এখনো জানি না। মহাজাগতিক প্রাণীর সাথে কথা বলার জন্য আমি যে কোডটা তৈরি করেছি এটা সেই কোডের মানবিক অনুবাদ।
মানে?
মানুষেরা যখন একজন আরেকজনের সাথে কথা বলে তার একটা পদ্ধতি আছে। যে তাষাতেই কথা বলি না কেন তার মূল ব্যাপারটা এক। আমাদের যোগাযোগ মাধ্যমটুকু হচ্ছে আমাদের বুদ্ধিমত্তা, আমাদের অনুভূতি। কিন্তু এই মহাজাগতিক প্রাণী হচ্ছে অন্যরকম। তারা আমাদের মতো ভাবে না, তাদের যদি অনুভূতি থাকেও সেটা অন্যরকম।
ক্যাপ্টেন মারুফ মাথা নেড়ে বলল, আমি বুঝতে পারলাম না।
যেমন মনে করুন আমি আপনার সাথে কথা বলছি–কথা বলতে গিয়ে আমি এমন কিছু বলে ফেলতে পারি যেটা শুনে আপনি আমার ওপর খুব রেগে উঠতে পারেন। পারেন না?
হ্যাঁ পারি।
কিন্তু ধরা যাক আপনার মস্তিষ্ক অপারেশন করে এমনভাবে আপনাকে পাল্টে দেওয়া হল যে আপনার ভিতরে রাগের অনুভূতিটুকু নেই। তখন কী হবে? আপনাকে আমি যাচ্ছেতাইভাবে অপমান করতে পারি, আপনি কিছুই মনে করবেন না!
ক্যাপ্টেন মারুফ মাথা নাড়ল, বলল, বুঝেছি। তবে কোনো মানুষের রাগ নেই সেটা চিন্তা করা খুব কঠিন, বিশেষ করে আমার পক্ষে!
শুধু রাগ নয়, ধরে নিন তার শুধু যে রাগ নেই তা নয়, তার দুঃখও নেই, আনন্দও নেই, ভালবাসাও নেই, ঘৃণাও নেই, হিংসাও নেই।
তা হলে আছে কী?
মনে করুন তার আছে কোয়াজি ফিলিং।
কোয়াজি ফিলিং সেটা আবার কী?
জানি না। রিয়াজ মাথা নেড়ে বলল, ধরে নেন এমন একটা অনুভূতি যেটা আমাদের নেই, তাই আমরা সেটা বুঝতেও পারি না, কল্পনাও করতে পারি না।
যেটা আপনি জানেন না, যেটা কল্পনা করতে পারেন না সেটা কীভাবে ধরে নেব?
এটাই আমার কোড। এটা যোগাযোগ শুরু করে কিছু তথ্য আদানপ্রদান করে, যেখান থেকে যোগাযোগ করার মতো একটা পর্যায়ে পৌঁছানো যায়। এটা মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ নয়। চতুর্থ পর্যায়ের বুদ্ধিমত্তার সাথে পঞ্চম পর্যায়ের বুদ্ধিমত্তার যোগাযোগ।।
নিশীতা এগিয়ে এসে বলল, কিন্তু আপনার যোগাযোগ শুরু করতে তো খুব বেশি সময় নেবে না। তাই না?
না। কারণ ব্যাটা ফ্রেড লিস্টার এই কাজটুকু করে রেখেছে। তাই আমরা এর মাঝে কথা শুনতে শুরু করেছি। এই যে শোন
রিয়াজ এমপ্লিফায়ারের ভলিউম বাড়িয়ে দিতেই সবাই এক ধরনের যান্ত্রিক কথা শুনতে পেল, বিনিময় মূল বিষয় বিনিময় নিষিদ্ধ যোগাযোগ কেন্দ্রীয় বুদ্ধিমত্তা পারস্পরিক বিনিময় মূল শক্তি কেন্দ্রীয় ক্ষমতা শক্তি অপশক্তি
নিশীতা মাথা নেড়ে বলল, কী বলছে কিছুই বুঝতে পারছি না।
এটা ফ্রেন্ড লিস্টারের কথা।
ফ্রেড লিস্টারের কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? কীলছে আবোলতাবোল?
আসলে সে আবোলতাবোল বলছে না। তার কথা এই মহাজাগতিক প্রাণীর জন্য কোডিং হয়ে যাবার পর আবার আমাদের ভাষায় অনুবাদ করার সময় এ রকম হয়ে যাচ্ছে। রিয়াজ মুখে হাসি এনে বলল, আউট অফ সাইট আউট অফ মাইন্ড–একটা কথা আছে না?
হ্যাঁ, আছে। কী হয়েছে সেই কথার?
সেটাকে একবার রাশিয়ান ভাষায় অনুবাদ করে আবার ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছিল। অনুবাদটি কী হয়েছিল জান?
কী?
ব্লাইন্ড ইডিয়ট। অন্ধ গর্দভ! অন্ধকারে রিয়াজ নিচু স্বরে হাসল, এই ভয়ংকর বিপজ্জনক পরিবেশে সে নিজের ভিতরে এক ধরনের উত্তেজনা অনুভব করছে, তাই প্রয়োজন থেকে বেশি কথা বলছে সে। যন্ত্রপাতির ওপর ঝুঁকে পড়ে বলল, এখানেও এই ব্যাপার, ফ্রেন্ড লিস্টারের কথা মহাজাগতিক প্রাণীর জন্য কোডিং এবং আনকোডিং করার পর এ রকম জট পাকানো আবোলতাবোল হয়ে যাচ্ছে।
কিছুই তো বোঝা যাচ্ছে না কী বলছে।
কে বলছে বোঝা যাচ্ছে না? শোন আবার
তারা শুনল, বুদ্ধিমত্তা তৃতীয় চতুর্থ পঞ্চম যোগাযোগ কেন্দ্রীয় পারস্পরিক বিনিময় মূল শক্তি বিনিময় ক্ষমতা যোগাযোগ নিষিদ্ধ বিনিময়, পারস্পরিক পাঁচ দুই পাঁচ ছয় তিন সাত পাঁচ ছয় সাত আট…
ক্যাপ্টেন মারুফ মাথা নাড়ল, বলল, আমি কিছু বুঝতে পারছি না।
সংখ্যাগুলো হচ্ছে পাইয়ের মান–দশমিকের পর দশ হাজার পর্যন্ত। যোগাযোগ করার জন্য এটা ব্যবহার করতে হয়। ফ্রেন্ড লিস্টারের কথায় একটু পরে পরে বলছে বিনিময় পারস্পরিক যোগায়োগ শুনতে পাচ্ছ না?
হ্যাঁ।
তার মানে সে পারস্পরিক বিনিময় করার চেষ্টা করছে। সে কিছু একটা দেবে তার বদলে সে কিছু একটা চায়।
কী দেবে সে?
জানি না।
নিশীতা মনোযোগ দিয়ে স্পিকারের কথাগুলো শুনতে শুনতে বলল, এগুলো যদি ফ্রেড লিস্টারের কথা হয় তা হলে মহাজাগতিক প্রাণীর কথা কোনগুলো?
এখনো শুনতে পাচ্ছি না। আমাকে টিউন করতে হতে পারে।
রিয়াজ তার যন্ত্রপাতি টিউন করতে করতে হঠাৎ চমকে সোজা হয়ে বলল, এই যে শোন।
তারা সবাই শুনল, ভাঙা যান্ত্রিক গলায় কেউ একজন বলছে, নিচু ক্ষুদ্র দুর্বল কম নিচু ক্ষুদ্র ছোট অল্প কম ক্ষুদ্র অকিঞ্চিৎকর।
কী হল? নিশীতা চোখ বড় বড় করে বলল, গালাগাল করছে নাকি আমাদের?
সেরকমই মনে হচ্ছে। রিয়াজ হাসার মতো ভঙ্গি করে বলল, আমাদের ফ্রেড লিস্টারের চরিত্রটি ধরে ফেলেছে মনে হচ্ছে।
ফ্রেড লিস্টার আবার বলল, বিনিময় পারস্পরিক বিনিময়।
মহাজাগতিক প্রাণী উত্তর করল, অসম দুর্বল ক্ষুদ্র।
বিনিময় বিনিময় প্রযুক্তি বিনিময়।
দুর্বল ক্ষুদ্র।
বিনিময় শিশু মানব শিশু বিনিময় আমন্ত্রণ মানব শিশু।
