কলিগের পাশে চলে এল জন। নাকে এসে লাগছে। আফটার-শেভ লোশনের সুবাস। ওল্ড স্পাইস। এটাই ব্যবহার করে হ্যারিস।
গুড ডে, জন। সব ঠিক তো?
রে-ব্যান সানগ্লাসটা খুলে ফেলল জন। নাহ। আনাড়ি পাইলট। প্লেনটা এত বাম্প করিয়েছে যে, মাথাটা ঘুরছে এখনও। ভাবছি, নিজেই একটা প্লেন কিনে ফেলব। নিজেই চালাব।
এক্সকিউজ মি, বলে আরেক দিকে চলে গেল চর্বির ডিপো।
এবারে কী? কাজের কথায় চলে এল জন।
আগুন, এক কথায় প্রকাশ করল হ্যারিসন। হাঁটতে শুরু করল। চলার ফাঁকে বলতে লাগল বিস্তারিত।
…পার্কটা এখন আর ব্যবহার না হলেও বার্ড ওঅচার ক্লাবের সদস্যরা মাঝে মাঝে আসে এখানে। ওদেরই একজন আবিষ্কার করে এটা। আজ ভোরেরই ঘটনা। অন্ধকার ছিল তখনও। বিনকিউলার নিয়ে ঝোঁপের ভিতরে ওত পেতে ছিল। মহিলা। আলো ফুটতেই খেয়াল করে হাতে, জামায় কালি লেগে আছে।
কীসের কালি?
নিজেই দেখো।
মেহেদির একটা ঝাড়ের কাছে নিয়ে এল ওকে হ্যারিসন। কয়েকটা ডাল সরাল। হলুদ-বরণ দু -চারটে প্রজাপতি বসে ছিল গাছটাতে। ঝরা পাতার মতো উড়তে লাগল আশপাশে।
গোড়ালির উপর ভর দিয়ে বসল জন। ঝুঁকে দেখতে লাগল।
বড় বড় ঘাসের ফাঁকে ছাই জমে আছে। পরিমাণে প্রচুর। অনেক চেনা একটা গন্ধের ঝাঁপটা লাগছে নাকে।
জনের চোখ আটকে গেল একটা মাংসপিণ্ডের উপরে আটকে আছে ঘাসের মধ্যে।
মানুষের কান!
কালো একটা পিপীলিকা দলবল ছেড়ে একা ঘোরাফেরা করছে মাটি আর ছাই মাখা কানটার উপরে।
ঘাড় তুলল জন। সিধে হলো। ডালগুলো ছেড়ে দিল ফোর্ড।
আগুনে পোড়া লাশ এরকম খাক হয়ে যায় না… বলল। জন নিজেকে।
একমত।
ব্যাপারটা দাঁড়াল এই- মরার পরে গুঁড়ো করে ফেলা হয়েছে লোকটাকে। …ক্রিমেটরিয়াম? কিন্তু এখানে ডাম্প করল কেন?
চলো, আরেক জায়গা দেখাই।
আরও আছে?
চোখ দুটো রহস্যময় করে তুলল হ্যারিস।
ক টা দেখতে চাও!
দুই
স্যান ফ্রানসিসকো পুলিস ডিপার্টমেন্ট।
ফরেনসিক ল্যাব।
ওষুধ-ওষুধ গন্ধ পরীক্ষাগারটায়। একাধিক টিউবলাইটের আলোয় উজ্জ্বল। নানান আকৃতির শেলফে শিশি, বোতল, ফ্লাস্ক, ফানেল, টেস্টটিউব, বিকার, ইত্যাদির সমাহার। আছে নানান ধরনের যন্ত্রপাতি। আর অনেকগুলো কমপিউটার।
স্ট্যাণ্ড-বাই অবস্থায় রয়েছে। গুরুগম্ভীর আওয়াজ করে চলেছে। কয়েকটা ফ্রিজ। পাল্লাবিহীন দেয়াল-আলমারি বইয়ে বোঝাই।
ধূমপান নিষেধ এখানে। ক্রিম কালারের দেয়ালে, সাটা স্টিকারে সতর্কবার্তা। নো স্মোকিং সাইনটার নিচে ছোট এক লাল ফায়ার এক্সটিংগুইশার।
বেরিয়ে গিয়েছিল কিছুক্ষণের জন্য, হ্যাণ্ড ট্রাক নিয়ে ফিরল প্যাথলজিস্ট। তিনটে কার্টন নিয়ে এসেছে ওটাতে করে। একটার উপরে আরেকটা।
পরিচয়পর্ব সারা হয়ে গেছে আগেই। ডিয়েগো লুনা নাম। লোকটার। মেক্সিকান। ঠিক মোটা বলা যাবে না তাকে, শুধু ঠেলে বেরিয়ে এসেছে ভঁড়িটা। এক সময় এফবিআইতে ছিল সে-ও। ভাইক্যাপ-এ (ViCAP: The Violent Criminal Apprehension Program) কাজ করত। তবে এর আগে সাক্ষাৎ হয়নি জন বা হ্যারির সাথে।
পুরো রিপোর্ট কিন্তু রেডি হয়নি এখনও, বলল ফরেনসিক এক্সপার্ট।
কেন? একযোগে জিজ্ঞেস করল জন-হ্যারিস।
সাইটের এক্সকাভেশন বাকি রয়ে গেছে।
কেন? একই প্রশ্ন দ্বিতীয়বার করল জন।
পার্ক অথরিটি এসে বাগড়া দিয়েছে। খোঁড়াখুঁড়ির পারমিশন দিচ্ছে না। কী-না-কী আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।
শুনে মুখ বাঁকাল হ্যারিস।
কী হবে এখন তা হলে? জানতে চাইল জন।
বোঝানোর প্রয়াস চলছে ওদেরকে। সমস্যা হচ্ছে, মোটা মাথায় সহজে কিছু ঢুকতে চায় না। …যা-ই হোক, কিছু। আপডেট দিতে পারব আপনাদের।
ছোট ছোট দুটো চাপড় মারল লোকটা বাক্সের গায়ে। উনচল্লিশ পাউণ্ড কার্বনাইজড মনুষ্যদেহের নমুনা জোগাড় করেছেন আপনারা। সাতজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের সমান প্রায়, বলতে বলতে সাদা ল্যাব-কোটের পকেটে হাত ঢুকিয়ে দিল। বক্স-কাটার বেরোল একটা। বুড়ো আঙুলের ঠেলায় যন্ত্রটার ধারাল ফলা বের করে কেটে ফেলল উপরের বাক্সটার উপরিভাগ- হলুদ টেপ।
খুলে ফেলল সে কার্টনটা। এভিডেন্স-ব্যাগ ভিতরে। প্লাসটিকের। মুখ খুলল ব্যাগের।
আড়চোখে ভিতরটা দেখল জন। ছাই ভরা।
কত দিনের পুরানো, এটা বের করাটা একটু টাফ, বিশেষজ্ঞ-মত ডিয়েগোর। যায় না যে, তা না। কিন্তু এখানে
তো অনেকের ছাই মিশে গেছে। খানিকটা পরীক্ষা ক। বুঝেছি, এক-একটা এক-এক সময়ের।
কোন সময়ের, ধরতে পেরেছেন? জিজ্ঞেস করল জন।
যেটুকু দেখেছি… এক মাসের পুরানো ছাই পেয়েছি এর মধ্যে। আর নতুন পেয়েছি হপ্তা খানেক আগের।
পরস্পরের দিকে চাইল হ্যারিস আর জন।
সিরিয়াল কিলিং, অভিমত হ্যারির।
ফরেনসিক প্যাথলজিস্টের দিকে ফিরল জন। হ্যারিও।
একটা বিষয় লক্ষণীয়, ফের বয়ান শুরু করল মিস্টার লুনা। পুরোটাই কিন্তু মানুষ-পোড়া ছাই। কাপড়চোপড় কিংবা অন্য কিছুই পেলাম না।
ন্যাংটা করে পুড়িয়েছে নাকি? স্বগতোক্তি হ্যারিসের।
কানটার উপরে আলোকপাত করুন, অনুরোধ করল। জন।
হ্যাঁ… কান। অ্যাপ্রনের আরেক পকেট থেকে একখানা কৌটা বের করল ডিয়েগো। পেপারওয়েটের চেয়ে সামান্য বড় হবে। ট্রান্সপারেন্ট। তুলে ধরে দেখাল ফর্মালডিহাইডে চুবানো কানটা। এটা একটা রহস্য বটে। গোটা শরীর, যেখানে চূর্ণবিচূর্ণ, সেখানে আধখানা এই কান রক্ষা পেল কীভাবে, কে বলবে। আর তো কোনও টুকরো-টাকরা পেলাম না।
