“কী জেনে এছেন?” চেঁচিয়ে উঠলো সুস্মিতা।
বাঁকা হাসি দিয়ে মেয়েটার দিকে ফিরলো সে। “তোমার সমস্ত কীর্তিকলাপ!”
নীচের ঠোঁট কামড়ে ধরলো বন্দী।
“প্লাস্টিক সার্জন ডিপি মল্লিককে দিয়ে নিজের চেহারাটা বদলে ফেলার পর তাকে হত্যা করেছে,” একটু থেমে পিএসের দিকে তাকালো। “তারপরও থেমে থাকেনি, স্যার, সুকুমার রঞ্জন নামের আরেকজনকে শিকার বানিয়েছে এই ডাইনি।”
আশেক মাহমুদের চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো।
“ডাক্তার আসকার ওকে কলকাতায় থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন নিজের শ্বশুড় বাড়িতে। এমন কি, যে ডিপি মল্লিককে দিয়ে চেহারাটা বদলে ফেলেছে এই ডাইনি, তার খোঁজও ডাক্তারই দিয়েছেন।”
“ঐ ডাক্তার ওর সব অপকর্মের সঙ্গি,” বললো পিএস। “অসুস্থতার ভান করে দেশ ছাড়তে চেয়েছিলো, আমি আটকে দিয়েছি।”
সুস্মিতা স্থিরচোখে তাকিয়ে রইলো পিএসের দিকে। লোকটা কে সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই। তবে সে বুঝতে পারছে, ক্ষমতাবান কেউই হবে।
মাথা নেড়ে সায় দিলো ছফা। “স্যার, আপনি চাইলে ভিডিও কলের মাধ্যমে আপনার বোনকে এখন দেখাতে পারেন, হাসিবের হত্যাকারী-”
ছফার কথা শেষ হবার আগেই আক্ষেপে মাথা দোলালো আশেক মাহমুদ। “এই ডাইনি তো চেহারাটাই পাল্টে ফেলেছে…আমার বোন তাকে দেখলে বিশ্বাস করতে চাইবে না, ভাববে…” কথাটা শেষ করলো না সে।
এবার ছফা বুঝতে পারলো। মৃত্যুপথযাত্রি হাসিবের মা মুশানের এই চেহারা দেখলে হয়তো ভাবতে পারে, তার ভাই তাকে শেষ সময়ে এসে মিথ্যে সান্ত্বনা দিতে চাইছে। মাথা থেকে চিন্তাটা বাদ দিয়ে দিলো সে। “আচ্ছা, ওর সঙ্গে যে ছেলেটা ছিলো সে কোথায়?” আসলামের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলো।
“নীচতলায় আছে,” ছোট্ট করে জবাব দিলো সাবেক এসআই।
“নিরীহ একটা ছেলে, ওকে ছেড়ে দিলেই ভালো হয়।”
পিএস তাকালো আসলামের দিকে।
“ওকে ছেড়ে দিলে সমস্যা হবে না?” গানম্যান সন্দেহের সুরে জানতে চাইলো।
“কী সমস্যা করবে ও?” পাল্টা জানতে চাইলে ছফা। “আমরা যাকে খুঁজছিলাম তাকে পেয়ে গেছি। এই আসামীকে এখন হাসিবের কেসে অ্যারেস্ট দেখাবো, এর সাথে ঐ ছেলেটার কোনো সম্পর্ক নেই।”
কিছুই বললো না আসলাম।
“ওকে একটা সিএনজিতে তুলে বাসস্টেশনে পাঠিয়ে দিলেই ভালো হয়,” ছফা প্রস্তাব দিলো। “কিছু টাকা দিয়ে দিলে সুন্দরপুরে চলে যেতে পারবে ছেলেটা।”
কথাটা শুনে কিছুটা আশান্বিত হলো সুস্মিতা।
সম্মতির জন্য পিএসের দিকে তাকালো আসলাম। আশেক মাহমুদের মধ্যে দ্বিধা দেখা দিলেও কী যেনো ভেবে ছফার কথাটা মেনে নিলো অবশেষে।
“ঠিক আছে…ছেড়ে দাও ওকে।”
এটা পছন্দ হলো না গানম্যানের, তারপরও কোনো প্রতিবাদ না করে নীচে চলে গেলো।
“এ পর্যন্ত কয়জনকে শিকার বানিয়েছে কলকাতায়?” বন্দীকে জিজ্ঞেস করলো ছফা।
গভীর করে দম নিলো সুস্মিতা, কিন্তু কিছুই বললো না।
“আর হাসিবকে কী করেছে সেটাও বলো। এখন তোমাকে বলতেই হবে, না বলে উপায় নেই।”
সুস্মিতা মুখটা সরিয়ে নিলো অন্যদিকে।
“তুমি ভেবেছিলে আমার হাত থেকে বাঁচতে পারবে?” বন্দীর দিকে একটু ঝুঁকে এলো সে। “কলকাতায় গিয়ে নতুন চেহারা আর নতুন পরিচয় নিয়েছিলে কি সুন্দরপুরে ফিরে আসার জন্যই? ওখানকার পুলিশের নজরে পড়ে যাও বলে কলকাতা থেকে পালিয়ে আবার পুরনো জায়গায় ফিরে গেছিলে?”
বাঁকা হাসি দিলো সুস্মিতা। “আমি তো ভেবেছিলাম ওঁ-ই পালের গোদা,” পিএসকে ইঙ্গিত করে বললো। “এখন দেখছি নতুন আরেকজন এসে হাজির!”
ছফা ভুরু কুঁচকে তাকালো। “আমাকে তুমি চেনো না? নাকি না চেনার ভান করছো?”
ছফাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে নিলো সুস্মিতা। “চিনবো না কেন, আমাদের স্কুলে…মাস্টারমশাইয়ের অফিসে দেখেছি না ক-দিন আগে।”
অবাক হলো নুরে ছফা। “ক-দিন আগে!” কপট প্রশংসার অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুললো সে। “দারুণ। তিন বছর আগের স্মৃতি তাহলে বেমালুম ভুলে গেছে? নাকি ভুলে যাওয়ার ভান করছো?”
এবার সুস্মিতার অবাক হবার পালা। সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো ছফার দিকে। কিছুই বুঝতে পারছে না যেনো।
পিএস কিছু বলতে যাবে অমনি ঘরে ঢুকলো আসলাম। তার চোখেমুখে অস্থিরতা। “কী হয়েছে?”
“ঐ ছেলেটা…” ইতস্তত করলো গানম্যান।
ছফা আর সুস্মিতাও আগ্রহী হয়ে তাকালো।
“ছেলেটা তো নেই!”
“কি!” পিএস আৎকে উঠলো।
“নেই মানে কি?” জানতে চাইলো ছফা।
একটু কাচুমাচু খেলে আসলাম। “ওকে নীচ তলায় রেখেছিলাম, ওখানে গিয়ে দেখি নেই…পালিয়েছে। সেলিম আর বদরুল কিছুই বলতে পারছে না।”
সুস্মিতা অবিশ্বাসে চেয়ে রইলো কয়েক মুহূর্ত। কথাটা বিশ্বাসই হচ্ছে না তার।
“হাত-পা-মুখ বাঁধা ছিলো,” ব্যাখ্যা করলো আসলাম। তাকে খুবই লজ্জিত দেখাচ্ছে এখন। “দড়ি খুলে পালিয়েছে।”
“মিথ্যে কথা!” প্রায় চিৎকার করে বলে উঠলো সুস্মিতা।
ঘরের বাকি তিনজন পুরুষ অবাক হয়ে তাকালো তার দিকে।
“ওরা শ্যামলকে খুন করেছে!”
.
অধ্যায় ৭৭
সুস্মিতার অভিযোগের কথা শুনে পিএস আশেক মাহমুদ আর আসলাম রেগেমেগে একাকার হলেও নুরে ছফার কেনজানি মনে হচ্ছে, আসলেই ছেলেটাকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলা হয়েছে।
উইটনেস এলিমিনেশন? হতে পারে।
“আমার আগেই সন্দেহ হয়েছিলো,” সুস্মিতা কাঁদতে কাঁদতে বললো। “ওরা ওকে মেরে ফেলবে।”
“চুপ কর্!” ধমক দিয়ে উঠলো আসলাম। “ন্যাকামি চোদাবি না, মাগি! ওই ছেলে পালিয়েছে।”
