কিন্তু চার্চের সাথে ওর বাপ ডুবে মরার কী সম্পর্ক?
আসলেই কোনও সম্পর্ক আছে কি না, সেটা তো ওখানে গেলে বোঝা যাবে না।
বারো
কে ভেবেছিল, পঁয়তিরিশ বছর আগে মারা গিয়েছিল যে ভিনসেন্ট মোমোয়া, ফাদারের সন্তান ও!
গির্জার উলটো দিকের ছোট এক হলদে বাড়িতে থাকেন। বৃদ্ধ যাজক। লাঞ্চের আগে আগে চলে যান বাসায়। ওখানেই ওঁর সঙ্গে দেখা করেছে ছেলেরা।
আর, দেয়ালের ওই ছবি? যোগ করল আয়ান। ভিনসেন্টের পাশের ছেলেটা যে জিউসের বাবা, এই আবিষ্কারটাও তো ফেলে দেয়ার মতো না!
আমি ভাবছি, রুফাস ছেলেটা কি জানে এই– কানেকশনটার ব্যাপারে? ২ মনে হয় না, ভাইয়া। ও বোধ হয় শুধু ভিনসেন্টকেই ইঙ্গিত করেছে।
সেটা যদি ধরি, শুধু ভিনসেন্টকে দিয়ে কী বোঝাতে চাইল বাচ্চাটা? ভিনসেন্ট যে ওই লেকের প্রথম শিকার, সেটা বুঝলাম। আমরাও জানি সেটা। অবশ্য, আমরা যে জানি, রুফাসের তা জানার কথা না।
আমার অদ্ভুত লাগছে, চার্চের ছবি থেকে ফাদার, সেখান থেকে ভিনসেন্ট- এই ব্যাপারটা। রুফাস এটা আগে থেকে জানত কি না, সন্দেহ আছে আমার।
ট্রমাটিক এক্সপেরিয়েন্স থেকে সাইকিক টেনডেনসি বেড়ে যাওয়ার রেকর্ড কিন্তু আছে মেডিকেল সায়েন্সে।
ও সমঝদারের মতো মাথা নাড়ল আয়মান। ওর মা-ও বলছিল সেদিন, হঠাৎ করে আঁকাআঁকির ঝোঁক বেড়ে গেছে রুফাসের। স্বামী মারা যাওয়ার আগে দেখা যায়নি এরকমটা।
তা হলেই বোঝ।
কী-কী পাচ্ছি তা হলে? প্রথমে পানিতে ডুবে মারা গেল ভিনসেন্ট। ছেলেটাকে চিনত মিস্টার অ্যানিসটন। ওই লোকের ছেলেমেয়েরাও মারা গেছে রহস্যময় ভাবে। মেয়ে মরেছে লেকে। হদিস পাওয়া যায়নি ওর লাশের। জিউস ছাড়া অন্য মৃত্যুগুলোর বেলাতেও তা-ই। লেকেও মারা যায়নি, ডেড বডিও গায়েব হয়নি লিয়ানার ভাইয়ের। নাম্বার ওয়ান খটকা।
না, এটা খটকা নাম্বার দুই।
তা হলে প্রথমটা কোটা?
ভিনসেন্ট। এক মাত্র ও ছাড়া লেকে ডোবা কারও লাশই পাওয়া যায়নি। আর যায়নি তো, যায়ইনি। একটা কিছু সূত্র পর্যন্ত না। দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে যেন। পুরোপুরি। এর মধ্যে আমি অন্য কিছুর গন্ধ পাচ্ছি, আয়মান। সুপার-ন্যাচারাল কিছু। অন্যদেরকে যদি গায়েব করে দিতে পারে, ভিনসেন্ট মাফ পেল কেন?
ভিনসেন্ট শুধু না, জিউসও মাফ পেয়েছে।
জিউসের ব্যাপারটা আলাদা। লেকে মৃত্যু হয়নি ওর।
কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করল আয়মান। ভিনসেন্ট যেহেতু প্রথমে মারা গেছে, তা হলে কি ধরে নেব, ও মরেছে বলেই পরবর্তী ট্র্যাজেডিগুলো ঘটেছে? রিভেঞ্জ-থিয়োরি?
হয় না, হোরেশিয়ো?
হলে তো এটাও ধরে নিতে হবে, ভিনসেন্টের মৃত্যুটা অ্যাকসিডেন্ট না- মার্ডার।
অ্যাণ্ড দ্যাট স দ্য পয়েন্ট। আমার ধারণা, চুবিয়ে মারা হয়েছে ওকে। সেজন্য ভূত হয়ে শোধ নিচ্ছে। মৃত্যুনীল ফাঁদ হয়ে উঠেছে লেকটা। খালি গোলমাল বাধাচ্ছে জিউস ছোঁড়াটা। ওর মৃত্যুটা আমাদের এই তত্ত্বের সাথে খাপে-খাপ মিলছে না।
তবে মৃত্যুটা কিন্তু হয়েছে পানি থেকেই। আচ্ছা, এখানকার পানিটা আসে কোত্থেকে, বল তো?
লেক থেকে নিশ্চয়ই। বলেই মুখের চেহারা পালটে গেল আয়ানের।
…আয়মান, রে!
কী হলো, ভাইয়া!?
শেরিফ কী বলেছিল, মনে আছে তোর? লেকটা, না বাঁচলে শহরটাও বাঁচবে না! কেন বলেছিল ওকথা?
পানির জোগান বন্ধ হয়ে যাবে, তা-ই?
এটাই তো সহজ উত্তর, নাকি? আর লেকই যদি না থাকে, কোথায় যাবে ভিনসেন্টের আত্মা?
খেল খতম!
ঠিক, ছয় মাসের মধ্যে! সেজন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে…
কী বলতে চাস?
অদ্ভুত হলেও আর কোনও ব্যাখ্যা নেই যেটার…
আমি বুঝতে পারছি না…
সহজ কথা। পাইপ বেয়ে হাজির হয়েছে এসে জিউসদের বাসা পর্যন্ত… একই পানি যেহেতু! ওটার দৌড় সম্ভবত পানি পর্যন্তই।
তা-ই বলে যাকে ইচ্ছা, খুন রিবে!
মনে হয় না যে, নির্বিচারে করছে কাজটা। তা না হলে পঁয়তিরিশ বছরে লাশের সংখ্যা বাড়ত আরও। আর দেখ, এ বছরের হিসাব বাদ দিলে অতগুলো বছরে মরেছে মাত্র তিনজন। বুঝতেই পারছিস, তাড়াহুড়ো শুরু হয়েছে ওটার।
বেছে বেছে খতম করার অর্থ কিন্তু দাঁড়ায়, এরাই দায়ী ভিনসেন্টের অকাল মৃত্যুর জন্য!
নিশ্চয়ই তা-ই।
জিউস! লিয়ানা! ওদের কী অপরাধ? ওদের তো জন্মই জ হয়নি তখন!
বাপটার কথা ভুলে যাচ্ছিস কেন? বন্ধুর মৃত্যুর জন্য সে-ই যদি দায়ী হয়?
চোয়াল ঝুলে পড়ল আয়মানের। আল্লা, রে! বাপের অপরাধের জন্য শাস্তি পাচ্ছে সন্তান?
এখন আমার ইকটুও সন্দেহ নেই।
আমার আছে। এলিজার হাজব্যাণ্ড! ওই লোকের সাথে লিঙ্ক কই অ্যানিসটনদের?
খুঁজলে হয়তো দেখা যাবে, মারা যাওয়া প্রত্যেকের সাথেই কোনও-না-কোনও সম্পর্ক আছে মিস্টার অ্যানিসটনের। …গাড়ি ছোটা জলদি! পাকড়াও করতে হবে লোকটাকে!
তেরো
কিন্তু কোথাও পাওয়া গেল না সন্দেহভাজন ডেভিড অ্যানিসটনকে। কবরখানার মতো নিঝুম হয়ে আছে বাড়িটা। ডাকাডাকি, চিল্লাচিল্লি করেও ফল হলো না কোনও। ভেলকিবাজির মতো মিলিয়ে গেছে যেন পরিবারের এক মাত্র জীবিত সদস্যটি।
খুঁজতে খুঁজতে ডকের উপরে চলে এল ছেলেরা। তখনই দেখতে পেল ওরা নিখোঁজ-রহস্যের সম্ভাব্য উত্তরটা।
লেকের দূরে আরোহীবিহীন ভাসছে ছোট্ট বোটটা।
ছোট বেলার বন্ধুকে নিজের কাছে টেনে নিয়েছে ভিনসেন্ট মোমোয়া!
