আমি ওর দিকে তাকিয়ে ঘাড় নাড়লাম।
খাবারের প্লেট নিয়ে টেবিলে এসে যখন বসছি, দেখি নন্দনা আর শুক্লাদি রীতিমতন জড়াজড়ি করে ডাইনিং হল থেকে বেরিয়ে গেল। নন্দনার পা ফেলার তালে-তালে ছমছম করে শব্দ হচ্ছিল। আর শুক্লাদি আদরের হাতে নন্দনার কপালে-চলে-আসা চুলের গুছি ঠিকঠাক করে দিচ্ছিল।
ওদের চলে যাওয়া দেখতে-দেখতে সেকেন্ড ইয়ারের জয়শ্রীদি চাপা গলায় বলল, দিদিভাই বোনটিকে তোমরা যেন ওপরে গিয়ে আর ডিসটার্ব কোরো না। এখন ওদের ইয়ের সময়।
ওর বলার ঢঙে আশপাশের কয়েকজন চাপা গলায় হেসে উঠল।
.
ঝরনার কাছ থেকে দিদিভাই-বোনটি-র ব্যাপার পুরোপুরি বুঝে ওঠার আগেই আমি সেই রহস্যের মাঝে গিয়ে পড়লাম। তারপর সাগরের ঘূর্ণি যেভাবে খুশি মরজিমতন নিয়ে যায়, আমিও উথালপাতাল ভেসে গেলাম।
সেদিন দুপুরে রত্নাদির কাছে আমি গিয়েছিলাম।
রত্নাদি আমাকে বিশেষ কোনও দরকারে ডাকেনি। তিনতলার ঘরে একটা জানলার ধারে বসে আমার সঙ্গে নানা গল্প করতে লাগল। আমার বাড়ির কথা জিগ্যেস করল, পড়াশোনা নিয়ে কিছু পরামর্শ দিল, কলেজের প্রফেসারদের কারও কারও সম্পর্কে সতর্ক করে দিল। এ ছাড়া আরও অনেক এলোমেলো কথা বলল।
কথা বলার সময় রত্নাদি আমার কপাল থেকে চুল সরিয়ে দিচ্ছিল, শাড়ির আঁচল ঠিক করে দিচ্ছিল, আর কখনও বা আমার কানের ইমিটেশান দুল কিংবা গলার হারের ডিজাইন হাতে ধরে পরখ করছিল।
প্রথম-প্রথম একটু অস্বস্তি হলেও পরে ব্যাপারটা আমি স্নেহ বলে ধরে নিয়েছিলাম। বাড়ির আপনজনদের ছেড়ে আসার পর এখানে যদি কেউ এতটুকুও আপন করে নেয় সেটা কিছু কম পাওয়া নয়।
সেদিন সন্ধের মুখে আমি রত্নাদির কাছ থেকে চলে এসেছিলাম। বলেছিলাম, কিছু নোটস তৈরি করার আছে।
রত্নাদি মিষ্টি করে বলেছিল, পরে আবার আসিস। আর কোনও অসুবিধে হলে আমাকে বলবি কিন্তু।
এরপর ক্লাস নোট আর পড়াশোনায় বেশ কদিন নিজেকে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। তবে তারই মধ্যে কিছু উটকো ঝাট লেগে থাকত। যেমন জয়শ্রীদির ময়েশ্চারাইজারের কৌটো কোথায় উধাও হয়ে গেল সে নিয়ে হইচই। শর্মিলার একটা সালোয়ার দিয়ে কে যেন পেনের কালি মুছেছে। নন্দনার ব্যাগ থেকে একশো টাকা চুরি গেল একদিন। সে নিয়ে মাসিদের সঙ্গে নন্দনার প্রায় বচসা লেগে গেল।
মাসিরা সকাল-সন্ধে আমাদের ঘর ঝাড়পোছ করে। আমাদের বেশিরভাগের সঙ্গেই ওদের বেশ ভালো সম্পর্ক। ওরা আমাদের অনেক অন্তরঙ্গ কথা শোনে, অন্তরঙ্গ অনেক কিছু দ্যাখে। তাই ওদেরকে বকশিশও দেয় কেউ-কেউ। নন্দনাও দেয়। কিন্তু একশো টাকা চুরি যাওয়াতে নন্দনা খেপে গিয়ে রীণাদিকে ব্যাপারটা জানাল। রীণাদিও ওর ঘরের সব মেয়েকে ডেকে বেশ কড়া ভাষায় বকে দিলেন। সারদামাসি আর মঙ্গলমাসিকেও শাসাতে ছাড়লেন না।
এই ঘটনার ঠিক পরেই একদিন সোনালি বলল, দুপুরবেলা বালেশ্বর নাকি একতলার বাথরুমের ঘষা কাচের জানলার ফাঁক দিয়ে উঁকিঝুঁকি মারছিল। থার্ড ইয়ারের দিদিরা ব্যাপারটা শুনে বালেশ্বরকে আড়ালে চেপে ধরল। তারপর সুপারের চোখকে ফাঁকি দিয়ে মাঝবয়েসি লোকটাকে একতলার সিঁড়ির পাশে টেনে নিয়ে গিয়ে কান ধরে দশবার ওঠবোস করাল। মাসিরা ব্যাপারটা শুনে যে-ভাষায় বালেশ্বরকে গালিগালাজ করল আগমার্কা রকবাজ ছেলেও সে-ভাষা শুনে লজ্জা পাবে।
এইভাবে একটা সপ্তাহ ঘুরতেই রোববার সকালবেলা চলে এল আবার।
ঝরনার বাড়ি থেকে কাকা এসেছে দেখা করতে। ও তাড়াতাড়ি ড্রেস করে নিচ্ছিল। ব্রা টা কোনওরকমে পরে ও আমার কাছে এসে পেছন ঘুরে দাঁড়াল। বলল, হুকটা লাগিয়ে দে তো!
আমি সোমবারের ক্লাসের জন্যে দরকারি কয়েকটা নোট গুছিয়ে রাখছিলাম। সেটা ছেড়ে ঝরনার ফরসা পিঠে চোখ রাখলাম। তারপর হুকটা লাগিয়ে দিলাম।
ঝরনা রোজ অলিভ অয়েল মাখে, তাই ওর ত্বক খুব মসৃণ। ওর সুন্দর পিঠের দিয়ে তাকিয়ে আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল, তোর স্কিনটা খুব মোলায়েম।
ঝরনা আমার দিকে ঘুরে দাঁড়াল, ব্রা-র কাপ দুটো ঠিকমতো সেট করতে করতে বলল, তোর আবার এত মোলায়েম ব্যাপারের দিকে নজর কেন রে! তোরটা কি কিছু কম মোলায়েম!
না, তা না– আমি অপ্রস্তুত হয়ে বললাম।
ঝরনা ফিক করে হেসে বলল, দাঁড়া আজ রাতে মেপে দেখব কারটা বেশি মোলায়েম
একথায় আর-এক রুম মেট কাকলি ওর পড়া থামিয়ে বলল, উঁহু, আজ রাতে বকুলেরটা মাপবে রত্নাদি।
আমি অবাক হয়ে কাকলির দিকে তাকালাম। এর মানে!
আমার প্রশ্নময় দৃষ্টির উত্তরে কাকলি বলল, আর সিক্রেট রেখে লাভ নেই, কী বলিস, ঝরনা?
ঝরনা শুধু খিলখিল করে হাসল, তারপর কামিজটা পরে নিল অভ্যস্ত ভঙ্গিতে।
কাকলি ঠোঁট টিপে হেসে বলল, আজ রাতে তোমাকে আর রত্নাদিকে ঝোলানো হবে–
ঘরে আমি, কাকলি, আর ঝরনা। আর সবাই এদিক-ওদিক কোথাও গেছে। আমি কাকলির কথায় আরও অবাক হয়ে জানতে চাইলাম, আমাকে আর রত্নাদিকে ঝোলানো হবে মানে?
ঝরনা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে-যেতে বলে গেল, কাকলি, তুই বকুলকে যা বলার বলে দে, আমি চললাম।
কাকলি আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আবদারের সুরে পালটা প্রশ্ন করল আমাকে, আগে বল, রত্নাদিকে তোর কেমন লাগে?
আমি কয়েক লহমা ভেবে ইতস্তত করে জবাব দিলাম, ভালোই।
রত্নাদির সঙ্গে কথাবার্তা মেলামেশার মুহূর্তগুলো মনে পড়ছিল আমার।
