একটু ভাবল অফিসার। পারে কি পারে না, বলতে পারব না। নেই যে, এটুকুই কেবল জানাতে পারি। ঘোরা থেমে গেল পেপার-ওয়েটের। তবে…
হ্যাঁ, বলুন!
ড্যাম।
মুখ চাওয়াচাওয়ি করল পাশাপাশি বসা দুই ভাই। বুঝতে পারছে না, কীসের উপরে বিষোদগার করল লোকটা।
সরি?
বাঁধ… বাঁধের কথা বলছি…
ও, আচ্ছা, বাঁধ! কী সমস্যা ওখানে?
ভেঙে পড়ছে ওটা। ফাটল দেখা দিয়েছে বাঁধের গায়ে। পরিস্থিতি জানিয়ে কয়েক বারই যোগাযোগ করেছি কর্তপক্ষের সাথে। পাত্তাই দেয়নি ওরা। এ অবস্থা চলতে থাকলে একটা সময় হয়তো পানির চাপ আর নিতে পারবে না ড্যামটা। ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে শহরটা। উপায় না দেখে স্পিলওয়ে খুলতে হয়েছে একটা। এতে করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে মরে যাচ্ছে লেকটা। আর লেকটা মরলে শহরটাও বাঁচবে না। কেন, ফেডারাল ওয়াইল্ডলাইফের তো জানা থাকার কথা বিষয়টা!
কৈফিয়ত দেয়ার জন্য মুখ খুলতে যাচ্ছিল আয়ান, এসময় দুটো টোকার শব্দ হলো ফ্রস্টেড গ্লাস লাগানো দরজায়। পাল্লা ঠেলে চেমবারে মাথা গলাল সপ্রতিভ এক তরুণী। সরি। ডিসটার্ব করলাম?
না, আয়, স্নেহার্দ্র কণ্ঠে বলতে বলতে চেয়ার ছাড়ল অফিসার।
হটপট হাতে ভিতরে প্রবেশ করল তরুণীটি। পিছন পিছন এল পোলা শার্টের উপর টি-শার্ট পরা আট-ন বছরের একটা বাচ্চা। লম্বা বাদামি চুল নেমে এসেছে চোখের উপরে। চেহারা দেখেই বোঝা যায়- ইন্ট্রোভার্ট। গাল ফুলিয়ে রেখেছে। গোস্বা করেছে যেন কোনও কারণে। একবার তাকিয়েই চোখ নামিয়ে নিল।
খাবারের পটটা অফিসারের হাতে তুলে দিল মেয়েটি। শেরিফ সেটা নামিয়ে রাখল ডেস্কের ওধারে। রিস্টওঅচ
দেখল সিধে হয়ে। ১৯ একই রঙের চোখ শেরিফ আর তরুণীর। প্রসাধনবিহীন চেহারাটায় নিষ্পাপ এক ধরনের সারল্য। ঠোঁট দুটো কমলার কোয়া। লালচে আভা ফরসা গালে। সাদাসিধে, একেবারেই ঘরোয়া ধরনের ম্যাক্সি স্কার্ট পরেছে। তাতেই হয়ে উঠেছে। অসামান্যা।
দাঁড়িয়ে গেছে ইকরামুল্লাহ ভাইয়েরা। দু জনের চোখেই তারিফের দৃষ্টি। কিছুটা ক্লান্ত, চেহারার বিষণ্ণ ছাপটা আলাদা একটা ব্যক্তিত্ব দিয়েছে মেয়েটাকে।
আমার মেয়ে, আলাপ করিয়ে দিল নিক কারটার।
প্লেজার টু মিট ইউ, দু জনের পক্ষ থেকে বলল আয়মান। ভদ্রতা সূচক হাসি ধরে রেখেছে চেহারায়। চেহারার মিল দেখে আগেই আন্দাজ করেছে, বাপ-বেটি। ওরা।
এজেন্ট ওরতেগা আর এজেন্ট বালবোয়া, ছেলেদের পরিচয় জানাল মেয়ের বাবা। ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস থেকে। লেকের ব্যাপারটা নিয়ে তদন্ত করছেন।
ওহ, মার্জিত উচ্চারণে বলল তরুণী। চোখে চোখে কিছু কথা হয়ে গেল কি বাপ-বেটির মধ্যে? আমি এলিজা।
আর তোমার? তোমার কী নাম? পিছন থেকে বাচ্চাটার দু কাঁধে দু হাত রেখেছে তরুণী। ছেলেটার গাল ছুঁয়ে দিল আয়ান।
অদৃশ্য দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এল যেন প্রশ্নটা। ঘুরে, চঞ্চল পায়ে কামরা ছেড়ে বেরিয়ে গেল ছেলেটা।
রুফাস, রুফাস নাম ওর। ক্ষমাপ্রার্থনার দৃষ্টি তরুণীর চোখে। ফিরল বাপের দিকে। ওকে, আব্বু। এখন আসি তা হলে। পাঁচটার সময় পার্কে যাচ্ছি রুফাসকে নিয়ে।
এলিজা কারটার বেরিয়ে গেলে হেসে মন্তব্য করল আয়মান: বেশ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মনে হচ্ছে বাচ্চাটা। আপনার নাতি নিশ্চয়ই?
হ্যাঁ। হঠাৎই গম্ভীর হয়ে গেছে কারটার। ধূসর চোখে ঘনাল ছায়া।
ড্যামের ব্যাপারটা নিয়ে বলছিলেন আপনি… পুরানো প্রসঙ্গে ফেরত গেল আয়ান।
মাথা দোলাল অফিসার। ঘটনাগুলোর পিছনে আদৌ কোনও রহস্য লুকিয়ে আছে কি না, জানা নেই আমাদের। যদি থাকেও, ক মাস পরই, আর কোনও মৃত্যু ঘটবে না ওই লেকে,…,
তার মানে, বিষয়টা তলিয়ে দেখতে চান না আপনি? সাধ্যমতো সব কিছুই করছি আমরা। ড্যাম-কেয়ার ভাবটা আবার ফিরে এসেছে অফিসারের মধ্যে। আমার শহর এটা… আমার লোক। দায় এড়ানোর সুযোগ নেই আমার।
ওকে, থ্যাঙ্কস। হতাশ হয়েছে আয়ান। ছোট্ট একটা উপকার করতে পারেন বোধ হয়। কমের মধ্যে ভালো মোটেল পাব কোথায়, বলতে পারেন?
থাকার ইচ্ছে?
নো ওয়ে। রিপোর্ট তো করতে হবে অফিসে।
জবাবটা পছন্দ হলো না শেরিফের। অনিচ্ছা সত্ত্বেও বলতে হলো: লেকফ্রন্ট নামে একটা মোটেল আছে আমাদের। দুই ব্লক দক্ষিণে এখান থেকে।
থ্যাঙ্ক ইউ।
ভাববেন না, ঠিক মতোই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। তা ছাড়া, ব্যাপারটা ব্যক্তিগতও।
সেটা কী রকম? সকৌতূহলে জানতে চাইল আয়ান।
আমার মেয়েকে দেখলেন না? থমথমে গলায় বলল নিক কারটার। লেক ম্যানিটোঅকের শিকার ও!
ছয়
তথ্যটার জন্য একেবারেই তৈরি ছিল না ওরা। বিহ্বল দৃষ্টিতে চোখ চাওয়াচাওয়ি করল।
বলতে চাইছেন, ধাক্কা সামলে বলল আয়ান। উনিও
না, ডুবে যায়নি।
তা হলে?
অভিশপ্ত লেকটা বিধবা করেছে ওকে!
সরি! দুজনেই বুঝতে পারছে এখন, কী বিশাল ঝাঁপটা গেছে বাচ্চাটার উপর দিয়ে।
ইট স ওকে। দীর্ঘশ্বাস ফেলল অফিসার। ক্যালিফোরনিয়ায় থাকত ওরা। ছুটি কাটাতে আমার কাছে এসেছিল মেয়েটা। এক সকালে বাপের সঙ্গে বোট-রাইডে বেরোয় রুফাস। ঘোরাঘুরির এক পর্যায়ে সম্ভবত ছেলেকে নৌকায় রেখে গোসলে নামে জামাই। তারপর…!
বাচ্চাটা তা হলে একজন আই-উইটনেস! ঝিকিয়ে। উঠল আয়মানের চোখ দুটো। ও নিশ্চয়ই
লাভ নেই, ওকে থামিয়ে দিল অফিসার।
সরি?
