“বুড়ো অ্যাক্টিং করেছে,” আসলাম আবারো বললো কথাটা।
পিএসের গানম্যানের দিকে তাকালো সে, তার চোখেমুখে রাগ, চোয়াল শক্ত হয়ে আছে।
.
অধ্যায় ৪৪
“তাহলে আপনি মনে করছেন ঐ মহিলা কলকাতায় আছে?”
“জি, স্যার,” বললো ছফা। “আমি হান্ড্রেড পার্সেন্ট শিওর।”
তারা এখন বসে আছে গুলশান নিকেতনের একটি ফ্ল্যাটে, জায়গাটা ডাক্তার আসকার ইবনে সায়িদের বনানীর বাসা আর অরিয়েন্ট হাসপাতাল থেকে খুব একটা দূরে নয়। আসলাম তাকে এখানে নামিয়ে দিয়ে আবার চলে গেছে অরিয়েন্ট হাসপাতালে। ডাক্তার সত্যি সত্যি অসুস্থ হয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে গেছে সে।
“ডাক্তারের পাসপোর্ট সেটাই বলছে। উনি যে ঘন ঘন কলকাতায় যান সেটা লুকানোর চেষ্টা করেছেন। এর মানে একটাই-মুশকান জুবেরি কলকাতায় আছে। তা না-হলে ভদ্রলোক এটা করতেন না।”
মাথা নেড়ে সায় দিলো আশেক মাহমুদ। “হুম। ইট ডাজ মেক সেন্স।”
ছফা বুঝে উঠতে পারছে না, ডাক্তার যে নতুন গল্পটা বলেছেন মুশকানের ব্যাপারে সেটা পিএসকে বলবে কিনা। তার কাছে মনে হচ্ছে, আগেভাগে না বলাই ভালো, আরেকটু খতিয়ে দেখা দরকার। ঐ ভদ্রলোকের কোন কথাটা যে সত্যি, সে নিজেও জানে না। একটা প্রহেলিকা তৈরি করেছেন বৃদ্ধ ডাক্তার। গোলকধাঁধাতুল্য সেই প্রহেলিকা থেকে বের হবার একটাই উপায়-মুশকানকে হাতের মুঠোয় নেয়া।
“তাহলে “খন কী করবেন?” ছফাকে চুপ থাকতে দেখে জানতে চাইলে পিএস আশেক মাহমুদ।
ছফা কোনো সময় না নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলো, “আমার কলকাতায় যাওয়া দরকার। বেশি দেরি করলে ঐ মহিলা ওখান থেকেও সটকে পড়তে পারে।”
“এতোক্ষণে সটকে পড়েছে কিনা কে জানে,” তিক্তমুখে বললো পিএস।
“আমার তা মনে হয় না, স্যার, জোর দিয়ে বললো। “ডাক্তার যদি এরইমধ্যে মুশকানকে সব জানিয়েও দেন, অতো দ্রুত কলকাতা ছেড়ে অন্য কোথাও যাবে না মহিলা।”
“আপনার কেন এটা মনে হচ্ছে?”
“ডাক্তার জানেন আমি কেবল তার ঘনঘন কলকাতায় যাবার বিষয়টি আবিষ্কার করেছি…তিনি ওখানে কোথায় উঠতেন, কোথায় যেতেন সেটা আমি জানি না। তাছাড়া আমার মনে হয় না, ডাক্তারের সাহায্য ছাড়া ঐ মহিলা আবারো নতুন কোনো আশ্রয় খুঁজে নিতে পারবে সহজে। একটু সময় লাগবেই।”
“হুম,” গম্ভীরভাবে বললো পিএস।
“কলকাতার মতো শহরে একজন মানুষকে খুঁজে বের করা অসম্ভব না হলেও অনেক কঠিন আর সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।”
“তাহলে আপনি তাকে কিভাবে খুঁজে বের করবেন?” অবাক হয়ে জানতে চাইলো আশেক মাহমুদ।
একটু ভেবে নিলো ছফা। প্রথমেই তার মনে পড়লো কেএস খানের কথা। সাবেক এই ইনভেস্টিগেটর তাকে নিশ্চয় এ ব্যাপারে ভালো সাহায্য করতে পারবে। “ঐ মহিলাকে খুঁজে বের করার একটা উপায় বের করতে হবে দ্রুত,” বললো সে।
মাথা নেড়ে সায় দিলো পিএস।
“ওখানে এক পুলিশ অফিসারের সাথে আমার বেশ ভালো জানাশোনা আছে, আশা করছি তার কাছ থেকে সাহায্য পাবো।”
“তাহলে আপনি কবে যেতে চাইছেন?” একটু থেমে আবার বললো পিএস, “আপনার কি ভিসা আছে?”
“আমার পাঁচ বছরের ভিসার মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি, স্যার।”
“গুড। আপনি তাহলে আমাকে জানান, কবে যেতে চান। এয়ার। টিকেট নিয়ে ভাববেন না। রিগ্যাল এয়ারওয়েজের মালিক আমার পরিচিত। টিকেট না থাকলেও যখনই চাইবেন, আপনার জন্যে একটা সিটের ব্যবস্থা করে দিতে পারবে সে।”
“থ্যাঙ্ক ইউ, স্যার।”
“ঐ ডাক্তার যাতে বিদেশে চলে যেতে না পারে সেটার ব্যবস্থাও করা যাবে। আপনি তার পাসপোর্টের ছবি আসলামের ফোনে সেন্ড করে দেবেন। আমি ইমিগ্রেশনে বলে দেবো, ঐ ডাক্তার দেশের বাইরে যেতে পারবে না।” ছফা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আবার বললো, “ঐ ডাক্তার যদি বেঁচে থাকে তাহলে আপনি ওখান থেকে ফিরে এসেও তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন।”
“আমি খুব দ্রুতই যেতে চাইছি, স্যার…কাল-পরশুর মধ্যেই।”
“হুম,” গম্ভীর হয়ে সায় দিলো পিএস। “একটা কথা। আপনি যদি ওই মহিলাকে ওখানে ট্র্যাক ডাউন করে ফেলতে পারেন তখন কী করবেন?”
“মুশকানকে ওখানে খুঁজে পেলেও তাকে গ্রেফতার করে দেশে আনাটা সহজ হবে না। ওদের সাথে আমাদের এক্সট্রাডিশান প্যাক্ট রয়েছে, কিন্তু সেটা করতে অনেক সময় লাগে, মামলার নথিপত্রও সবমিট করতে হয়। এ কাজটা আমি একটু অন্যভাবে করতে চাই।”
“কিভাবে?”
“আমার ধারনা ঐ মহিলা অবৈধভাবে ওখানে গেছে। এখান থেকে সরকারীভাবে অনুরোধ জানালে তাকে পশ্চিবঙ্গের অথরিটি খুব সহজেই পুশব্যাক করে দিতে পারবে সীমান্ত দিয়ে। সেখান থেকে আমি তাকে নিজের হেফাজতে নিয়ে নেবো।”
মাথা নেড়ে সায় দিলো পিএস। এভাবে অসংখ্য পুশব্যাকের মাধ্যমে আসামি আদানপ্রদান করে দুই প্রতিবেশী দেশ। “আর মহিলা যদি বৈধভাবে ওখানে গিয়ে থাকে, তাহলে?”
“তাতেও সমস্যা নেই। তার বিরুদ্ধে যে কেসগুলো আছে সেগুলো ওদেরকে জানাবো, আসামিকে পুশব্যাক করতে বলবো।”
একটু ভেবে নিলো পিএস। “সে যদি ওখানকার সিটিজেনশিপ বাগিয়ে নেয়? তিন বছর আগে গিয়ে থাকলে তো এই দীর্ঘ সময়ে নাগরিকত্ব নিয়ে নেয়াটা অসম্ভব কিছু না।”
মাথা নেড়ে সায় দিলো ছফা। এটারও সম্ভাবনা আছে।
“নিরাপদ থাকার জন্য, সম্পূর্ণ নতুন নামে, নতুন পরিচয়ে ভিন্ন একটি দেশের নাগরিক হয়ে যেতে পারে ঐ মহিলা।”
