিছু জানতে চাইলো না আর।
“ঠিক আছে। পরে কথা হবে। তুমি ডাক্তারের দিকে নজর রেখো।” কলটা কেটে দিয়ে উদাস হয়ে চেয়ে রইলো নুরে ছফা। এর পর ডাক্তারকে যখন ইন্টেরোগেট করবে তখন বিন্দুমাত্রও অনুকম্পা দেখাবে না।
“ব্রেকফাস্ট করতে আসো।”
চমকে তাকালো কণ্ঠটা শুনে। পত্রিকা হাতে সুশোভন দাঁড়িয়ে আছে তার ঘরের দরজার সামনে।
“বসে বসে কী ভাবছো?”
“দ্বিতীয়জনের ব্যাপারে আমার কিছু ইনফর্মেশন লাগবে।”
কয়েক মুহূর্ত কিছুই বুঝতে পারলো না সুশোভন মিত্র। দ্বিতীয়জন?”
“মুশকান জুবেরির সম্ভাব্য দ্বিতীয় শিকারের কথা বলছি।”
“ও…সমস্যা নেই। ব্রেকফাস্টের পর তদন্তকারী অফিসারকে ফোন দিয়ে জেনে নেবো। এখন চলল, ব্রেকফাস্ট করে নেই। বড্ড ক্ষিদে পেয়েছে।”
ডাইনিং টেবিলে বসেই তাদের মধ্যে কথা হলো।
“দ্বিতীয়জন যে নিখোঁজ হয়েছে তার নাম সুকুমার রঞ্জন, পরোটা, সজি, টোস্ট আর হরেক রকম ফল সাজানো আছে টেবিলে। “এক ডেটা অ্যানালিসিস ফার্মে চাকরি করতো, নিখোঁজ হয়েছে ডিপি মল্লিকের প্রায় এক বছর পর।”
“আচ্ছা,” মুখে খাবার নিয়ে বললো নগরপাল।
“তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করা তো প্রায় অসম্ভব, তাই আমি তোমার কথামতো, ও যেখানে কাজ করতো সেই ফার্মের পেইজে টু মেরেছিলাম, কিন্তু ওখানে সুকুমার রঞ্জন নামে কোনো এয়ির খোঁজ পাইনি।”
“না পাওয়ারই কথা, বছরখানেক আগে নিখোঁজ হয়েছে…পেইজটা যেহেতু নিয়মিত আপগ্রেড করা হয় তাই ওর নাম নেই।”
মাথা নেড়ে সায় দিলো ছফা। সে-ও খাবারের দিকে মনোযোগ দিলো।
“সুকুমার রঞ্জনের কেসটা যে থানা তদন্ত করছে সেখানে ফোন করে জেনে নেবো একটু পর, ঠিকাছে?”
“ওকে,” ছোট্ট করে বললো ছফা। “আজকে তো তুমি ফ্রি আছো, নাকি?”
“হ্যাঁ।”
“শ্বশুড়বাড়ি যাবে না?”
“কাল তো গেছিলাম।”
এ সময় সুশোভনের গৃহকর্মী ছেলেটা ট্রে হাতে ঘরে ঢুকলো। ডাইনিং টেবিলে চা-কফি রেখে চুপচাপ চলে গেলো সে।
“অবাঙালি নাকি?” ছেলেটাকে ইঙ্গিত করে বললো ছফা।
“দার্জিলিংয়ের।”
নাস্তা পর্ব দ্রুত শেষ করে চায়ের কাপটা হাতে তুলে নিলো ছফা। “আমি যে সূত্র ধরে কলকাতায় এসেছি ঐ মহিলাকে খুঁজতে, সেই ডাক্তার আসকারের সাথে ডিপি মল্লিকের ঘনিষ্ঠতার খোঁজ পেয়েছি ফেসবুক থেকে। ভদ্রলোক সুন্দরপুর গেছিলো…ঐ মহিলার রেস্টুরেন্টে।”
