আসলামকে দেখে মনে হলো, দৃশ্যটা বেশ উপভোগ করছে সে।
.
অধ্যায় ৭৩
বার কয়েক মৃত্যুর খুব কাছে চলে এসেছিলো সুস্মিতা, তবে সে জানতো তাকে মেরে ফেলা হবে না, ভয় দেখানোর জন্যই মৃত্যুর স্বাদ দিচ্ছে কেবল।
পলিথিন ব্যাগের ভেতরে আবদ্ধ থেকে তার দম যখনই ফুরিয়ে যাচ্ছিলো, নিশ্বাস নেবার জন্য ফুসফুস ফেঁটে যাবার উপক্রম হচ্ছিলো, ঠিক তখনই তার অপহরনকারী পলিথিন ব্যাগটা দু-হাতে টেনে ছিঁড়ে ফেলেছে। একটু আগেও তাই করেছে লোকটা।
উদভ্রান্তের মতো বুকভরে নিশ্বাস নিলো সে, তারপর শ্বাসপ্রশ্বাস একটু স্বাভাবিক হয়ে এলে ঘৃণাভরে তাকালো অপহরনকারীর দিকে। আস্ত একটা পিশাচ। তার সুতীব্র যন্ত্রণা উপভোগ করেছে পশুটা। অসূর বোধহয় এমনই হয়!
“এখনও বলবি না?” আসলাম মুচকি হেসে বললো। “নাকি আরো ব্যাগ নষ্ট করতে হবে?”
“তোকে আমি ছাড়বো না, ইউ ব্লাডি মাদার ফাকার!”
হা-হা করে হেসে উঠলো আসলাম। “আমিও চাই না তুই আমাকে ছেড়ে দে।” কথাটা বললো লম্পটের মতো হাসি দিয়ে। তারপর সুস্মিতার খুব কাছে এসে, তার চোখে চোখ রেখে বললো, “আমি চাই…আমাকে ধরে রাখবি…অনেকক্ষণ! ধরবি আর ছাড়বি! ছাড়বি আর ধরবি! অনেকক্ষণ ধরে করবি এটা!”
অসহায়ের মতো তাকালো সুস্মিতা। এরকম পারভার্ট আর সাইকোপ্যাথের খপ্পরে যে পড়বে কখনও ভাবেনি।
বেশ শান্তকণ্ঠে বললো গানম্যান, “ভেবে দেখ, এখন যদি স্বীকার না করিস তো অন্য মেথড ইউজ করবো। সেটা কিন্তু তোর জন্য ভালো হবে না।” কথাটা বলার সময় জিপারে হাত রাখলো ইঙ্গিতপূর্ণভাবে।
কয়েক মুহূর্ত তার দিকে চোখ কুঁচকে চেয়ে রইলো বন্দী। সে জানে তথ্যটা আদায় না করে তাকে হত্যা করবে না এরা। সুতরাং নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে তথ্যটা বলে দেয়া মানে মৃত্যুকে স্বাগত জানানো। গভীর করে দম নিয়ে নিলো। আমার একটা সামান্য শর্ত ছিলো, ওটা মানলে আমি সব বলে দেব।”
মেয়েটার এমন দৃঢ়তা দেখে দারুণ অবাক হলো আসলাম।
“তোর বসকে বল, এসব করে করে শুধু সময় নষ্ট করছে…মরে গেলেও কিছু বলবো না।”
“খানকি মাগি!” দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠলো আসলাম। সজোরে চড় মারলো একটা। সেই চড়ের জোর এতোটাই যে, কয়েক মুহূর্তের জন্য চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করলো বন্দী। আরেকটা চড় মারার জন্য যেই না হাত তুলবে, অমনি পিএসের কণ্ঠ শুনে থমকে গেলো আসলাম।
“দরকার নেই।”
আশেক মাহমুদ ঘরে ঢুকেছে এইমাত্র। আসলাম সরে এলো বন্দীর কাছ থেকে।
“ছেলেটার জন্য তার অনেক দরদ!” শান্তকণ্ঠে বললো পিএস। “কতো দরদ সেটাও একটু পরই জানা যাবে,” মুচকি হাসলো সে। “নীচে গিয়ে ঐ ছেলেটার একটা আঙুল কেটে এনে ওকে দেখাও। তারপরও যদি না বলে তাহলে আরেকটা আঙুল কাটবে। দেখি, কতোক্ষণ এসব সহ্য করে সে।”
সুস্মিতা তীব্র আতঙ্কে চেয়ে রইলো। শ্যামলের জন্যে তার মমত্ব প্রকাশ করে যে বিরাট বড় ভুল করে ফেলেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
আসলাম মাথা নেড়ে সায় দিলো।
উদভ্রান্তের মতো বলে উঠলো বন্দী, “ওকে টর্চার করে আমার কাছ থেকে কথা আদায় করার চেষ্টা ভুলেও করবেন না, করলে আমি একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবো।”
অবাক হলো পিএস। “কি সিদ্ধান্ত নিবি তুই?”
“আমি তখন ধরেই নেবো, শ্যামল এবং আমাকে বাঁচিয়ে রাখবেন না আপনারা। সুতরাং যা জানতে চান সেটাও আমি বলবো না। যতো ইচ্ছে টর্চার করুন।”
বন্দীর এমন দৃঢ়তা দেখে পিএস একটুও হতোদ্যম হলো না, মুচকি হাসি দিলো শুধু। “আসলাম, তুমি নীচে যাও। যা বললাম তাই করো।”
পিএসের কৌশলটা বেশ ভালো লাগলো গানম্যানের। হাসতে হাসতে ঘর থেকে বের হবে অমনি বন্দী হাল ছেড়ে দেবার ভঙ্গিতে বলে উঠলো। “প্লিজ! ঐ ছেলেটার কিছু করবেন না। প্লিজ! আমি সব বলবো আপনাকে!”
হাত তুলে আসলামকে থামিয়ে দিলো আশেক মাহমুদ। তার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।
“তাহলে দেরি করছিস কেন? বল!” ধমক দিয়ে বললো আসলাম।
এমন সময় পিএসের ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠলো। বিরক্ত হয়ে পকেট থেকে ফোনটা বের করে কলার আইডি দেখে থমকে গেলো সে। “আমি একটু আসছি,” আসলামকে বলেই ঘর থেকে বের হয়ে গেলো আশেক মাহমুদ।
কিছু বুঝতে না পেরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো গানম্যান। প্রায় মিনিটখানেক পর বাইরে থেকে পিএসের কণ্ঠটা ভেসে এলো।
“আসলাম…একটু বাইরে আসো।”
সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে বের হয়ে সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ের কাছে গেলো আসলাম। পিএসের চোখেমুখে অসন্তুষ্টি।
“কি হয়েছে, স্যার?”
“নুরে ছফা চলে আসার আগেই যা করার করতে হবে।”
আসলাম জানে, করার মতো দুটো কাজই আছে : মুশকানের কাছ থেকে একটা তথ্য আদায় করা আর তার সঙ্গে যে ছেলেটা আছে তাকে সরিয়ে দেয়া।
অরিজিনাল রোলেক্স ঘড়িতে সময় দেখে নিলো পিএস। “আমাদের হাতে বেশি সময় নেই। তুমি এখানেই থাকো, আমি একটু একা ওর সঙ্গে কথা বলবো।”
.
অধ্যায় ৭৪
আশেক মাহমুদকে ঘরে একা ঢুকতে দেখে সুস্মিতা অবাক হলো একটু। অপহরণকারী লোকটা কোথায় গেছে অনুমাণ করতে পেরে ভড়কে গেলো সে।
বন্দীর দিকে ধীরপায়ে হেঁটে এসে পিএস বললো, “এখন বল, ঠিক কোন জিনিসটা তুই খাস? আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিবি না।”
অবিশ্বাসে চেয়ে রইলো সুস্মিতা।
“শেষ পর্যন্ত তুই কিন্তু বলবি…ভালো হয় ওই ছেলেটার সাথে খারাপ কিছু করার আগেই বলে দিলে।”
