রুশ, জানাল ভদ্রলোক। দিন, পড়ে দিচ্ছি।
থ্যাঙ্ক ইউ, মিস্টার ভিকটরোভিচ। তার দরকার হবে না। ইন্টারপ্রেট করার লোক আছে আমাদের।
সাত
জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ নাম মেয়েটার। শ্রী লঙ্কায় বাড়ি। এখন থিতু হয়েছে আমেরিকায়।
বাড়াবাড়ি ধরনের সুন্দরী। উজ্জ্বল শ্যামলা বরণ। তলোয়ারের মতো ধারাল ফিগার। উগ্র একটা আকর্ষণ রয়েছে ওর মাঝে। আয়ত চোখ। টকটকে লাল ফ্রেমের চশমা সেক্স অ্যাপিল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মেয়েটার।
মডেলিং-এ গেলে নাম কামাতে পারত। হয়েছে। ভাষাবিদ।
দুটো স্লাইড বানানো হয়েছে চিঠির পাতা জোড়া থেকে। লাগানো হয়েছে ওভারহেড প্রজেক্টরে। সবার দৃষ্টি বড় পরদায়।
লাইন বাই লাইন অনুবাদ করে চলেছে জ্যাকলিন। শ্যানেল নাম্বার ফাইভ-এর মিষ্টি গন্ধে ভুরভুর করছে চারপাশ।
মাকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিটা। প্রথমে সালাম জানিয়েছে। তারপর কুশল। পর সমাচার এই যে বলে। জানাচ্ছে, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছে সে।
বাধ্য হয়েই তোমাদের সাথে সমস্ত বন্ধন শেষ করে দিতে চলেছি, বলে চলেছে জ্যাকলিন। এই মুহূর্তে এমন এক দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছি আমি, যেখানে কোনও পিছুটান থাকলে চলে না। আমার অতীত পরিচয়ের সমস্ত চিহ্ন পোড়াতে চলেছি নতুন বিশ্বাসের পবিত্র আগুনে…
কী বোঝাতে চেয়েছে? বলে উঠল হ্যারিস। কোনও ধর্মীয় সংগঠনে যোগ দিয়েছিল মিখাইল? পিছুটান রাখা যাবে
… এটাকে তো আমার ধর্মীয় অনুশাসনের মতো লাগছে। নানদের যে প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে যেতে হয়…
আনুগত্যের কথা আছে এখানে, বলল ভাষাবিদ। দায়িত্ব আর কর্তব্যের কথা লিখেছে…
কার প্রতি?
বিশেষ কারও প্রতি না, স্যর। বিশ্বাসের প্রতি। লিখেছে: আমি আমার বিশ্বাসের প্রতিনিধি।
হোলি কাউ।
আরও কী বলছে, শুনুন। যদি আমি নিজের বিশ্বাসে অটল থাকতে না পারি, যদি অসম্মানের কারণ হই আমার ভাইদের, শেষ দিন পর্যন্ত তা হলে আমার আত্মা পুড়বে গ্যাহেনার আগুনে।
গ্যাহেনা কী?
দোজখ, জবাবটা দিয়ে দিল জন। হিব্রু ভাষায় দোজখকে বলে- গ্যাহেনা। ওল্ড টেস্টামেন্টে আছে শব্দটা।
তুমি জানলে কী করে?
জানি। হাই স্কুলে হিব্রু ছিল আমার। স্পেশাল স্টাডিজ।
টাকে হাত বোলাচ্ছে হ্যারিস। চুল পড়ে যায়নি, কামিয়েছে মাথা। এটাই নাকি ওর হেয়ারস্টাইল। যা মনে হচ্ছে… কোনও ধরনের ভ্রাতসঙ্ঘে যোগ দিয়েছিল ছোঁড়াটা।
আমি তাঁকে দেখেছি, পড়ে চলল ল্যাঙ্গুয়েজ-এক্সপার্ট। আকাশ থেকে মুষলধারে পড়ছিল রক্তের ফোঁটা! কিন্তু একটুও ভয় পাইনি, জানো? তিনি আমাদের অভয় দিয়েছিলেন… বললেন, ভয় নেই… ভয় নেই…
এই তিনিটা কে? আবারও বাধা দিল হ্যারিস।
কেউই না হয়তো, মন্তব্য জনের। ড্রাগসের প্রভাব পুরোটাই। একবার এলএসডিতে আসক্ত এক হিপ্পি দাবি করেছিল, যিশু খ্রিস্টের সাথে দেখা হয়েছে তার…
যত্ত সব পাগল-ছাগল!
সীমাহীন ক্রোধে থরথর করে কাঁপছিলেন তিনি। ওঁর ঈষৎ লালচে মুখটা থেকে অনুরণনের মতো বেরিয়ে আসছিল একটাই কথা: বদলা হবে,… বদলা হবে… বদলা হবে…
ঢোক গিলল হ্যারিস৷ খাইছে! কী এসব?
প্রলয় আসন্ন। কাউন্ট ডাউন শুরু হয়েছে। প্রতারকদের ভুল সমীকরণ আমাদের ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার আগেই সঠিক হিসাব বের করতে পেরেছি আমরা…
দাঁড়াও, ভাই! একটু দাঁড়াও। মাথাটা ভোঁ ভোঁ করছে আমার!
পিরামিড নিয়ে কন্ট্রোভার্সি আছে, জানো? বলল। জন আচমকা।
কীসের মধ্যে… বাক্যটা শেষ করল না হ্যারিস। কোন্ পিরামিড?
মিশরের।
অ্যালিয়েন এসে পিরামিড তৈরি করে দিয়েছে- ওইটা?
না, ওই বিতর্ক না। অন্য একটা। …গিজার পিরামিডকে মানমন্দির হিসাবে দেখে অনেকে। পিরামিডের চূড়া থেকে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিচার করে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পূর্বাভাস দিত প্রাচীন কালের জ্যোতিষীরা। তারা এমন কী এটাও বলে গেছে, কবে ধ্বংস হবে পৃথিবী। এদিকে এক দলের মতবাদ, পিরামিডগুলো স্থাপন করা হয়েছে ভুল পজিশনে। বহু পয়গম্বর নাকি বলে গেছেন এ কথা। ইজিপ্টোলজিস্টদের অনেকেও এই তত্ত্ব স্বীকার করে। তো, ভুল অবস্থানে থাকার কারণে গণকদের ফোরকাস্টগুলো পুরোপুরি মিলত না। কখনও কখনও অবশ্য ঝড়ে বক মরে ফকিরের কেরামতি বাড়ত। কথা সেটা না। কথা হচ্ছে…
অ্যাপোক্যালিন্স নিয়ে যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, সেটা ভুল?
এগজ্যাক্টলি। বিরুদ্ধবাদীদের গণনা অনুযায়ী, কেয়ামত হবে ২০১৬ সালে।
নস্ট্রাডামাস ভাত পায় না, নতুন পাগলের আমদানি।
যা-ই বলো… এই পাগলামির উপর ভিত্তি করেই কিন্তু ছোট-বড় অসংখ্য সঙ্ তৈরি হয়েছে দুনিয়া জুড়ে। মিখাইল সম্ভবত এমনই একটা গ্রুপে যোগ দিয়েছিল।
স্যর, একটা কথা বলি? পারমিশন চাইল ভাষা বিশারদ।
প্লিজ।
গ্যাহেনা শব্দটা অস্বাভাবিক লাগছে আমার কাছে। ছেলেটা দোজখ, জাহান্নাম, ইত্যাদি না বলে গ্যাহেনা বলল কেন?
চমৎকৃত হলো জন। গুড শট, মিস ফার্নান্দেজ। শব্দটার নিশ্চয়ই কোনও তাৎপর্য আছে।
আট
রাত্রি অন্ধকার।
স্থানীয় সময়: নয়টা পঁচিশ।
ড্রাই-ক্লিনিং এরিয়াতে এসে হাজির হলো দুটো বিএমডব্লিউ।
রেডিয়ো বাজছে একটার। ফুল ভলিউম। জনবসতি নেই। আশপাশে। মৃত কারখানায় কেমন বিজাতীয় শোনাচ্ছে পিঙ্ক ফ্লয়েড-এর গান। ষাটের দশকের জনপ্রিয় রকব্যাণ্ড।
