ইয়েস! মাস কয়েক আগের এক ঘটনা মনে পড়ে গেল জনের। রাশান এক কাল্ট সারিন গ্যাস ছড়িয়ে দিয়েছিল সাব ওয়েতে। ফলে মারা পড়ে শ দুয়েক মানুষ। অ্যাটাকটা নিয়ে বেশ তোলপাড় হয়েছিল। স্বেচ্ছায় ধরা দেয় কাল্ট।
লেভ বোরিসভ হার্ট-অ্যাটাক করেনি, জন! মারা গেছে সারিনের বিষক্রিয়ায়!
তুমি কি আমাদের কেসটার সাথে জাপানের ওই কেসটার সম্পর্ক আছে বলে ভাবছ? জনের চোখ স্থির হয়ে আছে কমপিউটার-স্ক্রিনে, গ্যাহেনা করপোরেশন, টোকিয়ে লেখাটার উপরে।
সরাসরি সম্পর্ক হয়তো নেই। অন্য গ্রুপ হতে পারে আমাদেরটা। কিন্তু পারপাস একই। …দাঁড়াও! নিজেই বুঝবে! একটু আগে চোখ বুলিয়েছি আমাদের ডেটাবেইসে। ফলো-আপ দেখলাম ওই কেসটার। জেরায় অনেক কথাই বলেছে ওই গুরু। এর মধ্যে একটা কথা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। লোকটাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এসব কেন করছে ও। জবাব দিয়েছে: কেয়ামত সৃষ্টি করতে চায় পৃথিবীতে। মাইণ্ড ইট, জন! কেয়ামত!
মাই গড!
বিস্ময়ের ধাক্কাটা সামলানোর সময় দিল ওকে হ্যারিস। তুমি কিছু পেলে? জিজ্ঞেস করল। টাইম পাস করার জন্য নেটে বসোনি নিশ্চয়ই!
পেয়েছি। গ্যাহেনা করপোরেশন।
গ্যাহেনা?
হু। প্রতিষ্ঠানের সাইটে ঢুকল জন। ইণ্ডাস্ট্রিয়াল ফার্ম।
কীসের? কোন্ দেশি?
ইউক্রেনিয়ান। কেমিকেল প্রডিউস করে।
হুম… বলে যাও।
বেশ কয়েকটা ব্রাঞ্চ আছে এদের। দেশে… বিদেশে… স্যান ফ্রানসিসকোতেও আছে।
কল্পনায় দেখতে পেল জন, শিরদাঁড়া সোজা হয়ে গেছে। হ্যারিসের।
তা-ই নাকি! এগজ্যাক্ট লোকেশন দেয়া আছে ফার্মটার?
আছে। কেম্যান আইল্যাণ্ডে।
কাছেই তো। বলো তো অ্যাড্রেসটা।
বলল জন। যাবে নাকি?
যাচ্ছি।
এখনই?
সময় নষ্ট করে লাভ কী?
ফোর্স নিয়ে যাও তা হলে।
লাগবে না। এখনও তো প্রমাণ পাইনি কোনও। …জাস্ট একটা চক্কর মেরে আসি। বাই। কেটে দিল হ্যারিস।
কান থেকে ফোন সরাল জন। কেন জানি মনে হচ্ছে, বিপদে পড়তে যাচ্ছে ওর বন্ধু।
উঠে পায়চারি করল কিছুক্ষণ। শেষে ড্যাম ইট বলে বিশেষ এক নাম্বারে ডায়াল করল।
বারো
গ্যাহেনা করপোরেশন। স্যান ফ্রানসিসকো শাখা।
ঘুরে-টুরে ধারণা হলো হ্যারিসের, কোনও ধরনের স্টোরেজ প্ল্যান্ট এটা।
সমস্যা হয়নি ঢুকতে। কোনও রকম পাহারা কিংবা সিকিউরিটি নেই। জনমানবহীন। নিঝঝুম।
ও ফ্ল্যাশলাইট এনেছে সঙ্গে করে। এখন রয়েছে হলঘরের মতন এক কামরায়। লম্বা, প্লাস্টারবিহীন ঘরটায় খান চল্লিশ টেবিল-চেয়ার। কয়েক সারিতে বিন্যস্ত। প্রত্যেকটা টেবিলেই একটা করে ল্যাণ্ডফোন।
কাস্টমার কেয়ার- ভাবল হ্যারিস। আরও বুঝল, ঠিক জায়গাতেই চলে এসেছে।
হলরুমের ভিতর দিয়েই প্রবেশ করল সে আরেকটা কামরায়। এটাও বিরাট। গোডাউন সম্ভবত। পাতলা কেরোসিন কাঠের অসংখ্য বাক্স গাদাগাদি করে রাখা।
কী আছে এর মধ্যে?
প্রতিটা বাক্সেই একটা করে ত্রিভুজ আঁকা। চীনা ভাষায় কিছু লেখা রয়েছে তার ভিতরে। অনেকটা লোগোর মতো দেখতে। ইংরেজিতে সংখ্যার ছাপও রয়েছে বাক্সের গায়ে। এক-এক বাক্সে এক-এক নাম্বার।
ডাইনে-বাঁয়ে-উপরে-নিচে আলো ফেলে দেখল হ্যারিস নাম্বারগুলো। ওর চোখের লেভেলে যেটা রয়েছে, ৭২ সেটা। ১৫৪ তার উপরেরটা ৭৩ নম্বর। বাঁ দিকে- ৫২। ডান দিকে দেখা যাচ্ছে- ৯২। মানে দাঁড়াচ্ছে প্রত্যেকটা কলামে বিশটা করে। বাক্স। …সব মিলিয়ে কতগুলো?
বেরিয়ে এল সে অন্য একটা দরজা দিয়ে। ঢুকল আরেক ঘরে।
ওয়্যারহাউস এটাও। ক্রেট জড়ো করা হয়েছে এখানেও। …নাহ, দেখতে হচ্ছে।
এদিক-ওদিক তাকাল হ্যারিস। এক জায়গায় বাক্স কম দেখে এগিয়ে গেল।
গোটা দশেক বাক্সের এক স্তম্ভ রয়েছে ওখানটায়। উপরেরটার ডালায় লেখা: ১১০৭২-১২১/১২৫, নিচে: রিপাবলিক অভ চায়না।
ভাগ্য ভালো, ক্রোবার পাওয়া গেল একটা। ওটার সাহায্যে চাপ দিয়ে খুলে ফেলল বাক্সটা।
শুকনো খড়ের মধ্যে শুয়ে আছে জিনিসটা। খবরের কাগজ দিয়ে মোড়ানো। আলগা হয়ে সরে গেছে এক জায়গার আবরণ।
চাইনিজ অ্যাসল্ট রাইফেল আর অ্যামিউনিশন ক্লিপ!
শিউরে উঠল হ্যারিস। এই গুদামের অন্তরালে কোন্ অশুভ তৎপরতার নীল নকশা রচিত হয়েছে, খোদা মালুম!
মুঠোফোনটা বের করল প্যান্টের পকেট থেকে। ফোল্ডিং সেট। স্যামসাং-এর। ফেইলিয়র দেখাচ্ছে নেটওঅর্ক।
জানা নেই ওর, প্ল্যান্টে এই মুহূর্তে অ্যাকটিভ রয়েছে বেশ কয়েকটা শক্তিশালী নেটওঅর্ক জ্যামিং ডিভাইস।
নজরও রাখা হচ্ছে ওর উপরে! ছাতের এক অন্ধকার কোনায়, উলটানো গম্বুজ-আকৃতির বাতির ভিতরে লুকিয়ে আছে নাইট-ভিশন সিসিটিভি।
আরও একটু দেখবে, সিদ্ধান্ত নিল হ্যারিস।
ক্রেট ছাড়াও অনেকগুলো ব্যারেল রয়েছে ঘরটায়। গায়ে মড়ার খুলি আর তার নিচে গুণচিহ্নের ভঙ্গিতে আঁকা হাড় দুটো নির্দেশ করছে বিপৎসঙ্কেত। কী ধরনের বিপদ, লেখা রয়েছে সেটাও।
সাবধান!
দাহ্য পদার্থ- সোডিয়াম ফ্লুরাইড
আরেক ঘরে চেমবারের মতন এক কক্ষ আবিষ্কার করল হ্যারিসন। ধাতু-নির্মিত কাঠামোটায় বড় বড় বোল্ট।
দরজাটা ভেজানো চেমবারের। চারকোনা একটা ফোকর আছে দরজার মাথায়। কাঁচটাকা।
কাঁচের ভিতর দিয়ে ভিতরে দৃষ্টি ফেলল হ্যারিস। হাতল ধরে ঠেলা দিল দরজায়। তীক্ষ্ণ কা-আঁ-চ শব্দ উঠল। ধাতব চিৎকারটা চিরে দিল স্নায়ু।
ছাইয়ের স্তূপ চেমবারের মেঝেতে। সাদা কী যেন উঁকি দিচ্ছে মাঝে মাঝে। ভিতরের দেয়াল কালশিটে-পড়া।
