না।
ইতোমধ্যে চেতনা ফিরতে শুরু করেছে ডেইজির। ওর ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে এদিক-ওদিক তাকাল রনি। ধড়াস করে লাফ মারল ওর হৃৎপিণ্ড। ওই তো, ওই কোনায় ঝুলছে ম্যাডি!
স্পর্শ করতেই ঝটকা দিয়ে উঠল ম্যাডির মাথাটা। এতক্ষণ অচেতন ছিল সে-ও।
ভাইয়া! ভাইয়া!
রনি! ভাই আমার! কেঁদে ফেলল ম্যাডি।
আর-দু জন কোথায়? ফ্লয়েড ভাইয়া… টিম ভাইয়া?
নেই! নেই ওরা!
বাঁধন কেটে নামিয়ে আনা হলো ম্যাডিকে।
চুরি যাওয়া মালামালগুলোও পাওয়া গেল একখানে গাদা করা অবস্থায়। খোয়া যাওয়া ডাফল ব্যাগটা থেকে ফ্লেয়ার গানটা বের করে নিল আয়ান। মলোটভটা কখন হারিয়ে ফেলেছে, টেরই পায়নি।
বেরিয়ে এল ওরা ভূ-গর্ভস্থ কামরাটা থেকে।
টানেল ধরে এগিয়ে চলেছে, ওয়েনডিঙ্গোর গর্জনে কেঁপে উঠল খনি। সামনে কোথাও থেকে এসেছে আওয়াজটা।
মরিয়ার মতো এপাশ-ওপাশ তাকাল আয়ান। দেখতে পেল আশার আলো। রনিকে ডেকে বলল, শাখা-টানেলটা দেখুন। অন্ধকার কম এটাতে। সম্ভবত বেরোনো যাবে এদিক দিয়ে। চলতে থাকুন আপনারা চারজন!
আর তুই? আকুল হয়ে বলল আয়মান।
দাঁত কেলিয়ে হাসল আয়ান। শো-টাইম! ট্র্যাজিক হিরোর অন্তিম বাক্যের মতো শোনাল কথাটা।
মানে?
ডাইভারশন তৈরি করতে যাচ্ছি আমি। ব্যস্ত রাখব হারামিটাকে। এই ফাঁকে নিরাপদে সরে পড়বি তোরা!
না-না, ভাইয়া! এটা পাগলামি! প্রবল আপত্তি জানাল আয়মান।
ডেইজি আর রনিও মাথা নাড়ছে।
যা বলছি, কর! কঠিন গলায় ভাইকে বলল আয়ান। এটাই এক মাত্র সমাধান! যা! কুইক!
বলেই আর দাঁড়াল না। ফ্ল্যাশলাইট আর গানটা নিয়ে ছুট লাগাল গর্জন লক্ষ্য করে।
ভাইয়াহ! শেষ একবার ব্যর্থ চেষ্টা করল আয়মান ভাইকে ফেরানোর।
চলুন! তাগাদা দিল রনি।
ভাইয়ের গমনপথের দিকে কাতর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আয়মান। অনিচ্ছা সত্ত্বেও পা বাড়াল শাখা-সুড়ঙ্গটার দিকে।
বারো
এ কোন জানোয়ার!
ভাবতেও পারেনি, এতটা কাছে রয়েছে! আরেকটু হলেই পড়ত গিয়ে ওটার গায়ের উপরে!
কম করেও সাত ফুট লম্বা হবে! একটা রোমও নেই গায়ে। সামনের দিকে কুঁজো হয়ে রয়েছে নীলচে-ধূসর অর্ধ মানুষটা। বড় বড় চোখ। ধকধক করছে হিংস্র দৃষ্টি। নরক থেকে উঠে আসা পিশাচ যেন।
শুট করল আয়ান। আগুন পুরে দিল পিশাচটার রাক্ষুসে পেটে। বিশাল হাঁ করে এবড়োখেবড়ো চোখা দাঁতের সংগ্রহ দেখিয়ে দিল ওয়েনডিঙ্গো। যন্ত্রণায় মোচড়ামুচড়ি করছে শরীরটা। ভয়াবহ গোঙানি বেরিয়ে আসছে গলার ভিতর থেকে।
আধ মিনিটেই আগুনের শিখা প্রায় গ্রাস করে ফেলল ওটাকে।
জানোয়ারটা মুখ থুবড়ে পড়তেই বিশাল এক হাঁফ ছাড়ল আয়ান। উলটো ঘুরে ছুটল সভ্য জগতের উদ্দেশে।
বিষবাষ্প
ছুটি শেষ হয়নি। তার পরও কাজে যোগ দিতে হয়েছে জন ডিউককে। হেড-অফিস থেকে আদেশ: যোগাযোগ করো। আর্জেন্ট।
অকুপেশনাল হ্যাঁয়ার্ড।
ওঅশিংটনে রওনা হয়নি আর। সিয়াটল থেকে সোজা স্যান ফ্রানসিসকো-তে। তারপর এয়ারপোর্ট টু ক্রাইম সিন।
শান্ত দিঘির জলের মতো নিস্তরঙ্গ একটা দিন। পাকা কমলালেবুর খোসার মতো রোদ আছে, আঁচ নেই।
এই সব দিনে আলুথালু বাতাস বয়। হারানো দিনলিপি থেকে বিস্মৃতির এক-একটা পৃষ্ঠা উঠে এসে মন উতল করে তোলে। কিছুটা মধুর, কিছুটা বিষাদমাখা দীর্ঘশ্বাস পড়ে কি পড়ে না।
অধিকাংশ মেগাসিটির মতো স্যান ফ্রানসিসকোরও দুটো অংশ। নতুন। পুরানো। এক দিকে সারি সারি গগনচুম্বী অট্টালিকা, আরেক দিকে অনগ্রসর শহরতলি। যেন বড়লোকের গরিব আত্মীয়। ব্যস্ত দুনিয়া থেকে দূরে সরে আছে অনেকটা।
জায়গাটা একটা প্লেগ্রাউণ্ড। মানে, ছিল এক কালে। এখন বাতিলের খাতায়। খেলার মাঠের এক ধারে রয়েছে দোলনা, স্লিপার সহ আরও নানা রকম খেলাধুলার সরঞ্জাম। পড়ে থেকে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। দোলনার দড়ি ছেঁড়া, কাঠে ঘুণ ধরেছে, লোহা ক্ষয়ে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে স্লিপারের চোখা দাঁত। খোঁচা খেলে ধনুষ্টঙ্কার হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।
এক সময়ের যত্নে লালিত ছোট আর মাঝারি সাইজের গাছগুলো পরিণত হয়েছে ঝোপে। কয়েক পরত ধুলোবালির নিচে হারিয়ে গেছে সবুজ পাতার আসল রং।
মলিন এই দৃশ্যের মাঝে আশ্চর্য বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে মৌসুমের শেষ কয়েকটা গোলাপ। লাল সৌন্দর্য নিয়ে বিকশিত।
ভাড়া করা গাড়িটা পার্কের বাইরে পার্ক করল জন।
দুটো পুলিস স্কোয়াড কার অকুস্থলে। কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে- দেখল।
ভিতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না কাউকে। কৌতূহলী দর্শকদের নিবৃত্ত করছে এক মোটরসাইকেল ট্রেলম্যান। দীর্ঘদেহী এক যুবককে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে আসতে দেখে হাত তুলল।
ফ্লাইট জ্যাকেটের পকেট থেকে পরিচয়পত্র বের করে মেলে ধরল জন।
সাদা পোশাকের এফবিআই এজেন্টের পরিচয় পেয়ে হাত নামিয়ে নিল পেট্রলম্যান। সরে দাঁড়াল খানিকটা।
CRIME SCENE. DO NOT ENTER. লেখা হলুদ ফিতার ব্যারিয়ার পার হলো জন।
হমিসাইড টিমের সদস্যরা যার যার কাজে মগ্ন। ওর চোখ খুঁজে ফিরল হ্যারিকে। পেয়েও গেল।
একটু দূরে দাঁড়িয়ে হ্যারিসন ফোর্ড। পিছন ফিরে আছে। ব্যস্ত আলাপে।
পিছনে গিয়ে দাঁড়াতে কানে এল একজনের কথা। …চোখ-কান খোলা আছে আমাদের। থেমে গেল লোকাল ডিটেক্টিভ। ভোতা, থলথলে চেহারা। অচেনা আগন্তুককে
দেখছে।
