আ সিঙ্গল অবজেক্ট ক্যান নট ফিজিক্যালি একজিস্ট অ্যাট টু ডিফারেন্ট প্লেসেস অ্যাট দ্য সেম টাইম। দ্য অবজেক্ট, ইফ সাবজেক্টেড টু টাইম ট্রাভেল ইন দ্য পাস্ট, উইল অলওয়েজ রিপ্লে ইটস রোল–অফ কোর্স ইগনোরিং দ্য এজিং ফ্যাক্টর ফ্ললেসলি। আদারওয়াইজ ইট উইল অলওয়েজ কাম আপ উইথ দ্য এরার মেসেজ মিসম্যাচ ফেলিয়োর।
মেশিনটা তৈরি এবং আবিষ্কারের ধাপগুলো নিয়ে আমি যে-বিশাল থিসিস তৈরি করেছি, তারই একটা অংশ আপনাদের মুখস্থ শোনালাম। আমি এর নাম দিয়েছি টাইম মেশিনের এজিস্টেন্স প্যারাডক্স।
মেশিনটা নিয়ে আমার কয়েকটা স্পেশাল কাজ সারা হয়ে গেলেই আমি এই আবিষ্কারটার কথা রীতিমতো ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সারা পৃথিবীকে জানাব। তখন আমার থিসিসটাও পাবলিশ করে সারা পৃথিবীর সায়েন্টিস্টদের চমকে দেব। এবং ভারতমাতার মুখ উজ্জ্বল করব।
অতীত নিয়ে মেশিনটার এই প্রবলেম থাকলেও ভবিষ্যৎ বেশ উজ্জ্বল। যদি মেশিনটার প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আমি নিজে ভবিষ্যতে চলে যাই তা হলে বর্তমান থেকে আমি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাব এবং আমার ডায়াল সেট করা জায়গায় আমার আবির্ভাব ঘটবে। সেখানে যতক্ষণ খুশি আমি থাকতে পারি কিন্তু সেই সময়টুকু মেশিনটার কাছে আমাকে দেখা যাবে না। আবার যখন আমি ফিরে আসব তখন আমাকে মেশিনটার প্ল্যাটফর্মের ওপরে হঠাৎ করে আবির্ভূত হতে দেখা যাবে।
সোজা কথায়, সময়ের একমুখী গতিকে কিছুতেই থামানো যাবে না, বদলানো যাবে না।
এই এজিস্টেন্স প্যারাডক্স নিয়ে আগের বিজ্ঞানীরা ভাবেননি।
ভাগ্যিস ভাবেননি! ভাবলে আমার কপালে এই কৃতিত্ব আর জুটত না।
জিনিয়ার কাছ থেকে বরফের মতো উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়ে আমি কিন্তু মোটেই দমে গেলাম না। বরং একটা জেদ চেপে গেল মনে। চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে চলে গেলাম একতলার গ্যারাজে মানে, আমার ল্যাবরেটরিতে। আমার মহান আবিষ্কারের দিকে তাকিয়ে আমার আবেগ এবং ইগো একেবারে উথলে উঠল।
ওই তো নীল রঙের বাক্সটা! আমার বিলাভেড ইনভেনশান! ওর কেরামতি দেখিয়ে আমি কি জিনিয়াকে চমকে দিতে পারি না? ওর তাচ্ছিল্য আর উপেক্ষার মুখের মতো জবাব দিতে পারি না? নিশ্চয়ই পারি।
একটা আওয়ারা বেড়াল প্রায় বছরতিনেক ধরে আমাদের বাড়িতে ঘোরাঘুরি করে। জিনিয়া সবসময় ওকে খেতে-টেতে দেয়, লালনপালন করে। আমিও ওকে মাঝে-মাঝে আদর-টাদর করি। তার কারণ, আমার ডিফারেন্ট এক্সপেরিমেন্টের ও-ই হচ্ছে একমাত্র অ্যাভেইলেবল গিনিপিগ। তাই ওকে আমি গিনিপিগ বলেই ডাকি। জিনিয়ার মতে ব্যাপারটা বৈজ্ঞানিক আহ্লাদ ছাড়া আর কিছুই নয়। জিনিয়া ওকে আদুরে নাম দিয়েছে মিষ্টি।
এদিক-ওদিক সামান্য খোঁজাখুঁজি করতেই গিনিপিগকে পেয়ে গেলাম। পাঁউরুটির টুকরো দেখিয়ে আ-আ-তু-হুঁ করে ওকে গ্যারাজে নিয়ে এলাম। তারপর টাইম মেশিনের প্ল্যাটফর্মটা ভাঁজ খুলে পেতে দিলাম। গিনিপিগকে তার ওপরে দাঁড় করিয়ে মেশিনের সুইচ অন করে দিলাম। গিনিপিগ মিউমিউ করতে লাগল।
আমি ডায়াল সেট করলাম, কিবোর্ডে ঠকাঠক বোতাম ঠুকলাম, নব ঘোরালাম, এবং ঠকাস করে এন্টার বাটন টিপে দিলাম।
চোখের পলকে বিশ্বাস করুন–চোখের পলকে গিনিপিগ উধাও হয়ে গেল। ওর মিউ মিউ-র সুইচ কেউ যেন আচমকা অফ করে দিল।
সঙ্গে-সঙ্গে দোতলা থেকে জিনিয়ার চিৎকার শুনতে পেলাম। গিনিপিগকে হঠাৎ শূন্য থেকে হাজির হতে দেখে ও ভয়ে চিৎকার করে উঠেছে।
আমি দুদ্দাড় করে দোতলায় ছুটলাম।
ড্রইং-ডাইনিং-এ ঢুকে দেখি জিনিয়ার টিভি দেখা মাথায় উঠেছে। ও সোফা ছেড়ে উঠে ঝুঁকে পড়েছে আহ্লাদী গিনিপিগের ওপরে। অবাক হয়ে কাতর গলায় বলছে, ও মা, মিন্টিসোনা! তুই এখানে কী করে এলি?
আমি বেশ গর্বের সঙ্গে বললাম, আমি পাঠিয়েছি।
কী? এইটুকু বেড়ালকে তুমি একতলা থেকে দোতলায় ছুঁড়ে দিলে!
আমি তাড়াতাড়ি হাত-পা নেড়ে ওকে আশ্বাস দিয়ে বলে উঠলাম, না, না–ছুড়িনি, ছুড়িনি। আমার টাইম মেশিন ওকে এখানে পাঠিয়েছে। এক্ষুনি ও আবার চলেও যাবে নীচের গ্যারাজে…।
তুমি ওকে…তুমি ওকে…। জিনিয়া রেগে-টেগে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল।
কিন্তু তার আগেই গিনিপিগ ভ্যানিশ হয়ে গেল। আমি ওকে দু মিনিটের জন্যে ফিউচারে পাঠিয়েছিলাম।
জিনিয়াকে হতবাক অবস্থায় ফেলে রেখে আমি আবার একতলায় ছুট লাগালাম। আনন্দে নাচতে ইচ্ছে করছিল। জিনিয়াকে সকাল-সকাল আচ্ছা টাইট দেওয়া গেছে। আমার এই জয়টাকে স্ত্রীর উপেক্ষায় জর্জরিত বিজ্ঞানীদের উৎসর্গ করলাম।
.
চাঁদনি চকে আমার ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্টস-এর একটা দোকান আছে। দোকানের নাম সুপার ইলেকট্রনিক্স। দোকানটা মাপে ছোট হলেও বেশ চালু দোকান। আমি আর দুজন ছোকরা অ্যাসিস্ট্যান্ট মিলে দোকান সামলাতে বেশ হিমসিম খাই। দোকানের রোজকার সেল সাত থেকে দশ হাজার টাকা।
অ্যাসিস্ট্যান্টদের মধ্যে একজনের নাম তারক, অন্যজনের নাম সতু। তারক রোগা-পাতলা। একটা চোখ সামান্য লক্ষ্মীট্যারা। সবসময় পানমশলা চিবোচ্ছে, চোয়াল নড়ছে, আর ঘনঘন পিক ফেলছে।
সতুর চেহারা বেশ ভারী। চালচলন গুরুগম্ভীর। খদ্দেরদের সঙ্গে খেঁকিয়ে কথা বলাটা বেশি পছন্দ করে। ওকে সবসময় আঃ, সতু…কেয়ারফুল। বলে ডাক দিতে হয়। এ ছাড়া ওর এফ. এম. চ্যানেল শোনার প্রবল বাতিক। ওর জন্যেই আমাকে দোকানে সবসময় রেডিয়ো চালিয়ে রাখতে হয়।
