মাথা দোলালো সুশোভন। চোখ বন্ধ করে কী যেনো ভাবছে।
ছফা আর কথা না বাড়িয়ে নামটা টাইপ করে সার্চ দিলো। কিছুক্ষণ পরই ভেসে উঠলো রেজাল্ট। আৎকে উঠলো সে। “ওরে বাপরে! এতো দয়াল প্রসাদ মল্লিক আছে ভারতে।”
“কলকাতায় এ নাম কমই আছে কিন্তু সারা ভারতবর্ষ হিসেবে নিলে অনেক হবারই কথা।”
“তুমি কি ভদ্রলোককে কখনও দেখেছো?” ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকেই বললো ছফা।
“না। তবে পত্রিকায় ছবি দেখেছি।”
“তাহলে তো ছবি দেখলে চিনতে পারবে?”
“হুম।” গম্ভীর হয়ে জবাব দিলো নগরপাল। “এক কাজ করো, নামের আগে ‘ডক্টর’ লাগিয়ে সার্চ করো। ডক্টরদের মাইরি অদ্ভুত বাতিক থাকে, বুঝলে?” গ্লাসে চুমুক দিয়ে বললো আবার, “নামের আগে ‘ডক্টর বসাতে না পারলে ওদের পোঁদের মধ্যে এক ধরণের চুলকোনি হয়। আমি কখনও ‘ডক্টর’ পদবী ছাড়া কোনো ডক্টরকে তার নাম লিখতে দেখিনি। এটা কিন্তু
তুমি অন্য প্রফেশনালদের বেলায় সব সময় দেখবে না।”
মুচকি হাসলো ছফা। পনেরো বছরের পুরনো দ্রব্যের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, সামান্য মাতলামিতে ধরেছে সুশোভনকে।
নামের আগে সংক্ষেপে ‘ডক্টর’ যোগ করে সার্চ দিলো এবার।
ডা. দয়াল প্রসাদ মল্লিক
রেজাল্ট আসতেই চমকে উঠলো-এ নামে কোনো আইডিই নেই! নুরে ছফা হতাশ হয়ে তাকালো সুশোভনের দিকে।
“কি?” নগরপাল আবারো মদ ঢালতে উদ্যত হচ্ছিলো গ্লাসে। “এ নামে কোনো ফেসবুক আইডি নেই দেখছি!”
একটা সেঁকুর তুলে তার দিকে তাকালো সুশোভন মিত্র। আইডি না পেয়ে ছফার চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে কেন বুঝতে পারছে না সে।
.
অধ্যায় ৫৬
প্লাস্টিক সার্জন ডিপি মল্লিকের আইডিটা খুঁজে না পেয়ে মনে মনে ছফা এখন একটাই কামনা করছে-এই সার্জনের নিখোঁজের পেছনে যেনো মুশকান জুবেরিই জড়িত থাকে।
“একটু চেখে দেখবে নাকি? টেনশনে এ জিনিস ভালো কাজে দেবে।”
মাথা দুলিয়ে না করে দিলো ছফা। সে এখন ভাবছে, ডিপি মল্লিকের ব্যাপারে কিভাবে তথ্য জোগাড় করা যায়।
“একা একা মদ খাওয়া কী রকম, জানো?” সহকারী নগরপাল বললো হতাশার সুরে। “হস্তমৈথুনের মতো। মজাটা তুমি পাবে কিন্তু আসলটার মতো না!”
“কীসের সাথে যে কী বলো না!” ফোনের ডিসপ্লের দিকে তাকিয়েই বললো ছফা। তার হাসিই পাচ্ছে।
“সত্যি বলছি, মাইরি,” সুশোভন ঝুঁকে এলো একটু। “এ জিনিস খেতে হয় কয়েক জনে মিলে, তাহলে জমে ভালো। বুঝতে পেরেছো?”
মাতালের সাথে তাল মেলানোর জন্যই মাথা নেড়ে সায় দিলো ছফা।
“তিনজন হলে তো কথাই নেই,” জোরে ঢেঁকুর তুলে বললো এবার। “অসাম! একেবারে থ্রি-সামের ফিলিংসটা পাবে।”
আক্ষেপে মাথা দোলালো নুরে ছফা। “দাদা, সাবধান! তুমি অন্যদিকে চলে যাচ্ছো।”
“কথা কিন্তু সত্যি বলেছি। আর চার-পাঁচ জন হলে কি হয় জানো তো? গ্যাং ব্যাং!”
ফোনের পর্দা থেকে চোখ সরিয়ে নগরপালের দিকে তাকালো। মাতালের সাথে তাল দেবার দরকার নেই আর। একা একা যতোক্ষণ পারে বকবক করুক। আবারো সে মনোযোগ দিলো ফোনের স্ক্রিনের দিকে।
“তোমার ঐ গ্লামারাস সাসপেক্ট কিন্তু কঠিন মাল,” সুশোভন বলে যেতে লাগলো। “নিজের চেহারাটাই পাল্টে ফেলেছে। এখন যদি সে কোনোভাবে এখানকার পাসপোর্ট বাগিয়ে নিতে পারে তাহলেই হয়েছে, একেবারে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে।”
ছফাও এরকম আশঙ্কা করছে এখন।
“না না, ভুল বললাম, মাতাল কণ্ঠে বললো সহকারী নগরপাল। “ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে না!”
কৌতূহলি হয়ে সুশোভনের দিকে তাকালো ছফা।
“আই উড রাদার সে…মহিলা আরো কাছে চলে আসবে। কিন্তু কোন্ শালা তাকে চিনবে, উম?” এবার কণ্ঠটা গম্ভীর করে বললো, “কিপ ইওর ফ্রেন্ডস ক্লোজ…ইওর এনিমিজ ক্লোজার!”
ছফা কিছু বললো না, চেয়ে রইলো নগরপালের দিকে।
“ঐ ডেঞ্জারাস লেডি তোমার খুব কাছে আসার প্ল্যান করেছে, বুঝতে পেরেছো! তোমাকেও তার শিকার বানানোর প্ল্যান-ট্রান করছে বোধহয়।”
ছফা মাথা দোলালো মাতালের কথা শুনে।
“হতাশ মনে হচ্ছে?” ঢুলু ঢুলু চোখে জানতে চাইলো। “এতো সহজে হতাশ না হয়ে ডিপি মল্লিকের কোনো পেইজ আছে কিনা খুঁজে দেখো,” মদে চুমুক দিয়ে বললো সুশোভন। “অ্যাকাউন্ট ডিলিট করা, ডি-অ্যাক্টিভ করা সহজ, পেইজের বেলায় কাজটা কিন্তু অতো সহজ না।”
নড়েচড়ে উঠলো ছফা।
“ফেমাস প্লাস্টিক অ্যান্ড কসমেটিক্স সার্জন…তার তো পেইজ থাকবেই।” একটা সেঁকুর তুলে আবার বললো, “বিশেষ করে তার ক্লিনিক কিংবা হসপিটালের নামেও থাকার কথা।”
মাথা নেড়ে সায় দিয়ে দ্রুত ফেসবুকে পেইজটার সার্চ করতে শুরু করে দিলো সে। পাঁচ মিনিট পরই খুঁজে পেলো, ডিপি মল্লিকের আসলেই একটা পেইজ আছে! সেটাতে ক্লিক করলো ছফা।
হাসি হাসি মুখের, সাদা অ্যাপ্রোন পরা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ডা. দয়াল প্রসাদ মল্লিকের প্রোফাইল পিকটা ভেসে উঠলো। সুন্দর করে ছাটা গোঁফ, ছোটো করে ছাটা পরিপাটি চুল, হালকা নাদুসনুদুস শরীর, বড় বড় চোখ।
ছফা জানে প্লাস্টিক আর কসমেটিক্স সার্জনের মধ্যে পার্থক্য আছে। তবে লোভনীয় পেশা হিসেবে প্লাস্টিক সার্জনেরা কসমেটিক্স সার্জারির দিকেই ঝুঁকে পড়ে বেশি। ডিপি মল্লিকও তাই করেছে সম্ভবত।
নিখোঁজ হবার আগে এই সার্জন কাজ করতো চেঞ্জমেকার নামের একটি ক্লিনিকে।
“কিছু পেলে?” সুশোভন অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর জানতে চাইলো।
