টুকি এবং ঝা মৃদু হেসে ক্ষমা করে দেবার ভঙ্গী করল।
জেনারেল কাওয়াগাতা গম্ভীর মুখে বলল, বিজ্ঞানী রিচি এবং ফ্রাউলের কাছে থেকে আমাদের পুরো যুদ্ধ পরিচালনার নিয়ম-কানুন শিখে নিতে হবে।
দলপতি হঠাৎ সোজা হয়ে বসে বলল, আমার মাথায় একটা আইডিয়া এসেছে।
সবই দলপতির দিকে ঘুরে তাকাল কী আইডিয়া?
আমাদের য়ুতে মাত্র দুইজন অস্ত্রবিজ্ঞানী রিচি এবং ফ্ৰাউল থাকার কারণেই অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। বিদ্রোহী দল হিসেবে আমাদের সবসময় যুদ্ধ করতে হয়। যদি দুজন না হয়ে দুইশ অস্ত্রবিজ্ঞানী হত? কিংবা দুই হাজার? কিংবা আরো বেশি?
বুড়োমত জেনারেল চোখ বড় বড় করে বলল, আপনি কী বলতে চাইছেন?
আমি এই বিজ্ঞানী রিচি এবং ফ্রাউলের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে তাদের বিদ্যাবুদ্ধি দক্ষতা আমাদের সকল সদস্যদের মাথায় বসিয়ে দিতে চাই। তারা সবাই যেন বিজ্ঞানী রিচি এবং ফ্রাউলের মত ভাবতে পারে, চিন্তা করতে পারে।
উপস্থিত জেনারেলরা টেবিলে থাবা দিয়ে বলল, চমক্কার বুদ্ধি! চমৎকার আইডিয়া!!
টুকি এবং ঝায়ের চোয়াল স্কুলে পড়ল, খানিকক্ষণ চেষ্টা করে বলল, সবাই আমাদের দুজনের মত হয়ে যাবে?
হ্যাঁ! আমরা গত যুদ্ধে মস্তিষ্ক স্ক্যানের এই যন্ত্রটি দখল করেছি। এটা ব্যবহার করে একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, বুদ্ধি আরেকজন মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। আপনাদের জ্ঞান বুদ্ধি চিন্তাধারা ব্যক্তিত্ব সব আরেকজনের মাথায় নিয়ে যাব। যারা শুকনো পাতলা তারা পাবে বিজ্ঞানী রিচির মস্তিষ্ক যারা মোটা তারা পাবে বিজ্ঞানী ফ্রাউলের মস্তিষ্ক।
টুকি এবং ঝা খানিকক্ষণ হা করে তাকিয়ে থেকে বিড় বিড় করে বলল, সবাই?
হ্যাঁ! আমি ছাড়া সবাই। প্রথমে জেনারেলেরা তারপর সিনিয়র সদস্যরা। তারপর সাধারণ সদস্যরা। দেরী করে লাভ নেই, এখন থেকেই শুরু করে দেয়া যাক।
দুই সপ্তাহ পরে যখন টুকি এবং ঝা তাদের মহাকাশযান বোঝাই করে এই গ্রহের প্রস্তর খণ্ড নিয়ে—যাকে সাধারণভাবে হীরা বলা হয়—মহাকাশের উদ্দেশ্যে। রওনা দিল তখন বিদায় জানানোর জন্যে মহাকাশ স্টেশনে এই গ্রহের প্রায় সবাই এসে ভীড় জমিয়েছিল। ঠিক বিদায়ের সময় এই গ্রহের সব অধিবাসীরা কেন মুচকি হেসে টুকি এবং ঝায়ের দিকে চোখ টিপে দিল বিদ্রোহী দলের দলপতি সেটা কিছুতেই বুঝতে পারল না। শুধু তাই নয়, যে দুর্ধর্ষ দলটিকে পুরো এম। সেভেন্টিওয়ান নক্ষত্রপুঞ্জের ত্রাস হিসেবে বিবেচনা করা হত তারা ঠিক কী কারণে যুদ্ধ বিগ্রহ ছেড়ে দিয়ে নিরীহ ছিচকে চোর হয়ে গেল, বিদ্রোহী দলের দলপতি সেই রহস্যটিও কোনদিন ভেদ করতে পারল না।
০৫. মহাকাশযানটির কন্ট্রোল প্যানেলে বসে
মহাকাশযানটির কন্ট্রোল প্যানেলে বসে টুকি খুব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সেটি পরীক্ষা করছে। কাছাকাছি মেঝেতে পা ছড়িয়ে খেতে বসেছে ঝা—যন্ত্রপাতিতে তার কোন উৎসাহ নেই। আরো খানিকটা দূরে রোবি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, টুকি খানিকক্ষণ কিছু একটা লক্ষ্য করে অধৈর্য হয়ে হাত নেড়ে বলল, এর মাথামুও কিছু বুঝতে পারছি না।
রোবি বলল, এটি কোন জীবিত জিনিস নয়—এর মাথামুণ্ডু নেই কাজেই এটা বুঝতে পারছ না।
টুকি চোখ পাকিয়ে রোবির দিকে তাকিয়ে বলল, দূর হও হতভাগা।
রোবি দূর হওয়ার কোন চিহ্ন দেখাল না বরং আরো এক পা এগিয়ে এসে বলল, মানুষ যখন নির্বোধের মত কাজ করে তখন আমার দেখতে বড় ভাল লাগে।
আমি কোন জিনিসটা নির্বোধের মত করছি?
এই যে মহাকাশযান চালানোর কোন কিছু না জেনে আপনি এটা চালানোর চেষ্টা করছেন! ভুল জায়গায় টেপাটেপি করছেন।
টুকি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রোবির দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, তুমি মহাকাশযান চালানো জান?
জানি। এটাকে কেমন করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে নেওয়া যায় তুমি জান? অবশ্যি জানি।
তাহলে ব্যাটা বদমাইশ আমি এতদিন থেকে এটাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি, আমাকে একবার সাহায্য করতে এলে না কেন?
আমাকে বলেন নাই, তাই আসি নাই।
টুকি খানিকক্ষণ অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে রোবির দিকে তাকিয়ে থেকে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, ঠিক আছে। এখন আমি বলছি, আমাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাও।
রোবি কন্ট্রোল প্যানেলের সামনে দাঁড়িয়ে খানিকক্ষণ কিছু যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করে বলল, এখান থেকে পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার দুটি উপায় আছে। একটা বড় হাইপার ডাইভ কিংবা দুটি ছোট হাইপার ডাইভ। বড় হাইপার ডাইভ দেয়ার সমস্যা একটিই–মহাকাশানে যথেষ্ট জালানী নেই। ছোট দুটি হাইপার ডাইভ দেওয়া যেতে পারে তবে সেটারও একটা সমস্যা আছে।
কী সমস্যা?
প্রথমে মহাকাশযানের বেগ বড়াতে হবে, সেজন্যে কাছাছি একটা বড় গ্রহ বা নক্ষত্র দরকার। কাছাকাছি সেরকম কিছু নেই। মহাকাশযানের ট্র্যাজেক্টরীও পাল্টাতে পারব না, জ্বালানী নষ্ট হবে। যদি এভাবে যেতে থাকি চার সপ্তাহের মাঝে একটা মাঝারী গোছের নক্ষত্র পাওয়া যাবে, সেটাকে ব্যবহার করে হাইপার ডাইভ দেওয়া যাবে।
টুকি অধৈর্য হয়ে বলল, কিন্তু সমস্যাটা কী?
ঐ যে বললাম, চার সপ্তাহ যেতে হবে। আপনারা যেভাবে তিনবেলা খাচ্ছেন খাবার কম পড়ে যাবে।
ঝা চোখ লাল করে বলল, সেটাই সমস্যা?
সেটাই মূল সমস্যা। আরো কিছু ছোট সমস্যা আছে। মহাকাশযানটা যে পথ দিয়ে যাবে সেখানে আশেপাশে বেশ কিছু গ্রহ উপগ্রহ আছে, সেখানে মানুষ। আর রবোটের বসতি। তারা সেরকম বন্ধুভাবাপন্ন নয়।
