অ্যানিসটন কেন নৌকা নিয়ে গেল ওখানে, কোনও দিনই জানা যাবে না আর।
.
গাড়ির ভিতরে গুম হয়ে রয়েছে দুই ভাই।
ইট স ওভার, ভারি স্বর আয়মানের।
না, আয়মান, বলল ওর ভাই। অতটা নিশ্চিত হতে পারছি না আমি।
আবার কেন?
শান্তি যদি না হয় ওটার? কী ঘটবে তা হলে? রুফাসের বাবাকে মেরেছে ভিনসেন্ট। তা হলে তো রুফাস, শেরিফ, এলিজা- ওরাও বিপৎসুক্ত না। সতর্ক করতে হবে ওদেরকে।
গাড়ি স্টার্ট দিল আয়মান। কোথায় যাব? শেরিফের ওখানে?
কী ভাবল আয়ান। না, ওর বাসায় চল। বাচ্চাটার সাথে দেখা করতে চাইছি। পথে কাউকে জিজ্ঞেস করে জেনে নেয়া যাবে ঠিকানাটা।
চোদ্দ
ঈষদুষ্ণ পানিতে লিকুইড সাবান মিশিয়েছে; লেস লাগানো খাটো, বেগুনি রোবটা গা থেকে খুলে ফেলল এলিজা। পানি এখনও ছাড়া। একটু একটু করে ভর্তি হচ্ছে পোরসেলিনের প্রকাণ্ড বাথটাবটা।
ওঅশ-ক্লদটা হাতে নিয়ে পানিতে নামল মেয়েটা। হেলান দিয়ে শুয়ে পড়ল টাবে। আহ, আরাম! আপনা-আপনি বুজে এল চোখ জোড়া। লম্বা গলার কলটা পায়ের দিকে। একটা পা উঁচু করে পানির আদর নিতে লাগল আঙুলে। তারপর আরেক পা। সেই সঙ্গে হাতের কাপড়টা ঘষছে গ্রীবায়।
টেরও পেল না, শেওলার মতো ফ্যাকাসে-সবুজ রং ধরল পানির ধারা!
.
ডোরবেলের সুইচে হাত দিয়েছে কি দেয়নি, ঝট করে খুলে গেল দরজা। এ দিশাহারার মতো দেখাচ্ছে রুফাসকে। শ্বাস নিচ্ছে হাঁ করে। গালে পানির দাগ। দু চোখ বিস্ফারিত।
নিচু হয়ে ছেলেটার দু কাধ ধরল আয়ান। কী হয়েছে, রুফাস?
উলটো ঘুরে ঘরের ভিতরে ছুট লাগাল বাচ্চাটা। দোতলার সিঁড়িটা লক্ষ্য। হলওয়ে ধরে পিছু নিল হতচকিত দুই ভাই।
সিঁড়িতে পা দিয়েই বিপদটা উপলব্ধি করল ওরা। হুড়মুড় করে ফেনায়িত পানি নামছে গড়িয়ে! পিছলে পড়ে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই মতো দু ধাপ করে ডিঙিয়ে উঠে এল উপরে।
দোতলায় উঠেই হাতের বাঁয়ে একটা দরজা। তলার ফাঁকটা দিয়ে বেরিয়ে আসছে পানি। ছোট হাতের মুঠি দিয়ে বন্ধ পাল্লায় দুমদুম কিল দিতে লাগল রুফাস। ডুবন্ত মানুষের দাপাদাপির শব্দ আসছে ভিতর থেকে!
এক মুহূর্তে, পরিস্থিতিটা বুঝে নিল ওরা। ধাক্কা দিয়ে ভাইয়ের দিকে ঠেলে দিল আয়মান রুফাসকে। সজোরে লাথি হাকাল নবের নিচে। এক আঘাতে ধড়াম করে ফাঁক হয়ে গেল কবাট।
পনেরো
শরীর মুছিয়ে, কাপড় পরতে সাহায্য করে লিভিং রুমে এনে বসানো হয়েছে এলিজা কারটারকে। কিচেনে গিয়ে কড়া করে কফি তৈরি করে এনেছে আয়ান। দুঃসহ এ অভিজ্ঞতার ধকল কাটাতে কাজে দেবে ক্যাফেইন। আরও ভালো হতো ব্র্যাণ্ডি পেলে।
দু চুমুক দিয়েই পানীয়টা নামিয়ে রেখেছে রুফাসের আম্মু। সিরামিকের মগে ঠাণ্ডা হচ্ছে তেতো কফি।
সোফায় পা তুলে দু বাহুতে হাঁটু বেড় দিয়ে ধরেছে। এলিজা। মাথাটা কাত করে গাল রেখেছে হাঁটুতে। ফোঁপানির সঙ্গে ক্ষণে ক্ষণে পিঠটা কেঁপে উঠছে এখনও। কোনও ভাবেই মন থেকে তাড়াতে পারছে না দুঃস্বপ্নটা।
ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, জানতে চায়নি ওরা। বোঝাই যখন যাচ্ছে! নিজ চোখে নিজেদের ধারণার সপক্ষে প্রমাণ দেখে হতভম্ব হয়ে গেছে দুই যমজ বাথটাব ভরা কালচে সবুজ পানিতে রুফাসের মায়ের মাথাটা ঠেসে ধরে রেখেছিল অদৃশ্য কোনও শক্তি। ছুটে গিয়ে ওরা মেয়েটাকে ধরতেই পালিয়ে যায় ভিনসেন্টের আত্মা। ভাগ্যিস! তা না হলে কী যে হতো, বলা মুশকিল।
ফাদারের ছেলের মৃত্যু থেকে শুরু করে অল্প কথায় সব কিছু খুলে বলেছে আয়মান এলিজাকে। শুনে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকেছে মেয়েটা। বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে যেন।
এক দিকের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ানো বুকশেলফটার সামনে দাঁড়িয়ে আয়ান। মৃদু স্বরে সান্ত্বনা দিচ্ছে আয়মান এলিজাকে, আই-লেভেল বরাবর তাকটায় একটা বই দৃষ্টি আকর্ষণ করল ওর ভাইয়ের। স্পাইনের (বইয়ের পুট বা দাঁড়া) লেখাটা কলম দিয়ে লেখা। দেখলই শুধু, আগ্রহ জাগল না।
একটা প্রশ্ন জানার আছে আমার, মুখ ফিরিয়ে বলল ও।
অ্যানিসটন পরিবারের সাথে কী ধরনের আত্মীয়তা আপনাদের?
অবাক চোখে গাল তুলল এলিজা। লাল হয়ে রয়েছে চোখ দুটো। কোনও আত্মীয়তা নেই তো!
নেই! তারপর যেন বুঝতে পেরেছে, এমনি ভাবে জিজ্ঞেস করল আয়ান: রিলেশনটা কি তা হলে আপনার স্বামীর সাথে?
হতেই পারে না। অ্যারন তো কেউ নয় এখানকার। হার্ভার্ডে পড়তে গিয়ে পরিচয় হয়েছিল ওর সাথে।
আচ্ছা… কেমন যেন হতবুদ্ধি মনে হলো আয়ানকে। তার পরই ভয়ঙ্কর একটা সন্দেহ উঁকি দিল মগজে।
চোখ আটকে যাওয়া দাঁড়াটার উপরে আঙুল রেখে বইয়ের ভিড় থেকে টেনে বের করল ও খাড়া করে রাখা স্ক্র্যাপবুকটা। লাল, চামড়ার-মলাটেও স্কচটেপ দিয়ে হাতে লেখা লেবেল সাঁটা।
খুলল বইটা। একটা-একটা করে ভিতরে লাগানো ছবি আর পেপার-কাটিংগুলো দেখতে দেখতে উলটে চলল পাতা। অবশেষে পেয়ে গেল, যেটা আশা করছিল। সঙ্গে সঙ্গে কাঠিন্য ভর করল চোয়ালে।
তোমরা! শোনা গেল একটা বাজখাই কণ্ঠ।
হলওয়ের মুখটার দিকে ঘুরে গেল সব কটা ঘাড়।
সম্বোধন থেকেই বুঝতে পারল আয়মানরা, কিছু একটা গড়বড় হয়েছে।
তোমরা কী করছ এখানে? এগিয়ে আসতে আসতে কর্কশ কণ্ঠে কৈফিয়ত দাবি করল শেরিফ।
আমরা–
জবাবটা পুরো করতে দিল না অফিসার আয়ানকে। ওয়াইল্ডলাইফে খোঁজ নিয়েছি আমি। তোমাদের নামই শোনেনি ওই ডিপার্টমেন্ট!
