উল্লেখযোগ্য কিছু পেয়েছেন কানটাতে?
মাথা ঝাঁকাল এক্সপার্ট। পেয়েছি। যদিও নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ নই আমি, রসিকতা করল। হাসল।
কী পেয়েছেন? তাড়া দেয়ার ভঙ্গিতে বলল বেরসিক হ্যারি।
প্রচণ্ড তাপের শিকার হয়েছে কানটা- লোকটা আর কী। হতাশ হলো জন। এটাই তো স্বাভাবিক।
স্বাভাবিক। তবে আপাত দৃষ্টিতে। অ্যাবনরমাল একটা ব্যাপার আছে এখানে।
কী রকম?
চোদ্দ শ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কার্বনে পরিণত হয় মানুষের হাড়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ছিল একুশ থেকে বাইশ শ ডিগ্রি।
এই পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয় কোথায়?
যেখানে আছে হাই স্কেল মাইক্রোওয়েভের কারবার।
ফর এগজাস্পল?
কল-কারখানা।
নোটেড। এনিথিং এলস? মাথা নাড়ল ডিয়েগো লুনা। লাইসারজিক অ্যাসিডের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে কানের টিসুর মধ্যে।
লাইসারজিক? তা হলে তো… ।
হ্যাঁ, এলএসডি।
এলএসডি বা লাইসারজিক অ্যাসিড ডাইইথাইলামাইড এর ভয়ঙ্করত্ব কারও অজানা নয়। এই ড্রাগ নিলে মারাত্মক হ্যালুসিনেশনে ভোগে লোকে।
শুধু তা-ই না, বক্তব্য শেষ হয়নি মেক্সিকানের। ফসজিনও আছে।
ফসজিন? নামটা চেনে না হ্যারিস।
এক ধরনের গ্যাস মূলত। আনকমন। তবে একটা কমন ব্যাপার আছে এই গ্যাসের।
কেমন কমন?
কোথাও যদি কোনও আগ্নেয় দুর্ঘটনা ঘটে, এই গ্যাসের উপস্থিতি দেখা যায় সেখানে। স্পেশালি, যেসব কেমিকেল প্ল্যান্টে কার্বন টেট্রাক্লোরাইড ইউজ করা হয়…
কার্বন- কী?
টেট্রাক্লোরাইড, বলে দিল জন। এক ধরনের ড্রাই ক্লিনিং ফুইড।
ইউ গট ইট, সোৎসাহে বলল মেক্স। আরেকটা সূত্র দিই এবার। …বছর সাতেক আগে স্মরণীয় একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল এখানে। কোন্খানে, অনুমান করতে পারেন?
কোনও ড্রাই-ক্লিনিং ফ্যাসিলিটিতে? একদম ঠিক।
ফ্যাকটরিটা কোথায়? প্রশ্ন হ্যারিসের।
পিয়ার ২৩-এর কাছে।
তিন
রাত হয়ে গেছে।
পরিত্যক্ত কারখানায় ভুতুড়ে পরিবেশ। থমথমে শূন্য মঞ্চের রোমাঞ্চ।
একটা বিড়াল ডেকে উঠল।
অন্ধকার বলে নয়, এমনিতেই সব কিছু কালো-কালো এখানে। সাত বছর আগের বিস্ফোরণ তার দগদগে ক্ষত রেখে গেছে। তারপর আছে মানুষের অবহেলা আর প্রকৃতির অত্যাচার। বিশাল চত্বরের বিটুমেন-সারফেস খাওয়া-খাওয়া। জন আর হ্যারিস, যে-ভবনটা ঘুরে দেখছে, সেটাকে দালান না বলে দালানের কঙ্কাল বলাই ভালো। ভগ্ন দশা। পুড়ে যাওয়া লোহালক্কড়ের জঞ্জাল ফেলে রাখা হয়েছে। ভাঙা কাঁচ ছড়িয়ে আছে মেঝেময়।
অনেক উপরে ছাত। স্কাইলাইট সিসটেম। এখন অবশ্য ভেঙে চুরমার জানালাগুলো। আধখানা চাঁদ উঁকি মারছে বাইরে থেকে।
মিলটার মালিক কে, জানো? জিজ্ঞেস করল জন এক পর্যায়ে। ছয় ব্যাটারির টর্চের সাহায্যে আঁকিবুকি কাটছে আঁধারের গায়ে। বিচিত্র সব ছোট-বড় ছায়া নাচছে ওদের চারপাশে।
শুনলাম তো- নগর কর্তৃপক্ষ, জানাল হ্যারিস। বেচার চেষ্টা করছে নাকি! বায়ার পাচ্ছে না।
প্রস্রাব করার শব্দের মতো যে আওয়াজটা রাতের নীরবতায় জোরাল শোনাচ্ছে, সেটার উৎস খুঁজে পেল আলোকরশ্মি। গন্তব্যও।
ধড়াস করে উঠল হ্যারিসের বুকটা।
ফ্লোরের এক গর্ত হয়ে যাওয়া অংশে পানি জমেছে। পানির রং রক্তের মতো লাল!
মরিচা, বন্ধু কী ভাবছে, আঁচ করতে পেরে শুধরে দিল জন। আলো ফেলে দেখাল ছাতে। কয় মণ রাস্ট পড়ে আছে, দেখো।
দেখল হ্যারিস। বুঝতে পারল, কী ঘটছে।
মোটা এক লোহার পাইপ সিলিং-এ। লিক আছে। মরচে-ধোয়া পানি সরু রেখায় নেমে আসছে নিচে।
সেদিকে কদম বাড়াল জন। হ্যারিসও যোগ দিল ওর সঙ্গে। ময়লা পানি থেকে গা বাঁচিয়ে দাঁড়াল ওরা।
বুঝতে পারছি না, জন। কী হতো এখানে?
ড্রাই-ক্লিনিং, বলল জন ঠোঁট টিপে।
আরে, ধুর! ওই কথা কে জানতে চায়! আমি বলছি লোকগুলোর কথা। কী সব পাওয়া গেছে… এলএসডি… ফসফিন…
ফসজিন।
একই কথা! ধৈর্যহারা হলো হ্যারিস।
একই? ফ আর জ এক হলো? এই পরিবেশেও কৌতুক করতে ছাড়ল না জন। তোমাকে যদি ফোর্ড না বলে জোর্ড বলে ডাকি, আপত্তি করবে না?
হেসে ফেলল হ্যারিস। ওর ট্যাগ হিউয়ার লুমিনাস। ঘড়িতে ক টা বাজে, দেখল।
হাঁটু ভাজ করে বসে পড়ল জন, পায়ের পাতার সামনের। অংশে ভর দিয়ে। কী জানি নজর কেড়ে নিয়েছে ওর।
সাদা-সাদা কী যেন পড়ে আছে মাটিতে। লম্বা লম্বা কতগুলো জিনিস। ওগুলোর এক মাথা চৌকো, আরেক মাথা দুই ভাগে বিভক্ত। চৌকোনা থেকে সরু হতে হতে চোখা হয়ে গেছে জোড়া অংশ দুটো।
মানুষের দাঁত!
চারকোনা মাথাটা দাঁতের বহির্ভাগ, অন্য দুটো দন্তমূল।
হ্যারিসও বসল হাঁটু ভেঙে। চোখ নিয়ে গেল দাঁতগুলোর কাছে। একটা দাঁত ঝিকিয়ে উঠল ওর চোখে।
সোনা দিয়ে বাঁধানো দাঁতটা!
চার
পেষক দন্ত, দাঁতটা দেখেই রায় দিল ডিয়েগো লুনা। ম্যাগনিফাইং গ্লাসের নিচে ধরে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখছে এখন।
উঁচু এক টুলে বসেছে। ওর দু পাশে দাঁড়ানো দুই এজেন্ট ঝুঁকে রয়েছে পেল্লায় কাঁচটার উপরে।
মাড়ি থেকে কীভাবে আলাদা হয়েছে, তার কোনও আলামত রয়েছে? প্রশ্ন জনের। এ এলোপাতাড়ি আঁচড় রয়েছে এনামেলের গায়ে। দুই বিপরীত পাশে। একটা উপসংহারেই পৌঁছানো যায় এ থেকে। সাঁড়াশি।
আগুনে পোড়ানোর আগে দাঁত খুলে ফেলেছে নাকি? আপন মনে বলে উঠল হ্যারিস। পানিশমেন্ট? নাকি…
চিমটা দিয়ে আরেকটা দাঁত ধরল ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট অণুবীক্ষণ যন্ত্রে।
