কোরবানির ঈদের দিন শাড়ি পরার কোনও সুযোগ হতো না মা’র। সেই শেষরাত থেকে শুরু হতো পেঁয়াজ রসুন বাটা। মা সারাদিন রান্নাঘরে। সকালে গরু জবাই হতো মাঠে। মাংস কাটা হতো বারান্দায়। বড় বড় গামলায় মাংস চলে যেতো রান্নাঘরে, মা যেন রান্না করেন সব। মা সারাদিন রান্না করতেন। যা কিছুই রান্না করতেন, দৌড়ে দৌড়ে ডাইনিং টেবিলে দিয়ে যেতেন আমাদের জন্য। কোনওদিন রান্নাঘরে উঁকি দিয়েও দেখিনি মা কী করে রান্না করছেন, মা’কে একটু সাহায্য করার কথা কোনওদিন ভাবিনি।
আজ মা নেই। মা যখন ছিলেন, বুঝিনি ছিলেন। মা’র চলে যাওয়াটা আজও আমি মেনে নিতে পারিনি। বাবার চলে যাওয়াটাও। নির্বাসন জীবন একদিন শেষ হবে, একদিন তাঁদের কাছে ফিরবো আবার, এই স্বপ্ন দেখতাম। স্বপ্নগুলো কবে মরে কঙ্কাল হয়ে রয়েছে!
ঈদ এলেই মা’কে খুব মনে পড়ে। যদি শৈশবকে ফিরে পেতাম আবার কোনও জাদুবলে, তবে মা’কে একা একা ওভাবে কষ্ট পেতে দিতাম না কোনওদিন। যে দিন গেছে, সে দিন আর ফিরবে না জানি। জেনেও ইচ্ছে করি ফিরে পেতে। মা’র সঙ্গে কোথাও কোনওদিন আর দেখা হবে না আমার জানি। জেনেও বড় ইচ্ছে হয় হঠাৎ কোথাও দেখা হোক। বেহেস্ত বলে কিছু নেই জানি, জেনেও ইচ্ছে হয় বেহেস্ত বলে কিছু থাকুক কোথাও। আর সেই বেহেস্তে আমার মা অনন্তকালের জন্য বাস করুক। পৃথিবীতে মা শুধু দাসীর মতো খেটে গেছেন। পড়ালেখা করে বড় হতে চেয়েছিলেন মা, স্বনির্ভর হতে চেয়েছিলেন মা, মা’কে কিছুই হতে দেওয়া হয়নি। মেয়ে বলেই দেওয়া হয়নি।
মা’র কষ্টগুলো আমি ছুয়েঁ দেখার চেষ্টা করবো দিনভর। এভাবেই আমি কাটাবো আমার এবারের ঈদ।
পর্নোগ্রাফি
