…বাট ইট ওঅজ ওনলি ফ্যান্টাসি
দ্য ওঅল ওঅজ টু হাই
অ্যাজ ইউ ক্যান সি
নো ম্যাটার হাউ হি ট্রাইড
হি কুড নট ব্রেক ফ্রি
অ্যাণ্ড দ্য ওঅর্স এইট ইনটু হিজ ব্রেইন…
সাইকাডেলিক গানের মূৰ্ছনায় জিকিরের ভঙ্গিতে মাথা দোলাচ্ছে আরোহীরা। একজন বাদে। সিটিয়ে রয়েছে সে।
গান শেষ হলো। রেডিয়োটা বন্ধ করে দিল একজন।
দরজা খুলে গেল গাড়ির। ব্যাকসিট থেকে ঠেলে ফেলে দেয়া হলো সন্ত্রস্ত তরুণটিকে। ধুলো আর ময়লার মধ্যে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল ছেলেটা।
বন্ধ হয়ে গেল দরজাটা। এরপর ওকে ঘিরে চক্কর দিতে আরম্ভ করল গাড়ি দুটো। ধুলোর ঝড় তুলে ফেলল।
ঝট করে-করে চারদিকে সরছে ছেলেটার চোখ দুটো। উন্মাদ-দৃষ্টি। বুদ্ধিশুদ্ধি গুলিয়ে গেছে। ওর মনে হচ্ছে, এক জোড়া কালো চিতা চক্রাকারে ঘুরছে ওকে কেন্দ্র করে। গাড়ির হেডলাইটকে মনে হচ্ছে শ্বাপদের চোখ।
সহসাই থেমে গেল গাড়ি দুটো।
দৌড় দিল তরুণ। প্রেতের মতো দাঁড়িয়ে থাকা ফ্যাকটরি-বিল্ডিংগুলোর দিকে। দিগ্বিদিকজ্ঞান হারিয়েছে।
গাড়ি দুটো দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। ফিরে যেতে শুরু করল তারপর।
ছেলেটা থামল না তবু। চলে যাচ্ছে ওরা, জানে না ও। আবছা থেকে গাঢ়, গাঢ় থেকে প্রগাঢ় অন্ধকারে সেঁধিয়ে দিতে লাগল নিজেকে।
হঠাৎ এক শক্তিশালী বাহু জাপটে ধরল পলায়নরত তরুণকে।
সভয়ে চেঁচিয়ে উঠল ছেলেটা। কাঁপছে হিসটিরিয়াগ্রস্তের মতো।
ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, তোমায় আমি মারব না! জনের গলায় কথা বলে উঠলেন সুকুমার রায়।
বাংলা বোঝে না হ্যারিসন। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সহকর্মীর দিকে। কী বলল জন? হিব্রু?
নয়
স্যান ফ্রানসিসকো হল অভ জাস্টিস।
ইন্টেরোগেশন রুম। রাত দশটা পনেরো।
টেবিলের এক ধারে বসিয়ে রাখা হয়েছে তরুণটিকে। হ্যারিস আর জন ওর মুখোমুখি।
ঘরটা সাউণ্ডপ্রুফ। এক দিকের দেয়াল জুড়ে আয়না। আয়নাটা টু-ওয়ে। বাইরে, সমবেত কয়েক জন দেখছে। ওদেরকে। স্পিকারের মাধ্যমে শুনছে কথা। হাতে কাগজের কাপ। কাপে কফি।
হ্যারিস: স্যান ফ্রানসিসকোতে আছ, কত দিন হলো?
তরুণ: আমি কিছুই জানি না।
হ্যারিস: অবশ্যই জানো। এটা কি না জানার মতো কিছু? কী করছিলে ওখানে?
তরুণ: আমার নাম লেভ বোরিসভ।
হ্যারিস: আমি তোমার নাম জানতে চাইনি। একবার তো বলেইছ নাম। …কী হলো, কাপছ কেন?
জুন: তুমি দেখেছ তাকে, তাই না?
থেমে গেল কাঁপুনি।
লেভ: জি?
জন: প্রবল বৃষ্টির মধ্যে লাল বৃষ্টি…
লেভ (বিস্ফারিত হয়ে উঠেছে চোখ দুটো): আপনিও দেখেছেন?
জন: মুখটা তার… কুকুরের মতো… দেহটা মানুষের, মাথাটা…
লেভ: নেকড়ে!
জন: হা-হা… সেটাই। নেকড়ের রূপে দেখা দেয় সে। …আমি জানি, ভয় পাচ্ছ তুমি। পাওয়ারই কথা। তবে এটাও জানি, জান্তব এই ভয় থেকে মুক্তি চাও তুমি। ভুল বলেছি?
লেভ (ইতস্তত করছে): মুক্তি… মুক্তি চাই…
জন: তা হলে ঠিক জায়গাতেই পৌঁছে গেছ তুমি। সম্পূর্ণ নিরাপদ তুমি এখানে। কোনও অশুভ শক্তিই নাগাল পাবে না তোমার।
লেভ: না…
হ্যারিস: কী না?
লেভ: এন্টারপ্রাইজ সম্বন্ধে কোনও ধারণাই নেই। আপনাদের। কারোরই নিস্তার নেই এন্টারপ্রাইজের কবল থেকে।
জন: কী করতে পারবে ওরা তোমাকে? এ পর্যন্ত। পৌঁছাবেই না ওদের হাত।
লেভ (মাথা নাড়ছে অধৈর্য ভঙ্গিতে): বুঝতে পারছেন না আপনি। তিনি সব দেখেন, সব জানেন
জন: কীভাবে?
লেভ: সংখ্যা দিয়ে।
জন: সংখ্যা দিয়ে?
লেভ: হ্যাঁ, সংখ্যা দিয়ে। আমি কী? কতগুলো সংখ্যা। আপনি কী? কতগুলো সংখ্যা। আমাদের সবারই পরিচয় সংখ্যা দিয়ে। ফোন নাম্বার… সিরিয়াল নাম্বার… ক্রেডিট কার্ড নাম্বার… আমি আপনার নাম্বার জানি- মানে, আপনাকে জানি আমি।
হ্যারিস: চায়টা কী এন্টারপ্রাইজ?
লেভ: আনুগত্য। আনুগত্য এবং নিয়ন্ত্রণ।
জন: কীসের বিনিময়ে?
লেভ: শক্তির।
হ্যারিস: পরিষ্কার করে বলো।
লেভ: যখন সব কিছুর অবসান ঘটবে, তখন তিনি ওঁর বিপুল শক্তি থেকে কিছুটা করে বিলিয়ে দেবেন অনুগতদের। মধ্যে।
জন: কখন সেটা?
লেভ: যখন লক্ষ্যের দিকে যাত্রা শেষ হবে আমাদের। যখন অনির্বাণ আগুনে পুড়ে ছারখার হবে সব কিছু। যখন সমস্ত দুর্বল ও অলস ব্যক্তিকে কতল করা হবে (চোখ উপচে পানি গড়িয়ে পড়ল তার গাল বেয়ে)। ব্রাদাররা বলেছিল, শিগগিরই ধনী হয়ে যাব আমরা। অনেক যাচাই-বাছাই করে সিলেক্ট করা হয়েছে আমাদের। এখন একটাই কাজ–এন্টারপ্রাইজের ডিসিপ্লিন মেনে চলা। এই নিয়মনীতির মধ্যেই রয়েছে আত্মার মুক্তি।
জন: যে শক্তির কথা বললে, সেটা কী ধরনের? অলৌকিক কিছু?
লেভ: সমৃদ্ধির শক্তি এটা।
জন: অর্থ, বিত্ত, সুখ?
লেভ: আমাকে বলা হয়েছিল, এন্টারপ্রাইজ একটা গণতান্ত্রিক সংগঠন। এর আদর্শ কারও পছন্দ না হলে বেরিয়ে যেতে পারে দল থেকে। মিথ্যা বলেছিল। এণ্টারপ্রাইজে ঢোকার রাস্তা আছে, বেরোবার দরজা নেই। মেম্বারদের উপর সামান্যতম নাখোশ হলেই ব্রাদাররা পরিণত হয় ঘরের শত্রু বিভীষণে।
হ্যারিস: মিখাইল ভিকটরোভিচকে কি ওরাই হত্যা করেছে?
লেভ (ভীতির ছায়া পড়েছে দুই চোখে): ওরাই। ফাঁকিবাজ ছিল সে। এন্টারপ্রাইজের চোখে কেউ যদি অযোগ্য। বলে বিবেচিত হয়, এন্টারপ্রাইজ খেয়ে ফেলে তাকে। মিখাইলকে খেয়েছে… ব্লখিনকে খেয়েছে… মিনস্কি… উরসুলাকে… আমাকেও খেয়ে ফেলবে! কেউ বাঁচাতে পারবে না আমাকে… কেউ না!
