“কী বললো?” উদগ্রীব হয়ে জানতে চাইলো ছফা।
“কানাগলিতে গিয়ে আটকে আছে কেসটা। কোনো কূলকিনারা করা যায়নি।”
“কাউকে সাসপেক্ট হিসেবেও চিহ্নিত করা যায়নি?”
“প্রাইমারিলি মি. মল্লিকের কিছু কলিগকে সাসপেক্ট মনে করলেও সেগুলোর কোনো ভিত্তি খুঁজে পায়নি। দেবাঞ্জন বলছে, ওর ধারণা ভদ্রলোক ইলিগ্যাল প্র্যাকটিস করতো…বুঝতেই পারছো কী রকম। এসবের সাথে তার নিখোঁজের সম্পর্ক থাকতে পারে।”
ছফাকে আশাহত দেখালো।
“ও বললো, কেসটা নাকি খুবই রহস্যময়। মি. মল্লিক একদিন বলা নেই কওয়া নেই, হুট করেই নিখোঁজ হয়ে গেছে। নিজের বাসা থেকে বের হয়েছিলো, কী কাজে সেটাও কাউকে বলেনি,” একটু থেমে আবার বললো সুশোভন, “এজন্যে সামান্য কুও বের করা যায়নি কেসটার।”
ছফার চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো কথাটা শুনে।
“কী?” আগ্রহী হলো কলকাতা পুলিশের নগরপাল।
“মুশকান জুবেরি এর আগে যাদেরকে শিকার করেছে তাদের কেসগুলোও এমনই ছিলো, একদম কুলেস। পুলিশ সামান্য অগ্রগতিও করতে পারেনি বলে আমাকে কেসটা দেয়া হয়।”
“তুমি তো তাহলে বেশ ভালো কাজ দেখিয়েছে, সাসপেক্টকে চিহ্নিত করতে পেরেছিলে। নিখোঁজদের কী হয়েছিলো সেটাও বের করে ফেলেছিলে।”
“কিন্তু ঐ মহিলাকে…” কথাটা আর শেষ করলো না। নিজের ব্যর্থতার কথা বলতে সব সময় তার খারাপ লাগে।
“তুমি বসো, আমি আসছি,” শোবার ঘরে চলে গেলো সুশোভন।
ছফার মাথায় এখন অনেক কিছুই ঘুরপাক খাচ্ছে, উঁকি দিচ্ছে অনেক সম্ভাবনা। তাহলে কি কেএস খানের কথাটাই সত্যি? সে যে মুশকানকে রমনা থেকে ফেরার সময় দেখেছিলো, সবটাই ছিলো হেলুনিসেশন? কিংবা ডিশন!
এখন যা বুঝতে পারছে মুশকান জুবেরি ঢাকায় গিয়ে থাকলেও তাকে দেখে চিনতে পারতো না ছফা।
“তুমি বসে বসে মাথা ঘামাও,” বোতল আর গ্লাসসহ ঘরে ঢুকে বললো। সুশোভন মিত্র, “আমি একটু চেখে দেখি।”
“বৌদির অ্যাবসেন্সটার ভালোই ফায়দা নিচ্ছো।”
হেসে ফেললো নগরপাল। “আমার কি সেটা নেয়া উচিত হচ্ছে না?” তারপর চোখ টিপে দিলো। “বিয়ে থা করো, তখন বুঝতে পারবে। এখন
তো ঝাড়া হাত-পা, ব্যাচেলর মানুষ…আমাদের দুঃখ বুঝবে না তুমি।”
কিছু বললো না ছফা। তার মাথায় এখন অজস্র চিন্তা। একটু উদাস হলেও আড়চোখে দেখতে পাচ্ছে সুশোভন বেশ আয়েশ করে গ্লাসে হুইস্কি ঢালছে। লালচে তরলে ভর্তি গ্লাসটা নাকের সামনে নিয়ে ঘ্রাণ নিলো কয়েক মুহূর্ত, তারপর সন্তুষ্ট হয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো।
কয়েক বছর আগে ফ্রান্সের লিও’তে ইন্টারপোলের সদর দফতরে এক সেমিনারে অংশ নিতে গেলে ওখানে প্রথমবারের মতো সুশোভনের সাথে। এক রুমে থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছিলো তার। যে ক-দিন তারা ছিলো, প্রতি রাতেই দামি দামি সব ফরাসি মদ নিয়ে আসতো কলকাতার এই নগরপাল। বেশ আয়েশ করে মদ্যপান করতো। এক্ষেত্রে সে আবার ফরাসিদের সমকক্ষই বলা চলে-কোন মদের জন্য কোন গ্লাস, কী তার প্রিপারেশন সবই তার নখদর্পনে। হুইস্কি পানের সময় গ্লাসটা নাকের সামনে নিয়ে চোখ বন্ধ করে ঠিক এভাবেই ঘ্রাণ নিতো তখন।
“কঠিন জিনিস, বুঝেছো?”
সুশোভনের কথায় লিও থেকে কলকাতায় ফিরে এলো ছফা।
“আস্তে আস্তে গলা দিয়ে নামতে দেবে…এ জিনিস সরবতের মতো খেতে হয় না। ছোট্ট একটা চুমুক দিলো এরপর। “আহ্!” আবারো চোখ বন্ধ করে ফেললো। “দুর্দান্ত জিনিস।”
“ডিপি মল্লিক যদি মুশকান জুবেরির শিকার হয়ে থাকে তাহলে ওর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডি-অ্যাক্টিভ নয়তো ডিলিট করা থাকবে।”
“তাই নাকি?” গ্লাসের তরলে চুমুক দিতে গিয়ে থেমে গেলো নগরপাল।
“এর আগের প্রায় সব শিকারের সাথেই মহিলা এ কাজ করেছে, শুধু একটার বেলায় এটা করতে পারেনি, আর সেই ভিক্টিমের সূত্র ধরেই তাকে আমি খুঁজে বের করতে পেরেছিলাম।”
মাথা নেড়ে সায় দিয়ে গ্লাসে চুমুক দিলো সুশোভন মিত্র। “তাহলে ফেসবুক ঘেঁটে দেখো ডিপি মল্লিকের আইডিটার কী অবস্থা। আমার তো ওয়াইফাই আছে, সেলফোন থেকে লগ-ইন করো।”
পকেট থেকে মোবাইলফোনটা বের করলো ছফা। “পাসওয়ার্ডটা বলো?”
“শিভাস রিগ্যাল।”
“কি!”
হেসে ফেললো সুশোভন। “মজা করলাম। এবার আসলটা বলছি। এসএইচভিএন০২০৩১৯৭৮।”
“তোমার ডেট অব বার্থ নাকি?” পাসওয়ার্ডটা ইনপুট দিতে দিতে বললো ছফা।
মাথা নেড়ে সায় দিলো নগরপাল। “সহজ আর মনে থাকবে এমন পাসওয়ার্ডই আমি দেই। র্যান্ডম ডিজিট আমার মুখস্ত থাকে না। তবে ভেবো না, ফেসবুক, ইমেইল কিংবা ক্রেডিট কার্ডের বেলায়ও একই কাজ করি।”
মুচকি হাসলো ছফা। “তুমি অহোটা বোকা যে নও সেটা আমি জানি।”
হা-হা করে হেসে চোখ টিপে দিলো। “ওকে…তুমি কাজ করো, আমি একটু মদমত্ত হই।”
ছফা ফেসবুকে ঢুকে সার্চ করতে শুরু করে দিয়েছে এরইমধ্যে। “আমার ধারণা ভদ্রলোকের আইডিটা ডিঅ্যাক্টিভ….অথবা ডিলিটেড।”
সুশোভন গ্লাসে আরেকটা চুমুক দিলো। “তা হলে তো হয়েই গেলো, স্পষ্ট হয়ে যাবে, ওটা তোমার ঐ সেক্সি-গ্লামারাস মহিলারই কাজ।”
ছফা বুঝতে পারলো, সুশোভন এখন আস্তে আস্তে অশোভন হতে থাকবে।
“আচ্ছা, এখানকার মানুষজন ইংরেজিতে এভাবে মল্লিক লেখে কেন?”
ভুরু তুললো নগরপাল। “এম-ইউ-এল-এল-আই-সি-কে?”
“হুম।”
“কেন, তোমাদের ওখানে অন্যভাবে লেখে নাকি?”
“এম-ও-এল-এল-আই-কে লিখতে দেখেছি অনেককে।”
