ছফা স্থিরচোখে চেয়ে রইলো ডাক্তারের দিকে। লোকটার কথা বিশ্বাস করতে পারছে না সে, তবে এ নিয়ে কিছু বললোও না।
হাতঘড়িতে সময় দেখে নিলেন ডাক্তার। “আমার শরীর ভালো নেই, একটু পর ওষুধ খেয়ে বিশ্রাম নিতে হবে।”
মাথা নেড়ে সায় দিলো ছফা কিন্তু উঠে দাঁড়ালো না, তার বদলে গানম্যান আসলামের দিকে ফিরলো। লোকটা কয়েক মুহূর্ত চোখের ভাষা পড়েই উঠে দাঁড়ালো, এগিয়ে গেলো ডাক্তারের দিকে।
“আপনার মোবাইলফোনটা দিন,” গম্ভীর কণ্ঠে বললো সে।
অসহায়ের মতো তাকালেন ডাক্তার আসকার ইবনে সায়িদ। “আ আমার…” কণ্ঠ ধরে এলো তার। ছফার দিকে ফিরলেন। “আপনি আমার কথা বিশ্বাস করছেন না?”
“আমি সত্যি-মিথ্যা খতিয়ে না দেখে কোনো কিছু বিশ্বাস করি না।” ভু
রু কুঁচকে চেয়ে রইলেন আসকার ইবনে সায়িদ।
“মুশকানকে হাতের মুঠোয় না পেলে কী করে বুঝবো আপনার গল্পটা সত্যি নাকি মিথ্যে!”
ডাক্তারের নিশ্বাস দ্রুত হতে শুরু করলো। আক্ষেপে মাথা দোলালেন তিনি। কিন্তু ও কোথায় আছে সেটা তো আমি জানি না।”
এবার বাঁকাহাসি দিলো ছফা। “এতোক্ষণ ধরে আপনি যা বলেছেন তাতে হয়তো সত্যতা থাকলেও থাকতে পারে, কিন্তু এখন যেটা বলছেন সেটা একদমই নির্জলা মিথ্যে। মুশকানের সাথে আপনার বেশ ভালোই যোগাযোগ আছে, আর আমি সেটাই প্রমাণ করবো এখন।”
স্তম্ভিত হয়ে তাকিয়ে রইলেন ডাক্তার।
“আপনার ফোন আর পাসপোর্ট-ও দুটো হাতে পেলেই সব কিছু পরিস্কার হয়ে যাবে।”
“আ-আমি তো সেলফোন ইউজ করি না।”
কথাটা শুনে হেসে ফেললো ছফা, আদেশ করলো গানম্যানকে, “সার্চ করো।”
ডাক্তার হতভম্ব হয়ে তাকালেন ছফার দিকে। “আপনি বিনা ওয়ারেন্টে আমার বাসায় ঢুকেছেন, এখন আবার আমাকে সার্চ করতে বলছেন! আপনি এটা করতে পারেন না!”
“আইনত করতে পারি না,” জবাব দিলো সে, “কিন্তু আমি আপনার সাথে আইন-টাইন দেখাচ্ছি না এখন।”
আসলাম আগ্রাসি মনোভাব নিয়ে ডাক্তারের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে উঠে দাঁড়ানোর ইশারা করলো।
চুপচাপ উঠে দাঁড়ালেন আসকার ইবনে সায়িদ। “আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আপনার নামে কপ্লেইন করবো!” অসহায়ভাবে আত্মসমর্পন করার পরও হুঙ্কার দেবার চেষ্টা করলেন তিনি। “ওকে আমি বলবো-”
“আপনি প্রাইমিনিস্টারের কাছেও যেতে পারেন,” ডাক্তারের কথার মাঝখানে বাধা দিয়ে বললো নুরে ছফা। “ওসব জুজুর ভয় আমাকে দেখাবেন না। ভালোয় ভালোয় যা চাই তা দিয়ে দিন, নইলে আপনার সাথে অসম্মানজনক কিছু করা হবে।”
সন্দেহভাজনদের যেভাবে দেহতল্লাশি করে পুলিশ, তেমনিভাবে ডাক্তারের সারা শরীর তল্লাশি করলো পিএসের গানম্যান আসলাম, কিন্তু কিছুই পেলো না।
“ফোন তো নাই, স্যার। আমি এই লোকের ঘরগুলো তল্লাশি করি?”
ডাক্তারের দিকে তাকালো ছফা, “নিজে থেকে আপনার পাসপোর্ট আর ফোনটা দিয়ে দিন…নইলে ও কিন্তু ঠিকই তল্লাশি করে ওগুলো খুঁজে বের করবে, মাঝখান থেকে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে আপনার ঘরগুলো।”
ডাক্তার আসকার বিস্ময়ে চেয়ে রইলেন কয়েক মুহূর্ত। “আপনি আমার পাসপোর্ট চাইছেন!?”
মাথা নেড়ে সায় দিলো ছফা। “আমি যা যা চাইবো তার সবই আপনাকে দিতে হবে, নয়তো সেটা আদায় করে নেবো।”
“আপনি বেআইনী কাজ করছেন, অফিসার!”
হেসে ফেললো নুরে ছফা। “মুশকান জুবেরিকে খুঁজে বের করার জন্য যা যা করার করার দরকার সবই আমি করবো।”
ডাক্তার তাকিয়ে রইলেন ছফার দিকে। তার বিশ্বাসই হচ্ছে না কী শুনছেন!
“আসলাম, তুমি উনার ঘরগুলো সার্চ করো।”
৪০. ডাক্তার আসকার
অধ্যায় ৪০
“দাঁড়ান!”
দাঁতে দাঁত পিষে বললেন ডাক্তার আসকার।
ছফা তার দিকে তাকালো জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে। অনেক কষ্টে নিজের রাগ দমন করার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন ভদ্রলোক। তার শোবার ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আসলাম। দরজার নবের দিকে হাত বাড়াতে উদ্যত সে।
“আমি নিজেই এনে দিচ্ছি।” কথাটা বলে নুরে ছফার জবাবের অপেক্ষা করেই উঠে দাঁড়ালেন তিনি।
আসলামকে ইশারা করলো ছফা, দরজার নবটা ছেড়ে সরে দাঁড়ালো সে। ডাক্তার তার শোবার ঘরে ঢোকার সাথে সাথে সে-ও ঢুকে পড়লো ভেতরে। দরজাটা হাট করে খুলে রাখা হলো, সেই খোলা দরজা দিয়ে দেখা যাচ্ছে, ডাক্তার তার ওয়াল ক্যাবিনেট খুলে কী যেনো খুঁজছেন। তাকে শ্যেনদৃষ্টিতে বিদ্ধ করে রেখেছে আসলাম।
ডাক্তার নীলরঙের একটি পাসপোর্ট বের করে আসলামকে দেখাচ্ছেন, গানম্যান সেটা হাতে নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে আবার ফিরিয়ে দিলো তাকে, তারপর পুরো ঘরটা তল্লাশি করতে নেমে পড়লো। হতভম্ব ডাক্তার তাকালেন ছফার দিকে, হাত তুলে তাকে আশ্বস্ত করলো সে। দূর থেকেই বুঝতে পারলো, ডাক্তারের বৃটিশ পাসপোর্ট রয়েছে।
হাল ছেড়ে দিয়ে ডাক্তার আসকার চুপচাপ ড্রইংরুমে ফিরে এলেন। “আমি আসলেই মোবাইলফোন আর ইউজ করি না…আগে করতাম।”
ছফা এ কথার কোনো জবাব দিলো না। এটা একেবারেই অবিশ্বাস্য কথা। তার মতো একজন মানুষ মোবাইলফোন ব্যবহার না করে থাকতেই পারে না।
“আপনারা চাইলে আমার ল্যান্ডফোনটা ট্র্যাক করে দেখতে পারেন।”
“দরকার হলে সব কিছুই করবো আমি,” জবাব দিলো ছফা। হাত বাড়িয়ে দিলো ডাক্তারের দিকে।
ভদ্রলোক আস্তে করে পাসপোর্টটা দিয়ে দিলেন তাকে।
“তাহলে আপনি ডুয়েল সিটিজেন,” প্রশ্নের মতো শোনালো না ছফার কথাটা।
