রিপোর্টারটি এমনিতেই বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। তারপরই দেখলেন সাইকিক রহস্যভেদীটি যেন হঠাৎ একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেছেন। সবুজ থকথকে কাদায় ভর্তি একটা পুকুরের দিকে হাঁটতে শুরু করেছেন। তারপরই পনিতে নেমে পড়লেন। পা হাঁটু পর্যন্ত না ডোবা পর্যন্ত এগুলেন। এবার সবুজ শৈবালে ভরা পানির মধ্যে দু-হাত চুবিয়ে দিলেন। একটু পর যখন হাত তুললেন। সেখানে কাদা লেপা ছোট্ট কী একট জিনিস। পরিষ্কার করতেই বেরিয়ে এল এটা ১৯৪২ সালের আধ ডলারের একটি রৌপ্য মুদ্রা। আরও আশ্চর্য ব্যাপার; কণ্ঠটা তাদের এখানেই খুঁজতে বলেছিল মুদ্রাটা।
ব্যাচেলর গ্রোভে হানা দেয়া কৌতূহলী অনেক লোকই গল্প করেন ভুতুড়ে একটা খামার বাড়ির। এই দেখা যায় তো পর মুহূর্তেই আবার অদৃশ্য হয়ে যায় ওটা। তবে সবার বর্ণনাতেই বাড়িটার একই আদল পাওয়া যায়। বিশাল খাম্বাসহ রোয়াকের সাদা একটি বাড়ি ওটা। পাক খেতে-থাকা মৃদু একটা আলো জ্বলতে দেখা যায় জানালায়। তবে বাড়িটাকে কখনও একই জায়গায় দেখা যায় না। কেউ ওটার কাছে যাওয়া শুরু করলেই ভোজবাজির মত অদৃশ্য হয়ে যায়। রাতে তো বটেই দিনের আলোতেও দেখা গেছে বাড়িটা। কিন্তু পুরানো দিনের দলিলদস্তাবেজ আর ফাইলপত্র ঘেঁটে এই এলাকায় এমন কোনো বাড়ির অস্তিত্বের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
১৯৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে দৰ্বত্তরা সমাধিফলক উপড়ে ফেলা আর চিত্রকর্ম শাভিত ভাস্কর্য নষ্ট করা আরম্ভ করলে গোরস্থান জুড়ে এক ধরনের লাল আলো দেখতে শুরু করে দর্শনার্থীরা। কখনও কখনও প্রচণ্ড গতিতে লোকেদের অনুসরণ করে, কখনও আবার বাতাস ভেদ করে চলে যায়। অভিজ্ঞ অতিপ্রাকৃত ঘটনা বিশেষজ্ঞ আর ওয়্যার্ড শিকাগোর ( শিকাগোর বিভিন্ন ভৌতিক আর রহস্যময় জায়গা ঘুরিয়ে দেখায় এই প্রতিষ্ঠানটি) লোকেরাসহ আরও অনেকে বার বরই হানা দিয়েছেন রহস্যময় এই জায়গাটিতে। এমনই এক অভিযানের সময় ক্রিঞ্জ নামের ধারাবাহিকটির একটি পর্ব ধারণ করা হয়।
নড়বড়ে, ভেঙে পড়া সব সমাধি ফলকের মাঝখানে ক্যামেরাগুলো স্থাপন করেন প্রযোজক ট্রয় টেইলরসহ অন্যান্য কর্মীরা। আর এই চিত্রগ্রহণের সময় বেশ কিছু ডিজিটাল ফুটেজ কোনো কারণ ছাড়াই নষ্ট হয়ে যায়। আতংকে অবশ হয়ে যাওয়ার অবস্থা হয় কর্মীদের। কারণ এ ধরনের অভিজ্ঞতা ব্যাচেলর গ্রোভে আসার আগে আর কখনও হয়নি তাদের। পরে এর দ্বিতীয় একটা পর্ব তৈরি করতে গিয়ে ক্যামেরাসহ নানান ধরনের যান্ত্রিক গোলমালের কারণে পুরোপুরি ভেস্তে যায় কাজ।
তবে এই কবরস্থানে লোকেদের সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রাখে সাদা পোশাক পরা এক নারী। অনেক মানুষই তাকে দেখেছেন। একটা সমাধি ফলকের উপরে বসে থাকেন, আর এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন সামনের গাছপালায় ঠাসা জঙ্গুলে জায়গাটির দিকে। শিকাগো সান-টাইমসের জুড়ি ফেলজ ক্যামেরায় বন্দি করেছেন এই রহস্যময় নারীমূর্তিকে। পূর্ণিমার রাতেও মাঝেমাঝে দেখা যায় তাঁকে। সাদা পোশাক পরা নারীটি তখন একটা মৃত নবজাতককে দু-হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে ঘুরে বেড়ান ইতস্তত কবরস্থানের ভিতরে-কেন কেউ জানে না।
১৮৭০-এর দশকে জমিতে লাঙ্গল টানতে থাকা এক লোক কুখ্যাত লেকটার খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন। আর এটাই তার কাল হয়। ঘোড়াটা প্রথম পানিতে পড়ে, সেই সঙ্গে টেনে নিয়ে যায় কৃষক আর লাঙ্গলকেও। কিন্তু ঘটনার একশো বছর পর বনবিভাগের দুজন রেঞ্জার আবার দেখেন ওই কৃষককে, হাল চাষ করছেন আগের মতই। কখনও আবার দেখা যায় দুই মাথাওয়ালা একটা ভূতকে।
আবার নুড়ি বিছানো পথটাতে প্রবেশের আগে গাড়ি চালকদের রাস্তায় একটা তীক্ষ্ণ মোড় নিতে হয়। এসময় কখনও কখনও কোনো কোনো চালক আচমকা প্রচণ্ড বেগে ধেয়ে আসা একটা পাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে যান। ওটাকে দেখে ১৯৪০ মডেলের গ্যাং স্টারদের গাড়ি বলে মনে হয়। তবে আশ্চর্য ব্যাপার গাড়িটার সঙ্গে সংঘর্ষের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পরই আবিষ্কার করেন কেউ আহত হননি, গাড়ির কোনো ক্ষতি হয়নি। এমনকী তীব্র বেগে হামলে পড়া গাড়িটারও কোনো নাম নিশানা নেই।
আবার কেউ-কেউ এমনও দাবি করেছেন এই গোরস্থানে যাওয়ার পর থেকেই দুর্ভাগ্য পিছু নেয় তাদের। এমনটাই ঘটে আমেরিকার ইলিনয়েসের এইডেন নামের এক যুবক আর তার বান্ধবীর ভাগ্যে। অন্তত এইডেনের দাবি তাই। গোরস্থানটা থেকে বের হয়ে আসার পর থেকেই একটার পর একটা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তাদের।
তারিখটা ছিল ২০০৪ সালের অক্টোবরের পনেরো তারিখ। এক হপ্তাহ পরেই এইডেনের জন্মদিন। এমনিতেই অদ্ভুতুড়ে ঘটনার প্রতি বেশ আগ্রহ এইডেনের। তার প্রেমিকারও এটা বেশ ভালই জানা আছে। তাই সে প্রস্তাব করল জন্মদিনের একটি উপহার হিসাবে ব্যাচেলর গোরস্থানে বেড়িয়ে আসবে তারা। পরিকল্পনাটা মনে ধরল এইডেনের। দারুণ উত্তেজিত হয়ে উঠল। উৎসাহের চোটে একটা ডিজিটাল ভয়েস রেকর্ডার কিনে ফেলল। সঙ্গে ডিজিটাল ক্যামেরাটাও নিয়ে নিল। ঠিক মধ্যরাতে, বারোটার দিকে বের হলো তারা বাড়ি থেকে। এইডেনের বাড়ি থেকে গোরস্থানটা দেড় ঘণ্টার রাস্তা। কাছাকাছি পৌঁছে গাড়িটা বন বিভাগের জায়গায় রেখে হাঁটতে শুরু করল তারা। গোরস্থানের কাছাকাছি আসতেই অজানা একটা ভয় আঁকড়ে ধরল দুজনকে। বেশ কয়েকটা ছবি তুলল। তারপরই হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলো। যত দ্রুত সম্ভব কিছু ছবি তুলে নিল, পাছে আবার পরে ছবি তোলা না যায়।
