অকস্মাৎ মৃগী রোগীর মতো কাঁপতে শুরু করল। বোরিসভ। উলটে গেল চোখ জোড়া। গোঁ-গোঁ আওয়াজ বেরোচ্ছে গলা দিয়ে। ঠোঁটের কোণ বেঁকে গিয়ে দেখাচ্ছে পশুর মতো। ফুলে ফুলে উঠছে নাকের পাটা। চেয়ারের পাশ দিয়ে ঢলে পড়তে আরম্ভ করল বোরিসভ।
ছিটকে চেয়ার ছাড়ল দুই এজেন্ট। মাটি স্পর্শ করার আগেই ধরে ফেলল ছেলেটাকে।
ঝটকা দিয়ে খুলে গেল দরজা। হুড়মুড় করে ভিতরে ঢুকে পড়ল দর্শকরা।
আলতো করে তরুণকে মেঝেতে শুইয়ে দিল দু জনে।
জ্ঞান হারিয়েছে বোরিসভ।
মেডিক! কুইক! ভিড়ের উদ্দেশে হাঁক দিল হ্যারিস।
পড়িমরি করে ছুটল একজন। পালস দেখল জন। নিস্তেজ। নেই বললেই চলে।
কালবিলম্ব না করে সিপিআর দিতে আরম্ভ করল। বুকের উপরে দুই হাত রেখে চাপ দিচ্ছে। একবার। দুই বার। বার বার।
এক সময় জনের বাহুতে হাত রাখল হ্যারিস। থামতে বলছে।
খেয়ালই নেই সেদিকে জনের। দিয়েই যাচ্ছে প্রেশার… দিয়েই যাচ্ছে। বিন্দু-বিন্দু ঘাম ফুটেছে ওর কপালে।
জন! চেঁচিয়ে ডাকল হ্যারিস।
থামল এবারে। হাঁপাচ্ছে। তাকাল হ্যারিসের দিকে।
ডাইনে-বাঁয়ে মাথা নাড়ল হ্যারিসন।
দশ
রাত এগারোটা।
ডিপার্টমেন্টের অদূরেই রয়েছে এক পাবলিক পার্ক। পার্কে বসে আছে ওরা, সিমেন্টের বেঞ্চিতে।
স্বাভাবিক ভাবেই জনহীন উদ্যানটা। ওরা ছাড়া নেই কেউ।
আকাশে অর্ধচন্দ্র। সামনে দিয়ে বইছে ক্রিমসন লেক। গাছেদের ঝিরিঝিরি কথোপকথন চলছে।
মনটা ভারি হয়ে আছে জনের। বিয়োগান্ত নাটক দেখে বেরিয়েছে যেন।
প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে ছেলেটা, অনেকক্ষণ পরে বলল কথা। হার্টফেল করেছে ভয়ে!
হ্যারিস শুধু বলল, বাড়ি যাও, জন। কষে একটা ঘুম দাও গিয়ে।
প্রতিধ্বনি তুলল জন, বাড়ি?
হোটেলে ফিরবে না?
জবাব পেল না হ্যারিসন। কোথায় যেন হারিয়ে গেছে ওর বন্ধু।
একটা কথা বলো তো! বোরিসভ যে নেকড়ে দেখত, কী করে বুঝলে?
এলএসডি, বলল জন। এখন আমি নিশ্চিত, নিয়মিত মাদক দেয়া হয় ব্রাদারহুডের রিক্রুটদের। এলএসডির বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে- নেকড়ে বা কুকুরমুখো মানুষ দেখা।
বুঝলাম।
নীরবতা।
ওদের গাড়িটা ট্রেস করতে পারলে ভালো হতো।
খামটা থেকেও তো জানা গেল না কিছু! হতাশ স্বরে বলল হ্যারিস। বাড়তি একটা ফিঙ্গারপ্রিন্টও না! মনে হয়, নিজেই এসে লেটারবক্সে ফেলে গেছে চিঠিটা।
এগারো
মোটেল গ্রেভার ইন।
সাড়ে এগারোটা বাজে।
ঘুম নেই জনের চোখে। বসেছে বই নিয়ে। পাতা ওলটাচ্ছে একের পর এক। উলটে-পালটে চোখ বোলাচ্ছে। বিভিন্ন প্যাসেজে। হাবুডুবু খাচ্ছে চ্যাপটার, ভার্স আর নোটের মধ্যে।
লাভের মধ্যে লাভ হলো, বেড়ে গেল কনফিউশন।
বইটা বন্ধ করল জন। মরক্কো চামড়ার মলাট। সোনার জলে লেখা শিরোনাম।
হোলি বাইবেল।
রাইটিং টেবিলের পাশে ফেলা হয়েছে টব। বেড়ে উঠেছে। স্প্যাথিফিলাম সুপ্রিম। বড় আকারের পাতা। গাঢ় সবুজ রং।
গাছটার দিকে তাকিয়ে ভাবল জন, হবে না এভাবে। অন্য ভাবে চেষ্টা করা যাক।
পোর্টেবল কমপিউটারটা অন করল খুলে। এইসার ব্র্যাণ্ডের ল্যাপটপ। অ্যাসপায়ার এসসেভেন আন্ট্রাবুক।– কমপ্লিট হলো স্টার্ট-আপ। আগে একবার অ্যাকসেস কোড দিয়েছে; সরাইখানার ওয়াই-ফাই নেটওঅর্কে স্বয়ংক্রিয় ভাবে যুক্ত হলো তাই পিসি।
টাচপ্যাডে আঙুল, ডেস্কটপে রাখা ব্রাউজারের শর্টকাট আইকনে ক্লিক করল জন। মজিলা ফায়ারফক্স।
এল গুগল হোমপেজ। সার্চ-বক্সে টাইপ করল জন: gehena। এন্টার দিল।
ভুল হয়েছে বানান। সার্চ-ইঞ্জিন বলছে: Did you mean: gehenna? মেসেজটার নিচে দেখানো হয়েছে। gehenna দিয়ে প্রাপ্ত রেজাল্টগুলো।
প্রথমে অক্সফোর্ড ডিকশনারির দেয়া ডেফিনিশনটা পড়ল জন।
১. নরক (নিউ টেস্টামেন্টে)। ২. অগ্নিকুণ্ড, নিদারুণ যন্ত্রণা বা দুঃখময় স্থান। গির্জা বা যাজক সম্পর্কীয় ল্যাটিন শব্দ, যা গ্রিক ভাষা থেকে ল্যাটিন ভাষায় প্রবেশ করেছে। হিব্রু শব্দ ge hinnom থেকে উদ্ভূত। হিনোম হচ্ছে। জেরুজালেমের নিকটবর্তী এক উপত্যকা, যেখানে শিশুদের উৎসর্গ করা হতো শয়তানের উদ্দেশে।
এবার অন্যান্য রেজাল্টে চোখ বোলাতে লাগল জন।
গ্যাহেনা– উইকিপিডিয়া, দ্য ফ্রি এনসাইক্লোপিডিয়া en.wikipedia.org/wiki/Gehenna
অন্ধকারময় স্থান। placeofdarkness.com
গ্যাহেনা ভ্যাম্পায়ার tnc.livejournal.com/77289.html
গ্যাহেনা করপোরেশন। gehennacorp.net
গ্যাহেনা করপোরেশন, নিউ ইয়র্ক gehennacorp.net/branches/ny.htm
গ্যাহেনা করপোরেশন, মোনাকো gehennacorp.net/branches/monaco.htm
স্ক্রল করে নিচে নামল ও। গ্যাহেনা করপোরেশনের নামে। আরও কয়েকটা লিঙ্ক। সবগুলোই শাখা-অফিসের। সিডনি। কায়রো। স্যান ফ্রানসিসকো। টোকিয়ে।
কেঁপে উঠল ল্যাপটপের ডিসপ্লে। ফোন এসেছে। সাইলেন্ট মোডে রাখা মোবাইলটা পাশ থেকে তুলে নিল। জন।
হ্যারিস।
কল রিসিভ করতেই প্রশ্ন: ঘুমাওনি?
না।
কী করছ?
ইন্টারনেট ব্রাউজিং।…কই তুমি?
ল্যাবে। …শোনো, যেজন্য ফোন করলাম… বোরিসভের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে এসেছে একটু আগে। চমকে যাবে।
বুক ঢিপঢিপ করছে, টের পেল জন।
ছেলেটার দেহকোষ আর কাপড়চোপড়ে ইনসেক্টিসাইড পাওয়া গেছে।
কী নাম?
সারিন।
ভাবনায় ডুবে গেল জন। সারিন… সারিন… কোথায় যেন শুনেছি…
মনে করিয়ে দিচ্ছি। টোকিয়ে।
