কী বলছ, আব্বু! নগ্ন অবিশ্বাস এলিজার চোখের তারায়। এরা তা হলে কারা?
প্লিজ, ব্যাখ্যা করতে দিন বিষয়টা… আত্মরক্ষার চেষ্টা করল আয়ান।
একটা কথাও শুনতে চাই না! ফোঁস করে উঠল শেরিফ। সরকারি অফিশিয়াল হিসাবে, পরিচয় ভাড়ানোর দায়ে গ্রেপ্তার করতে পারি তোমাদের। করছি না। এখান থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠবে তোমরা। সোজা বেরিয়ে যাবে শহর থেকে। আর যেন না দেখি তোমাদের। যা বললাম, পরিষ্কার?
প্লিজ, স্যর! কথাটা শুনলে—
কোমরের হোলস্টার থেকে ঝট করে পিস্তল বের করল আইন-রক্ষক। বেরোও!
সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল আয়মান।
ভিনসেন্টের মৃত্যুটা কীভাবে হয়েছিল, শেরিফ? শেষ। চেষ্টা নিল ওর ভাইটা।
ভিনসেন্ট! কোন্ ভিনসেন্ট? খেঁকিয়ে উঠল নিক কারটার।
ভালো করেই বুঝতে পারছেন, কার কথা, বলছি! ভিনসেন্ট মোমোয়া। ফাদারের ছেলে। আজ থেকে পঁয়তিরিশ বছর আগের ঘটনা! মনে পড়ে?
না পড়ার কী আছে? ভয়ানক বিরক্ত মুখে ওগরাল কারটার। প্রথম লেক-দুর্ঘটনা ছিল ওটা।
হ্যাঁ… কিন্তু কী হয়েছিল আসলে? মরল কীভাবে ছেলেটা?
আর কীভাবে! সপাং করে উঠল অফিসারের কথার চাবুক। পত্রিকা-টত্রিকা পড়ো না নাকি?
সত্যি কথাটা, জানতে চাই আমরা, মিস্টার কারটার! লোকে কী জানে, সেটা নয়! কীভাবে ডুবল ভিনসেন্ট মোমোয়া?
আমি তার কী জানি? দেখে মনে হচ্ছে, পারলে আয়ানকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলে শেরিফ।
অবাক দৃষ্টিতে একবার ওর দিকে, একবার বড় ভাইয়ের দিকে তাকাচ্ছে আয়মান। কী বলতে চাইছে ওর ভাইয়া? কিছু যেন আবিষ্কার করেছে আয়ান!
দৃঢ় বিশ্বাস, জানেন আপনি! এই যে… বইটা… কাভার তুলে দেখাল ছেলেটা। নিক- বারো বছর বয়সে। এবারে খুলল আঙুল গুঁজে রাখা পাতাটা। এই ছবিটা পেয়েছি এখানে। পড়ল ক্যাপশনটা: এক্সপ্লোরার টুপ-থারটি সিক্স। মোমোয়া আর আপনাকে দেখা যাচ্ছে ছবিতে।
তাতে কী ঘোড়ার ডিমটা হয়েছে! সহ্যের সীমা ছাড়িয়েছে যেন শেরিফের। আশ্চর্য! একই ব্যাচে পড়তাম ও, আর আমি। এটাই কি আমার অপরাধ হয়ে গেল?
নো, মিস্টার কারটার! আপনার, অপরাধ আরও গুরুতর!
অ্যাই, মুখ সামলে!
কেয়ারই করল না আয়ান। এখনও হয়তো অন্ধকারে থাকতাম, যদি না দেখা হতো ফাদারের সাথে! যদি না
জানতাম, ডেভিড অ্যানিসটনও ব্যাচমেট ছিল আপনাদের! এই যে… উনিও আছেন ছবিতে।
কী প্রমাণ হয় তাতে?
কিছুই না- ঠিক, স্বীকার করল আয়ান। কিন্তু এলিজা ম্যামের একটা কথাই পরিষ্কার করে দিয়েছে সব রহস্য!
লিজি! কী বলেছে ও? ক্রুর চোখে তাকাল নিক কারটার।
তার আগে বলুন, মিস্টার অ্যানিসটনের ছেলেটা কীভাবে মারা গেছে বলে আপনার ধারণা?
খুন করা হয়েছে ওকে।
কে সেই খুনি?
আরে… আমি কি সবজান্তা নাকি? তদন্ত চলছে। ঠিক বের করে ফেলব!
যদি বলি- ভিনসেন্ট মোমোয়া?
কীহ! টপ-টপ করে চোখের কোটর থেকে খসে পড়বে যেন এক জোড়া রসগোল্লা। গাঁজা খেয়ে এসেছ নাকি?
না, স্যর, অম্লান বদনে বলল আয়ান। একটু আগেই আমাদের থিয়োরিটা ব্যাখ্যা করছিলাম ম্যাডামকে। খুন হয়েছে ভিনসেন্ট। সে-কারণে নিচ্ছে প্রতিশোধ। যারা ওর মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাদের কাছের লোকগুলোকে দিয়ে শুরু করেছিল প্রথমে। তারপর ধরল মিস্টার অ্যানিসটনকে। হ্যাঁ, নিশ্চিত আমরা, ভিনসেন্টের মৃত্যুটার পিছনে হাত আছে ওঁর। কিন্তু আদায় করতে পারিনি স্বীকারোক্তিটা। তার আগেই…
ক্-কী হয়েছে ডেভিডের?
লেক ম্যানিটোঅক গিলে নিয়েছে ওঁকে! বাড়িতে নেই কেউ। শূন্য বোটটা ভাসছে পানির মাঝখানে!
যিশাস ক্রাইস্ট! আঁতকে উঠল আইন। ফোর্স পাঠাতে হবে- এক্ষুনি!
লাভ নেই, অফিসার। পাওয়া যাবে না ওনাকে। যেমন পাওয়া যায়নি ওঁর মেয়েকে… যেমন পাওয়া যায়নি আপনার জামাইকে! প্রশ্ন হলো: কেন মরতে হলো ওকে? আপনার মেয়ের কাছে শুনলাম: অ্যানিসটনদের সাথে কোনও ধরনের আত্মীয়তা নেই আপনাদের। তবে এত আক্রোশ কেন রুফাসের বাবার উপরে? কার আপন মানুষ ছিলেন ভদ্রলোক? উত্তরটা কঠিন নয়: আপনার। অতএব, এটাই প্রমাণ হয়, ভিনসেন্টের মৃত্যুর জন্য দায়ী আপনিও!
ফালতু কথা বলবে না! একদম ফালতু কথা বলবে না!!
বলছিও না। প্রিয়জনদের মেরে মিস্টার অ্যানিসটনকে শাস্তি দিচ্ছিল ভিনসেন্ট। লোকটার মৃত্যুর পর প্রয়োজন ফুরিয়েছে সেটার। বাকি রইলেন আপনি। আপনার জামাইকে মেরেছে ওটা। আরেকটু হলেই মেরে ফেলত মিস
কী হয়েছিল! ভয়ঙ্কর চমকে উঠল শেরিফ। কী হয়েছিল আমার লিজার?
আব্বু! কাঁদো-কাঁদো হয়ে গেল এলিজা। ওটা… ওটা… এঁরা না থাকলে…
বাথরুমে হাজির হয়েছিল ভিনসেন্ট… রক্ত সরে গেছে। অফিসারের মুখ থেকে, লক্ষ করল আয়মান। যেমন করে হাজির হয়েছিল অ্যানিসটনদের কিচেনে!
কিন্তু…ক্-কীভাবে!
পানির পাইপ দিয়ে। এখানকার পানিটা কি লেক থেকে আসে, মিস্টার কারটার?
হ্-হ্যাঁহ…
তবে তো আর কোনও সন্দেহই রইল না।
আব্বু! অনুযোগের সুরে বলল এলিজা। এসব কি সত্যি? তুমি… ভিনসেন্ট… বলো না ওঁদেরকে, কাউকে খুন করতে পারো না তুমি!– কোণঠাসা জানোয়ারের অবস্থা শেরিফের। ঢোক গিলল। পিস্তল ধরা হাতটা কাঁপছে থরথর করে। যমজ ভাইদের প্রতি কঠোর মনোভাবটা নেই আর।
মুখ খুলুন, স্যর, নরম গলায় অনুরোধ করল আয়ান। একবার ব্যর্থ হয়েছে বলেই যে আবার চেষ্টা করবে না প্রেতটা, জোর দিয়ে বলা যায় না এ কথা। এরপর হয়তো… না ধপ করে সোফায় ধসে পড়ল শেরিফ। পিস্তলটা খসে পড়ল হাত থেকে। পঁয়তিরিশ বছর ধরে বুকের অন্তরালে চাপা দিয়ে রেখেছিল যে সত্যটা, হাঁপানির সঙ্গে বেরিয়ে আসতে লাগল বাঁধ ভেঙে।
