যখন পুরোপুরি জ্ঞান ফিরল, জানাল প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার সময় ঝোপের মধ্যে মৃদু একটা নড়াচড়া টের পায়। তারপরই মনে হলো কে যেন পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে। তারপর দুর্বলতা আর দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়। সনজুকে চিৎকার করে ডাকবে এমন সময় পিছনে জোরে একটা আঘাত এসে লাগে। তারপরই অজ্ঞান হয়ে যায়। এখনও কাঁধের কাছে ব্যথা পাচ্ছে। পরে অজয়ের শরীরের পিছনে পাঁচ আঙুলের পরিষ্কার ছাপ ফুটে থাকতে দেখে সনজু। রক্ত জমে পুরো জায়গাটা নীল হয়ে ছিল।
এখানে আর অপেক্ষা না করে দ্রুত গেটের দিকে এগুতে লাগল তারা। এসময়ই একজন তরুণের সঙ্গে দেখা হলো। পথ আটকে জানতে চাইল এত রাতে এখানে কী করছে? তারা সঙ্গে সঙ্গে জানাল বুড়ো লোকটা মানে আবু চাচার অনুমতি নিয়েই ভিতরে ঢুকেছে। তারপর কেন এসেছে সেটাও আবার খুলে বলল, আগের মতই। কিন্তু তরুণ জানাল আবু চাচা নামে কাউকে চেনে না। আর গত পাঁচ বছর ধরে সে-ই গোরস্থানটা পাহারা দিয়ে আসছে সে। তবে কিছু লোক তাকে বলেছে গোরস্থানের আশপাশে একজন বুড়ো লোককে দেখা যায় মাঝে-মাঝে, বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে।
রাতে বাংলোয় ফিরতে-ফিরতে সাড়ে তিনটা বেজে গেল। সেখানে বাংলোর কেয়ারটেকারকে ঘটনাটি খুলে বলতেই এই বোকামির জন্য শাপ-শাপন্ত করল তাদের। বলল ভাগ্য ভাল বড় কোনো ক্ষতি ছাড়া ফিরে আসতে পেরেছে। অজয় পরের কয়েকটা দিন খুব জ্বরে ভুগল, অন্যদের সঙ্গে সেদিন ব্যাঙ্গালুরু ছাড়তেও পারল না। তবে এরপর সনজু মনে-মনে প্রতিজ্ঞা করে এমন কাজ আর কখনও করবে না। কয়েক মাস পর অজয়ের সঙ্গে আবার দেখা হলে দেখল আগের সেই বেপরোয়া ভাব আর নেই তার মধ্যে। অনেক শান্ত হয়ে গেছে। আর হাতে একটা তাবিজ বাঁধা তার।
২. গোরস্থানের আগম্ভক
গোরস্থানের আগম্ভক
আমাদের ভাঁড়ারে গোরস্থান নিয়ে যেসব ভৌতিক অভিজ্ঞতা জমা আছে তার আরেকটা শোনাব এখন। এটি বলেছেন আয়ারল্যাণ্ডের এডজিওর্থস টাউনের মি. জি. এইচ. মিলার।
১৮৭৫-এর শীতকাল। পাঁচ মাইল দূরের এক জায়গায় সন্ধ্যাকালীন এক গানের আসর সেরে বাড়ি ফিরছেন মিলার। ঘড়িতে তখন রাত সাড়ে এগারোটা। পথে তাকে যেতে হবে অ্যাবিশরুলের ধ্বংসাবশেষ আর সমাধিক্ষেত্রের ভিতর দিয়ে। পথের দু-পাশেই সমাধি। চাঁদের আলোয় চারপাশ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। এদিকে ঘঘাড়ার জিন আটকানোর বেল্টটা ভেঙে যাওয়ায় প্রাণীটাকে আস্তে-আস্তে হাঁটিয়ে নিচ্ছেন এখন। ধ্বংসাবশেষটা যখন পেরোচ্ছেন তখন লম্বা ওভারকোট গায়ে চাপানো একজন লোককে দেখলেন। সমাধিগুলোর মাঝখান থেকে কিনারার দিকে হেঁটে আসছেন ভদ্রলোক। মিলার আর কয়েক কদম এগুলেই দুজন মুখোমুখি হয়ে যাবেন। কিন্তু তারপরই লোকটা অদৃশ্য হয়ে গেল। আতিপাতি খুঁজেও তার কোনো নাম-নিশানা পেলেন না মিলার।
একটু পরেই একজন লোককে পাশ কাটালেন, যিনি তাঁর অনেক আগেই সন্ধ্যার অনুষ্ঠান থেকে বের হয়েছেন। ভদ্রলোকের ততা আরও এগিয়ে থাকার কথা, অবাক হয়ে ভাবলেন মিলার। কথাটা জিজ্ঞেস করতেই জানালেন, পুরানো গোরস্থানটা এড়াতে অনেক ঘুরপথে এসেছেন। কারণ তিনি চাননি সন্ন্যাসীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়ে যাক। তারপর ব্যাখ্যা করে বললেন এই গোরস্থানে মাঝে মাঝেই এক সন্ন্যাসীর ভূতকে দেখা যায়। মিলারের মনে আর সন্দেহ রইল না সন্ন্যাসীর ভূতকেই দেখেছেন তিনি।
৩. শেষ ঠিকানায়
শেষ ঠিকানায়
এবারের অভিজ্ঞতাটি রেভারেণ্ড হেনরি মর্টনের। আয়ারল্যাণ্ডের একটি গির্জার যাজক তখন তিনি। গির্জার লাগোয়া একটা পুরানো সমাধিক্ষেত্রও আছে। এক চাঁদনী রাতে একজন অসুস্থ মানুষকে দেখতে যেতে হল রেভারেণ্ড মর্টনকে। সঙ্গে তার ভাইও আছেন, যিনি আবার একজন চিকিৎসক। অসুস্থ লোকটিকে দেখে বাড়ি ফেরার সময় গির্জার সমাধিগুলোর ভিতর দিয়ে যেতে হলো তাঁদের। কথা বলতে-বলতে হাঁটছেন দুজন। এমন সময় তাঁদের বিস্মিত দৃষ্টির সামনে একটি কাঠামো অতিক্রম করে গেল, দুজনেই দেখলেন একে। তারপরই রাস্তা ছেড়ে সমাধি ফলকগুলোর ভিতরে ঢুকে পড়ল লোকটা, আর একটা জায়গায় অদৃশ্য হয়ে গেল।
অদ্ভুত ঘটনাটা রীতিমত চিন্তায় ফেলে দিল তাদের। আগামাথা কিছু বুঝতে না পেরে যেখানে লোকটি অদৃশ্য হয়েছে। সেদিকে এগিয়ে গেলেন। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ ভালমত খুঁজেও কাউকে পেলেন না। পরের দিন সকালে তারা জানতে পারলেন গত রাতে যে অসুস্থ লোকটিকে দেখতে গিয়েছিলেন তারা চলে আসার পরপরই তিনি মারা যান। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো লোকটিকে সমাধিস্থ করা হয়েছে ঠিক সে জায়গায়, যেখানে সেই রহস্যময় কাঠামোটিকে অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখেছেন।
৪. ভুতুড়ে নারী
ভুতুড়ে নারী
আয়ারল্যাণ্ডের লিমেরিকের একসময়কার আর্চডিকন ভেন, জে.এ. হেইডেন তার এই অভিজ্ঞতাটি বর্ণনা করেন। ১৮৭০ সালে তিনি ছিলেন অজপাড়াগাঁয়ের এক গির্জা চ্যাপেল রাসেলের যাজক। ঘটনাটা তখনকারই।
শরতের এক বৃষ্টিঝরা দিন। লাগামহীনভাবে, বেশ বড় বড় ফোটায় বৃষ্টি পড়ছে। সকাল কি রাত এটাও বোঝা মুশকিল। দিনটা বিষণ্ণ, মেঘলা। তারপর আবার বেশ কিছু সময় পড়ালেখা করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন হেইডেন। ঠিক করলেন এই বৃষ্টির মধ্যেই হেঁটে আধ মাইল টাক দূরের গির্জায় যাবেন। ওখানে আধ ঘণ্টা হারমোনিয়াম বাজিয়ে ফিরে এসে চা খাবেন।
