গভীর করে দম নিয়ে নিলো সুস্মিতা। নিজের সাথে কঠিন সংগ্রাম করছে যেনো।
“বল!” দাঁতে দাঁত পিষে বললো আশেক মাহমুদ।
নিজেকে ধাতস্থ করে স্থিরচোখে তাকালো পিএসের দিকে। “আমি সেটা বললেই কি আপনি ওই জিনিস সংগ্রহ করতে পারবেন? কী করে পারবেন?” সুস্মিতা কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলো যেনো।
“সেটা নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না,” দাঁতে দাঁত পিষে বললো আশেক মাহমুদ। “আমি যা জানতে চাইছি সেটা ব!” ধমক দিয়ে উঠলো আবার।
“ধমক দিচ্ছেন কেন?” শান্তকণ্ঠে বললো সুস্মিতা। “বলছি তো, ওটা আমি বলবো।”
“জাস্ট নেইম ইট!” চোয়াল শক্ত করে বললো পিএস।
সুস্মিতা কিছু একটা বললো প্রায় অস্কুটস্বরে।
“কী বললে!?” মেয়েটা থেকে বেশ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে পিএস, তার বলা কথাটা শুনতে পায়নি স্পষ্ট করে।
“বেশি জোরে বলতে পারবো না, তাহলে ও শুনে ফেলবে,” দরজার বাইরে থাকা আসলামের দিকে ইঙ্গিত করলো।
“ও শুনবে না,” জোর দিয়ে বললো পিএস।
“যদি শুনে ফেলে?”
গভীর করে নিশ্বাস নিলো আশেক মাহমুদ। “শুনলে কী হবে? ও আমার অনেক বিশ্বস্ত।”
“আপনি শিওর, ও শুনে ফেললে কিচ্ছু হবে না?”
সুস্মিতার হেয়ালিটা মোটেও ভালো লাগলো না পিএসের। রেগেমেগে কাছে এসে তার চুলের কুঁটিটা ধরে জোরে ঝাঁকুনি দিলো। “জাস্ট সে ইট…ইউ বিচ!”
বন্দী বেশ শব্দ করে নিশ্বাস নিলো, যেনো আশেক মাহমুদের শরীরের গন্ধ নিচ্ছে! মেয়েটার এমন আচরণে ভড়কে গিয়ে চুলের মুঠিটা ছেড়ে দেবে পিএস, তার আগেই দেখলো ফিসফিসিয়ে কী যেনো বলে উঠলো সে।
“কী বললে?” উদগ্রীব হয়ে জানতে চাইলো আশেক মাহমুদ।
“অত জোরে বলতে পারবো না…কাছে এসো!”
পিএস দেখতে পেলো, বন্দীর অভিব্যক্তি পাল্টে গেছে, নেশাগ্রস্তের মতো দেখাচ্ছে তাকে।
“আমি চাই না এটা অন্য কেউ জেনে যাক!” নীচু কণ্ঠে বললো সে।
আশেক মাহমুদ বন্দীর খুব কাছে চলে এলো। হাত-পা বাঁধা এক মেয়ে কীই বা করতে পারবে! সুতরাং মেয়েটা মুশকান জুবেরি জানা সত্ত্বেও পিএস বিন্দুমাত্র ভয় পেলো না। ঘরের বাইরে তার গানম্যান আসলাম আছে, উল্টাপাল্টা কিছু করলে একে ছিঁড়ে খুবলে খাবে সে।
“আবার বল!” তাড়া দিলো পিএস।
বন্দী খুবই নীচুকণ্ঠে বলে দিলো যেটা জানার জন্য আশেক মাহমুদ উতলা হয়ে আছে। কান খাড়া করে শুনে গেলো সেটা, তারপর একটু পিছিয়ে গেলো সে। তার চোখেমুখে বিজয়ীর অভিব্যক্তি, যেনো মহার্ঘ্য কিছু জানতে পেরেছে।
“ঐ ষণ্ডাটা জানলে কিন্তু তোমাকেই খেয়ে ফেলবে!”
কথাটা শুনে স্থিরচোখে চেয়ে রইলো আশেক মাহমুদ, তবে নিজের অভিব্যক্তি লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হলো। “ওকে নিয়ে তোর চিন্তা না করলেও হবে, ডাইনি কোথাকার!”
“ডাইনি বলে গালি দেবে না, বলে দিচ্ছি,” নেশাগ্রস্তের মতো করে বললো মেয়েটি। যেনো দীর্ঘ সময় ধরে বন্দী অবস্থায় থেকে, টর্চার হতে হতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। তারপর হেসে ফেললো। “গাণ্ড কোথাকার!”
আশেক মাহমুদ সন্দেহগ্রস্ত দৃষ্টি নিয়ে চেয়ে রইলো কয়েক মুহূর্ত। এই গালিটার মানে তার জানা নেই। “কী বলতে চাচ্ছিস, তুই?” অবশেষে বললো সে।
সুস্মিতা আরো কিছু বলতে যাবে, অমনি তার ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠলো। ফোনের ডিসপ্লেতে কলার আইডি দেখেই ভুরু কুঁচকে গেলো তার। আস্তে করে উঠে ঘরের বাইরে চলে গেলো আবার। আসলামকে ইশারা করলো ঘরে ভেতরে যাবার জন্য।
“হ্যাঁ, বলুন…” সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ের কাছে এসে বললো পিএস। তাকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কলটা করেছে।
“ডাক্তার আসকারের সাথে আপনার সমস্যাটা কি, একটু বলবেন? তাকে আপনি দেশের বাইরে যেতে দিচ্ছেন না কেন? তিনি তো খুব অসুস্থ, বিদেশে যাওয়াটা খুবই জরুরী।”
গভীর করে দম নিয়ে নিলো প্রধানমন্ত্রীর পিএস। তার দল ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী আর উপমন্ত্রী রিক্রুট করার সময় অনেকেই জোর লবিং শুরু করেছিলো, আশেক মাহমুদকে ধরেওছিলো অনেকে, যেনো তাদের ভাগ্যে মন্ত্রীত্বের শিকে ছেড়ে। পিএস তখন এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হয়ে তদবির করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তবে এটাও ঠিক, তার তদবিরে ভদ্রলোক মন্ত্রীত্ব পায়নি, প্রধানমন্ত্রীর গুডবুকে আগে থেকেই নামটা ছিলো। সম্ভবত মন্ত্রীত্ব লাভের পর ভদ্রলোক এটা জেনেও গেছে, তাই পিএসের প্রতি খুব একটা কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করে না।
“আমি আপনার সাথে দেখা করে সব খুলে বলবো। আপনি ডাক্তারকে নিয়ে চিন্তা করবেন না…পুরোপুরি সুস্থ আছে, অসুস্থতার ভান করে বিদেশে যেতে চাইছে সে।”
ফোনের ওপাশে নীরবতা নেমে এলো। “উনার মেয়ে…” কয়েক মুহূর্ত পর দ্বিধাগ্রস্ত কণ্ঠে বললো মন্ত্রী, “…বাড়ি থেকে বের হবার পর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তার।”
“তাই নাকি।” রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দটাই ব্যবহার করলো সে।
“মেয়েটার ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার সাথে আরেকটা ছেলেও আছে…একেবারেই নিরীহ একটা ছেলে।”
পিএস আরো কিছু শোনার জন্য চুপ মেরে রইলো। মন্ত্রীর ইঙ্গিতটা ধরতে বেগ পেতে হলো না তার নিরীহ কারোর ক্ষতি যেনো না করা হয়।
“ওদের সাথে খারাপ কিছু হলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া খুবই কঠিন হয়ে যাবে।”
“আপনি আমাকে এসব বলছেন কেন?” এবার একটু আগ্রাসি না হয়ে পারলো না আশেক মাহমুদ।
