“মিজান, ঐ বাড়িতে ঢুইকো না…চইল্যা আসে এক্ষুণি।”
ওসির কষ্ঠ কেমন ভয়ার্ত শোনাচ্ছে। “জি, স্যার?”
“খবরটা ভুয়া ছিলো। বুঝছো?”
“জি, স্যার…বুঝতে পারছি।” ওসিসাহেব কলটা কেটে দিলে তিক্তমুখে বাড়িটার দিকে তাকালো গুলশান থানার এসআই। যা ভেবেছিলো তা-ই। আরেকটা হোমরাচোমরার আস্তানা!
“কী হইছে, স্যার?” একজন কনস্টেবল জানতে চাইলো আগ্রহভরে।
“কিছু না…সবাই গাড়িতে ওঠো,” বলেই গেট থেকে সরে পিকআপ ভ্যানের দরজায় হাত রাখলো।
বাড়ির গেট ফাঁক করে যে দারোয়ান দাঁড়িয়ে আছে তার মুখে হাসি হাসি ভাবটা দেখে পিত্তি জ্বলে গেলো এসআইর। ক্ষমতার দাপট দেখাতে পেরে খুব মজা পাচ্ছে হারামজাদা।
কনস্টেবলরা কেউ কিছু না বলে চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসলো। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে এসআই মিজান যে-ই না পিকআপ ভ্যানের ড্রাইভারের পাশের সিটে বসতে যাবে অমনি বাড়ির ভেতর থেকে মেয়েলী কণ্ঠের চিৎকার শুনতে পেলো!
.
অধ্যায় ৮৭
ছফার মনে হচ্ছে কিছু একটা করা উচিত, কিন্তু কী করবে সেটাই ভেবে পাচ্ছে না।
একটু আগে নীচতলা থেকে বদরুল নামের একজন এসে বলে, বাড়িতে পুলিশ এসেছে।
“কেন এসেছে? কি চায় তারা?”
পিএসের এমন প্রশ্নে বদরুল কিছু জানাতে পারেনি।
“ওদেরকে ঢুকতে দিও না। তুমি নীচে যাও, আমি দেখছি।” কথাটা বলেই পিএস ঘর থেকে বেরিয়ে যায় বদরুলকে নিয়ে।
একটু পরই ফিরে এলে আসলাম জানতে চায়, পুলিশ কেন এসেছিলো।
চোয়াল শক্ত করে ফেলে আশেক মাহমুদ। “যে ছেলেটাকে আটকে রেখেছিলে, ও-ই পুলিশে খবর দিয়েছে।”
আসলাম খুবই অবাক হয়েছিলো, সেই সাথে শরমিন্দাও। ছফা আর সুস্মিতাও কথাটা শুনে বিস্মিত হয়েছে। শ্যামল যে বেঁচে আছে, তার জন্যে পুলিশ ডেকে নিয়ে এসেছে, এতে আশার আলো দেখতে পায় মেয়েটি।
“চিন্তার কিছু নেই,” আসলামকে আশ্বস্ত করে বলে পিএস। “ওরা চলে যাবে।”
এ কথা শোনার পরই সুস্মিতা চিৎকার দিয়ে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে আসলাম তার মুখ চেপে ধরে। ছফা মেঝে থেকে উঠতে যাবে, অমনি পিস্তলটা তার দিকে তাক করে দাঁতে দাঁত পিষে বলে, একদমই যেনো না নড়ে।
সুস্মিতার মুখটা এখনও শক্ত করে চেপে ধরে আছে আসলাম। পেছনে দু-হাত বেঁধে রাখার কারণে মেয়েটা কিছুই করতে পারছে না। পেছন থেকে একহাতে তার মুখটা শক্ত করে ধরে নিজের বুকের কাছে চেপে রেখেছে গানম্যান।
রেগেমেগে সুস্মিতার দিকে তাকালো পিএস। “চিৎকার করলেও কেউ তোকে বাঁচাতে আসবে না, বুঝেছিস!” তারপর ফোনটার দিকে তাকালো। কারোর কলের জন্য অপেক্ষা করছে সে। “আর একটা আওয়াজ করবি তো…” দাঁতে দাঁত পিষে রাগ দমন করার চেষ্টা করলো।
“খানকি মাগি!” এবার আসলাম ফিসফিসিয়ে বললো। “মুখ খুললেই শেষ করে দেবো।” পিস্তলটা এবার সুস্মিতার কপালে ঠেকালো। “বুঝতে পারছিস?”
“এখান থেকে পালিয়ে এক এমপিকে দিয়ে পুলিশ পাঠিয়েছে,” বললো আশেক মাহমুদ। “গুলশান থানাকে বলে দিয়েছি, এ বাড়ির ত্রিসীমানায় যেনো পুলিশ না ঘেষে।”
হাসি ফুটে উঠলো আসলামের মুখে।
পিএসের ফোনটা বেজে উঠতেই সঙ্গে সঙ্গে কলটা রিসিভ করা হলো। “হ্যা…বলুন?” ওপাশ থেকে শুনে গেলে কিছুক্ষণ। “ওরা কিছুই শোনেনি…ওকে?” একটু থেমে আবার বললো, “আপনি আপনার লোকজনকে এ বাড়ির সামনে থেকে চলে যেতে বলুন। এক্ষুণি। পরে আপনাকে সব বলবো, ঠিক আছে?” ওপাশ থেকে আরো কিছু কথা শোনার পর বললো, “আচ্ছা।”
“স্যার, এর মুখ বেঁধে রাখি?” সুস্মিতাকে ইঙ্গিত করে বললো আসলাম।
“হুম,” সায় দিলো।
পিএস এবার আরেকটা নাম্বারে ফোন দিলো। “ওরা কি চলে গেছে, বদরুল?” ওপাশের কথা শুনে হাফ ছেড়ে বাঁচলো যেনো। “তুমিও সেলিমের সাথে গেটের কাছে থাকো, চোখকান খোলা রাখবে, ঠিক আছে?” ফোনটা কান থেকে সরিয়ে আসলামের দিকে তাকিয়ে ইশারা করলো।
গানম্যান ঘরের এক কোণ থেকে একটা স্কচটেপ নিয়ে এসে সুস্মিতার মুখটা পেঁচিয়ে দিলো দক্ষতার সাথে। এবার ছফার দিকে তাকালো সে। “স্যার? এর মুখটাও বন্ধ করা দরকার।”– মাথা দোলালো পিএস। “দরকার নেই। অস্ত্র ছাড়া সে কীই বা করতে পারবে!” যেনো ছফার অযোগ্যতা সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা হয়ে গেছে তার। “তবে উল্টাপাল্টা কিছু করলে সোজা গুলি করে দেবে।” শেষ কথাটা খুবই শীতল কণ্ঠে বললো আশেক মাহমুদ।
ছফার কাছে কথাটা আতঙ্কের চেয়ে অপমানের মতোই বেশি শোনালো। তবে সে কিছুই বললো না। কেএস খান আর নিরীহ ছেলেটাকে বাঁচানোর জন্য যা করার দরকার তা-ই করেছে, এ নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই তার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওদের কী হলো কিছুই বুঝতে পারছে না।
“স্যার, আমার ফোনটা…” শুধু এটুকুই বললো ছফা।
সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তাকালো আশেক মাহমুদ।
“কেএস খান আর ঐ ছেলেটার কী হলো…” এবারও কথা শেষ করতে পারলো না।
“একদম চুপ মেরে থাকুন!” ধমকের সুরে বললো পিএস। “আপনি আর কোনো কথা বলবেন না।”
একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে। সুস্মিতার দিকে তাকালো। মেয়েটা ভয়ে পাথরের মতো জমে আছে।
“ওই ডাইনি যদি না আসে, এরে কী করবো, স্যার?” সুস্মিতাকে ইঙ্গিত করে বললো আসলাম।
“তোমার যা খুশি তা-ই কোরো, ঠিক আছে?”
পিএসের কথায় আসলামের চোখদুটো চকচক করে উঠলো।
আৎকে উঠলো সুস্মিতা। ছফা অবিশ্বাসে তাকালো আশেক মাহমুদের দিকে।
সোফায় গিয়ে বসে হাতঘড়িতে সময় দেখলো পিএস। সোফার উপর থেকে ছফার ফোনটা পকেটে ভরে নিলো এবার। “আর ওর পিস্তলটা আমাকে দাও।”
