কিন্তু সহজ চিন্তা যায় না করা সহজে!
তারপরই বলার মতো কিছু একটা পেয়ে গেছে এমন অভিব্যক্তি ফুটে উঠলো তার চোখেমুখে। “শুনেন…মনে হইতাছে মুশকান জুবেরিরে ট্রেস করার সহজ রাস্তা একটাই আছে।”
“সেটা কী, স্যার?” ফোনের ওপাশে থাকা নুরে ছফা খুবই আগ্রহী হয়ে উঠলো।
গভীর করে দম নিয়ে নিলো সবেক ইসভেস্টিগেটর। “মানুষ সব কিছু পাল্টাইতে পারে, সিটিজেনশিপ, ধর্ম, এমনকি চেহারাও বদলাইতে পারে, কিন্তু অভ্যাস…এইটা বদলানো এতো সহজ না। মনে রাখবেন, অভ্যাসের চায়া বদঅভ্যাস হইলো আরো কঠিন জিনিস।” একটু থেমে আবার বললো, “আপনে মহিলার বদঅভ্যাসটা ফলো করেন।”
.
অধ্যায় ৪৮
সকাল দশটায় পিএসের সেই ফ্ল্যাটে আবারো ফিরে এসেছে আসলাম, যেখানে গত রাতে এক মেয়েকে নিয়ে এসেছিলো। একটু আগে আশেক মাহমুদ তাকে ফোন করে জানিয়েছে, মেয়েটাকে ফ্ল্যাট থেকে নিয়ে যাবার জন্য।
পিএস আরো সকালে উঠে পিএমের অফিসে চলে গেছে। সারা রাত যতোই মদ্য পান করুক, মেয়েমানুষ নিয়ে ফুর্তি করুক, সকাল সাতটার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে পড়ে, তারপর দ্রুত রেডি হয়ে বের হয়ে পড়ে কর্মক্ষেত্রে যাবার জন্য।
আশেক মাহমুদের এই ফ্ল্যাটের বাড়তি একটি চাবি আছে তার কাছে। পিএস ফ্ল্যাট থেকে বের হবার সময় বাইরে থেকে দরজা লক করে গেছে। আসলাম এসে দরজা খুলে মেয়েটাকে পৌঁছে দিয়ে আসবে তার বাসায়-এমনটাই সব সময় হয়ে আসছে।
কয়েক মুহূর্তের জন্য আসলাম ভাবলো, সে যদি ফ্ল্যাটে যাবার পথে অ্যাকসিডেন্টের শিকার হয়, কিংবা খারাপ কিছু হয়ে যায় তার, তাহলে কী হবে? মেয়েটা নির্ঘাত আটকা পড়ে যাবে। পিএসের ফোন নাম্বার এসব মেয়ের কাছে থাকে না, আর নিরাপত্তার কারণে মেয়েটাকেও সঙ্গে করে মোবাইলফোন আনতে দেয়া হয় না। ফলে তাকে কোনোভাবেই জানাতে পারবে না যে, ফ্ল্যাটে আটকা পড়ে গেছে সে। বাধ্য হয়ে তখন চিৎকার চেঁচামেচি করে লোকজনকে ডাকবে সাহায্যের জন্য, আর সেটা হবে আশেক মাহমুদের জন্য বিরাট কেলেংকারির ব্যাপার।
মুচকি হাসলো সে। আসলে এরকম কিছু হবে না। তার যদি কিছু হয়, তাহলে আধঘণ্টার মধ্যেই পিএস সেটা জেনে যাবে। সেই সাথে এটাও বুঝতে পারবে, তার ফ্ল্যাটের মেয়েটা নিশ্চয় আটকা পড়েছে। তখন অন্য কাউকে দিয়ে মেয়েটাকে জায়গামতো পৌঁছে দেয়া হবে। এরকম লোকজনের কোনো অভাব নেই আশেক মাহমুদের।
মাথা থেকে চিন্তাটা ঝেড়ে ফেলে পিএসের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে এসে ডোর লকের ভেতরে চাবি ঢোকাতেই এক ধরণের শিহরণ বয়ে গেলো তার মধ্যে। আস্তে করে দরজা খুলে ঢুকে পড়লো ভেতরে।
পুরো ফ্ল্যাটটা সুনশান-তার মানে মেয়েটা এখনও ঘুমাচ্ছে। এরকমটিই হয় সব সময়। এরা বেশ দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে।
শোবার ঘরের সামনে এসে দেখতে পেলো দরজাটা খোলাই আছে, বিছানায় পড়ে আছে প্রায় নগ্ন সেই মেয়েটি।
ঘরে ঢুকে মেয়েটাকে ভালো করে দেখলো আসলাম। ক্লান্ত শরীরটা নিয়ে ঘুমাচ্ছে। তাকে দেখে চেনাই যাচ্ছে না। মুখের কড়া মেকআপের কিছুই অবশিষ্ট নেই এখন। আশেক মাহমুদের লালসায় ধুয়েমুছে তার আসল রূপ বেরিয়ে পড়েছে, আর সেটা মোটেও আকর্ষণীয় নয়। তবে তার দেহসৌষ্ঠব কামনা জাগানোর জন্য যথেষ্ট।
পাশ ফিরে শুয়ে আছে মেয়েটি। টিভিতে টুকটাক অভিনয় করে। একটি টেলিকমের অ্যাডেও দেখা গেছে কিছু দিন আগে। ঐ টেলিকমই কর-ফাঁকির এক তদন্তে ফেঁসে গিয়ে পিএসের দ্বারস্থ হয়েছিলো। আশেক মাহমুদ সেটা মিটমাট করে দেবার ব্যবস্থা করে দিলে, বিনিময়ে যেমন বেশ মোটা অঙ্কের টাকা ঢুকেছে তার অ্যাকাউন্টে, তেমনি উপঢৌকন হিসেবে দেয়া হয়েছে। এটাকে!
চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে মেয়েটাকে দেখে গেলো সে। ধীরে ধীরে নিজের ঘুমন্ত কামনা মাথাচাড়া দিতে শুরু করলো। এর আগেও এরকম কাজ করেছে আসলাম। পিএসের পরে সে-ও একটু পরখ করে দেখেছে। ভালো করেই জানে, এ ধরণের মেয়েগুলো চুপচাপ এসব ব্যাপার হজম করে নেয়। কেউ কেউ খুশি হয়েও নিজেকে সমর্পণ করে, কখনও কারোর উপরে জোর খাটাতে হয়নি তাকে।
কিন্তু এখন তার খুব জোর খাটাতে ইচ্ছে করছে! ইচ্ছে করছে অন্যভাবে কামনা মেটাতে। দিনকে দিন স্বাভাবিক ব্যাপার-স্যাপার থেকে তার আগ্রহ উবে যাচ্ছে! মর্ষকামীতার পাশাপাশি ধর্ষক সত্তাটাও যেনো জন্ম নিচ্ছে ক্রমশ।
এই মেয়েটাকে ধর্ষণ করলে কী হবে?
বিচার দেবে? কার কাছে?
মুচকি হাসি ফুটে উঠলো তার লম্পট ঠোঁটে। এ সমাজে বেশ্যাদের ধর্ষণ করা জায়েজ। যারা টাকার বিনিময়ে অন্য পুরুষের সাথে শোয়, তাদের সাথে জোর খাটালে কী আর এমন হবে! পিএসের কাছেও নালিশ দেবে না। এর আগে টাকার বিনিময়ে পুরুষ মানুষের সাথে শুতে যেয়ে কত বার ধর্ষিতা হয়েছে কে জানে!
আসলাম জানে, প্রতিটি পুরুষের মধ্যেই একজন ধর্ষক বাস করে দরবেশ থেকে প্রতিবন্ধী-সব পুরুষই জোর করে পেতে আনন্দ পায়। সম্ভবত পৌরুষের অংশ এটা। আদিমকাল থেকেই চলে আসছে। আদিপুরুষেরা বীরভোগ্যা ছিলো। নারীকে জোর করে ভোগ করাটা বীরত্বই ছিলো তখন। জৈবিক তাড়না থেকে যে সঙ্গম হয় সেখানে এরকম ব্যাপার স্যাপার হতেই পারে!
তার খুব ইচ্ছে করছে ঘুমন্ত মেয়েটার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে করতে। টের পাচ্ছে, তার শরীর রীতিমতো কাঁপছে ধর্ষণ করার প্রবল বাসনায় নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। একটু উপুড় হয়ে যেই না মেয়েটার উপরে হামলে পড়বে অমনি তার ফোনটা বেজে উঠলো।
